সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:২২ পি.এম
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আহসান হাবিবকে একই বিভাগের সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় তাকে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। অবসরে যাওয়ার আগে আহসান হাবিব তার নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোষণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ওই সরকারের জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না এবং তারা পশ্চিমবঙ্গকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করেছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আগের সরকার রাজ্যের জন্য আলাদা গান রচনা করেছিল, আলাদা পতাকা ডিজাইন করেছিল এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান গ্রহণ করেছিল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) একটি বিজেপি দলীয় কার্যালয়ের ‘ভূমিপূজন’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শুভেন্দু বলেন, “বাংলার পূর্ববর্তী সরকারের জাতীয়তাবাদ নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না। তারা তোষণ রাজনীতিতে লিপ্ত ছিল এবং এই রাজ্যকে বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত করার ছক কষেছিল।”
“সেই কারণেই তারা রাজ্যের জন্য আলাদা গান তৈরি করেছিল, আলাদা পতাকা নকশা করেছিল এবং বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি আপন করে নিয়েছিল,” তিনি আরও যোগ করেন।
এ সময় শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ জনগণের প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি কক্রোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং ‘দিমাগি নকশাল’ ও ‘টুকড়ে টুকড়ে’ গ্যাং হিসেবে উল্লেখ করে অশালীন মন্তব্য করেন।
সিজেপিকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশে দাঁড়ান; এই ‘দিমাগি নকশাল’, ‘টুকড়ে টুকড়ে’ গ্যাং আর আরশোলাদের বংশবৃদ্ধি করতে দেবেন না।” এর আগের দিন তিনি প্রতিপক্ষ দলের প্রভাবকে তেলাপোকা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবমাননার অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বামপন্থী দলগুলো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনকালের কঠোর সমালোচনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মন্তব্য করেছেন যে কৃষকদের সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে, পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
তিনি পঞ্চগড়ে দুই টাকার লাউ ঢাকায় ৬০ টাকায় বিক্রির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, "কৃষক কেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন না?"
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থিত তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আকরাম হোসাইন, জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহদী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য দিদার শাহসহ অন্যান্য নেতারা।
আখতার হোসেন বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একজন নেতাকে কেন্দ্র করে অন্য জাতীয় নেতাদের অবদান আড়াল করা হয়েছিল।" তিনি বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নেতাদের যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। নতুন প্রজন্মের সামনে জাতীয় নেতাদের জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও অবদান তুলে ধরার জন্য পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে আলোচনা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
শেরে বাংলার কৃষকবান্ধব রাজনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন কাজ করেছেন। সাম্প্রদায়িক বিভেদ উপেক্ষা করে হিন্দু-মুসলমান কৃষকদের ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। শেরে বাংলার আদর্শ অনুসরণ করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান আখতার হোসেন।
দেশের কৃষকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "উত্তরাঞ্চলে সার সংকট, ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের সংকট বাড়ছে।"
পঞ্চগড়ে দুই টাকার লাউ ঢাকায় ৬০ টাকায় বিক্রির উদাহরণ দিয়ে তিনি পুনরায় প্রশ্ন তোলেন, "কৃষক কেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন না?"
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করা, হিমাগার ও শস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, কৃষিঋণে সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণ এবং সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
শেরে বাংলার কৃষকবান্ধব আদর্শ দেশের সব রাজনৈতিক দলের অনুসরণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন আখতার হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল উপস্থাপনের পরিবর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেওয়া পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ ঘটায়।
সোমবার তিনি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘ক্রসফায়ার ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কি কোনো কার্যকর কৌশল পুলিশের জানা নেই? অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করাই একটি পেশাদার পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা ও প্রশাসনিক কৌশল যদি পুলিশ প্রধানের না থাকে, তবে তার এই পদে বহাল থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ দায়িত্ব এমন দক্ষ ব্যক্তির হাতে দেওয়া উচিত, যিনি আইনসম্মত ও কার্যকর উপায়ে পরিস্থিতির ইতিবাচক উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, অতীতে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি দেশে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যথেচ্ছ অপব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করেছিল। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার পরেও পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে পুনরায় একই ধরনের বক্তব্য আসা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণ কোনো ফ্যাসিবাদী পুলিশি রাষ্ট্র দেখতে চায় না; বরং আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে।
খেলাফত মজলিসের এই নেতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘সরকার অনুমোদন দিলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কখনো বৈধতা পায় না। অপরাধ দমনে পুলিশকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে, তবে সেই কঠোরতা নিশ্চিত করতে হবে আইনের সুনির্দিষ্ট কাঠামোর ভেতরে থেকেই। আমরা অবিলম্বে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছি।’
ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শনের সংস্কৃতি পরিহার করে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সোমবারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। আইজিপি বলেছেন, "যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে তাহলে আমরা সেটাই করব।"
দলটির সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আইজিপির এই বক্তব্য চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে এবং এটি সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। "আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশের। পুলিশ নাগরিকদের সেবক, শাসক নয়। আইজিপি ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেছেন।
জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে নাগরিকদের হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুম করা হতো। আইজিপি আলী হোসেন ফকির তার বক্তব্যের মাধ্যমে সেই একই কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির হুমকি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মধ্যে আইজিপির এমন বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত। তার বক্তব্য দেশে ভয়ের সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেয় এবং রাষ্ট্রকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্তের নকশা। সরকারের এবং সরকার দলীয় বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, দেশে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন করতে না পারা, চাঁদাবাজি বন্ধ ও মাদক নির্মূল করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ