মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৩ এম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের সমাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ১১৫ ডলার ১৫ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৩২ সেন্টে নেমে এসেছে।
তবে দাম হ্রাস পেলেও সৌদি আরবে হামলার ঘটনার পর ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য গত ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের একটি কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানো এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সৌদি আরব জানিয়েছে, সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নেওয়া চারটি দেশই আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারের উদ্বেগ আরও কমতে পারে। তবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি, গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে তার ক্ষমতা কতটা থাকবে, তা নির্ধারণে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচনে দেশটির প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন। যদিও ট্রাম্পের নাম ব্যালটে নেই, তবুও নির্বাচনের ফল তার প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও নীতিনির্ধারণের ক্ষমতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কংগ্রেসের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা। কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। বর্তমানে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টি রয়েছে। যদি কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো হয়, তাহলে ট্রাম্পের প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টি তার সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর সুযোগ পাবে।
এবার প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বিশেষ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে দেওয়া আসন পূরণে এই নির্বাচন হচ্ছে। এছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটও এ সময় হয়। ফলে জাতীয় রাজনীতির বাইরেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এ নির্বাচনের প্রভাব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক টড বেল্টের মতে, ১৯৪৬ সাল থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬ দশমিক ৫টি আসন হারিয়েছে। সিনেটেও সাধারণত কয়েকটি আসন হারিয়েছে তারা।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারবিষয়ক অধ্যাপক নাদিয়া ব্রাউন মন্তব্য করেন, জাতীয় নির্বাচন বেশি মনোযোগ পেলেও অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন স্থানীয় পর্যায়ে।
তিনি বলেন, "ব্যালটে থাকা স্থানীয় প্রস্তাব ও গণভোটের সিদ্ধান্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।"
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এবারের নির্বাচনে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে তিনটি এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চারটি আসন বাড়াতে হবে। সিনেটে দুই দলের আসন সমান ৫০-৫০ হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সিদ্ধান্তমূলক ভোটের কারণে নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতেই থাকবে।
অধ্যাপক টড বেল্টের মতে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ নীতির বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, "ডেমোক্র্যাটরা একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নয়—এমন সব ব্যয়সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কাজ কার্যত থমকে যাবে।"
প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ সদস্যের প্রত্যেকে একটি করে নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের মেয়াদ দুই বছর। তাই প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনেই নির্বাচন হয়। প্রতি ১০ বছর পরপর পরিচালিত জনশুমারির ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যা অনুযায়ী আসন বণ্টন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিনিধি পরিষদের আসন ৫২টি। অন্যদিকে ওয়াইওমিং ও ভারমন্টের মতো কম জনসংখ্যার অঙ্গরাজ্যে আসন মাত্র একটি করে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন পেতে হয়।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। একজন স্বতন্ত্র সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি আসন শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একটি আসনে আগে রিপাবলিকান এবং অন্যটিতে ডেমোক্র্যাট সদস্য ছিলেন। নতুন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি শপথ নেবেন।
প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানের কয়েকটি আসনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অধ্যাপক বেল্টের ধারণা, প্রায় ৩৫টি আসনের ফলাফল দুই দলের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে দিতে পারে।
তার অনুমান, ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ১৫টি আসন বাড়াতে পারে। তবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত ৯টি আসনে সুবিধা পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বেল্ট বলেন, সাধারণত ভোটাররা একই দলের প্রার্থীদের ভোট দেন। ফলে জাতীয় পর্যায়ের দলীয় সমর্থনের প্রভাব স্থানীয় ও অন্যান্য পদের নির্বাচনেও পড়তে পারে। যেসব নির্বাচনী এলাকায় দুই দলেরই জয়ের বাস্তব সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন বলা হয়।
সিনেট যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ। এর ১০০ সদস্যের প্রত্যেক অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে নির্বাচিত হন। অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যা এখানে আসনসংখ্যা নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখে না। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পরপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।
এবার নিয়মিত নির্বাচনে সিনেটের ৩৩টি আসনে ভোট হবে। এর সঙ্গে ফ্লোরিডা ও ওহাইওর বিশেষ নির্বাচন মিলিয়ে মোট ৩৫টি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এই দুই বিশেষ নির্বাচনে মার্কো রুবিও ও জেডি ভ্যান্সের আগে থাকা মেয়াদের বাকি দুই বছরের জন্য সিনেটর নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাওয়া ৩৫টি আসনের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে ২২টি এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ১৩টি রয়েছে। সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের সদস্য ৫৩ জন। ডেমোক্র্যাটদের সদস্য ৪৫ জন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকা জোটের মোট সদস্য ৪৭ জন।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ৫০টি আসন ধরে রাখতে পারলেও ভাইস প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তমূলক ভোটের কারণে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন। নতুন সিনেটও ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি শপথ নেবে।
সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর মধ্যে জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের সঙ্গে রিপাবলিকান মাইক কলিন্সের লড়াই রয়েছে। মিশিগানে শূন্য আসনের জন্য ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারে শূন্য আসনে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস ও রিপাবলিকান জন সুনুনু।
রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি আসনেও ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সুযোগ রয়েছে। মেইনে সিনেটর সুসান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন। প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী গ্রাহাম প্ল্যাটনার জুলাইয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার পর জ্যাকসন এই লড়াইয়ে এসেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় শূন্য আসনের জন্য ডেমোক্র্যাট রয় কুপার ও রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ ছাড়া ওহাইও, আলাস্কা ও আইওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে টেক্সাস ও কানসাসের আসনগুলো নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের আগ্রহ বেড়েছে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথ ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের সংখ্যা বাড়ায় সিনেটে জয় পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় জীবনযাত্রার ব্যয়। জ্বালানির দাম, আবাসন ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছে পরিবারগুলোর বাজেট। প্রজনন অধিকার, অভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
এর পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ও তথ্যকেন্দ্রের দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয় জাতীয় নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জ্বালানির ব্যয়ের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি। সরকারি তথ্য সংকলনকারী নির্দলীয় সংস্থা ইউএসএফ্যাক্টসের হিসাবে, দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি বাসিন্দাদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত।
নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যায় এগিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া। অঙ্গরাজ্যটিতে ভোটার ২ কোটি ৩২ লাখ। এরপর টেক্সাসে ১ কোটি ৭৪ লাখ এবং ফ্লোরিডায় ১ কোটি ৩৬ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। এই তিন অঙ্গরাজ্যের ভোটার মিলিয়ে দেশটির মোট নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় ২৬ শতাংশ।
অন্যদিকে ওয়াইওমিংয়ে নিবন্ধিত ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬৮, ভারমন্টে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৫ এবং আলাস্কায় ৬ লাখ ৩ হাজার ৩১০ জন। এই তিন অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে কম।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন করছেন ৪৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন ৩৬ শতাংশ। অন্য প্রার্থীকে সমর্থন করছেন ৫ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
পুরুষ ভোটারদের মধ্যে দুই দলের সমর্থন সমান। তাদের ৪২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩১ শতাংশ।
লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয়, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও ভোটারদের পছন্দে পার্থক্য রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি কম থাকে। ১৯৪৪ সাল থেকে হিসাব করলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে গড় ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৪২ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই হার প্রায় ৫৮ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে তার প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করার সুযোগ পাবেন। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষমতাও প্রতিনিধি পরিষদের রয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটরা প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। কোনো বিল আইনে পরিণত হতে হলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেট এককভাবে আইন পাস করতে পারবে না।
অধ্যাপক বেল্টের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ে দুই দলের সংঘাত বাড়বে। সরকারি সংস্থাগুলোর অর্থায়নের জন্য প্রতিবছর ১২টি বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়। এসব বিল নিয়ে সমঝোতা না হলে সরকারের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন অনেক সরকারি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কংগ্রেসে বিরোধিতার মুখে পড়লে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে আরো বেশি মনোযোগ দিতে পারেন বলেও মনে করেন বেল্ট। তার ভাষায়, ঐতিহ্যগতভাবে প্রেসিডেন্টরা মেয়াদের শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে পররাষ্ট্রনীতির দিকে বেশি ঝুঁকেন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তারা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগও প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও রাষ্ট্রদূত।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তাই শুধু আগামী দুই বছরের জন্য নয়, এর বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারকেরা আজীবন দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিচারিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদ কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের প্রস্তাব অনুমোদন করলে সিনেটে তার বিচার হয়। তবে প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। দুই দলের কারো পক্ষেই এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সহজ হবে না।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও পুরোপুরি নিজেদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। কারণ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কোনো বিলে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন।
এ ছাড়া সিনেটে অধিকাংশ আইন নিয়ে বিতর্ক শেষ করে ভোটে যাওয়ার জন্য সাধারণত ৬০টি ভোট দরকার হয়। কিছু বাজেট বিল অবশ্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করা যায়। ফলে দুই কক্ষে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই কোনো দলের সব নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয় না।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আবার অভিশংসনপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। এর আগে দুবার অভিশংসিত হয়েছেন ট্রাম্প। তবে অধ্যাপক বেল্ট মনে করেন, নতুন করে অভিশংসনের সম্ভাবনা কম।
তার মতে, তদন্ত অবশ্যই হবে, কিন্তু আগের দুইবারের মতো এবারও রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
৩ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে প্রথম ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর ফল আসতে শুরু করবে। গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী তখন রাত ১১টা। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কিছু আসনের ফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিনও লাগতে পারে।
নির্বাচনের রাতে প্রকাশিত ফল প্রাথমিক হিসাব। ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট, সাময়িক ব্যালট এবং গণনার বাকি থাকা অন্যান্য ভোট যাচাই করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে কয়েক দিন, কখনো কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। কোন অঙ্গরাজ্যে কত দ্রুত গণনা হবে, তার ওপর সময় নির্ভর করে।
অধ্যাপক বেল্টের মতে, কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে ফল চূড়ান্ত হতে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
জর্জিয়ায় সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে ১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে।
নির্বাচনের শুরুতে প্রকাশিত ফল দেখে চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বেল্ট। ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দিতে বেশি আগ্রহী। ফলে কিছু অঙ্গরাজ্যে প্রথম দিকে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এগিয়ে থাকতে পারেন। পরে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা হলে ব্যবধান কমে যেতে পারে, এমনকি এগিয়ে থাকা প্রার্থীও বদলে যেতে পারেন। এ পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘রেড মিরাজ’। যেসব অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট আগে গণনা করা হয়, সেখানে এর বিপরীত চিত্রও দেখা যেতে পারে।
গণনায় দেরি হওয়া কিংবা কোনো প্রার্থীর এগিয়ে থাকার অবস্থান বদলে যাওয়া নিজে থেকেই নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ নয়।
সব মিলিয়ে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রণয়ন, প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের ওপর নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি সময়ের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যও নির্ধারিত হবে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকের আল-ফাও উপকূলের ৬৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে, জাহাজের নাবিকদের অবস্থা, ক্ষতির পরিমাণ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ইউকেএমটিও এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তারা জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পায়। তবে, জাহাজটির নাম, আগুন লাগার কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে বদলি করা হয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের নয় কর্মকর্তাকে। তাদেরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাদের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, সহযোগী অধ্যাপক (পদার্থবিদ্যা) ড. মোহাম্মদ কামরুল হক ভূঞাকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক (গণিত) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে এবং সহযোগী অধ্যাপক (শিক্ষা) মো. আহসানুল আরেফিন চৌধুরীকে যশোর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, সহযোগী অধ্যাপক (ইসলামিক আদর্শ) ড. মো. আবু হানিফকে রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং অধ্যাপক (ইতিহাস) রেজাউল করিমকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী অধ্যাপক (প্রাণীবিদ্যা) মো. মনির হোসেন মজুমদার ও সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) আফসানা আইয়ূবকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে এবং সহকারী অধ্যাপক (সমাজকল্যাণ/সমাজকর্ম) মাহমুদ বিন আমিনকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সহকারী অধ্যাপক (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) এম এম আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলেও ২৯ অক্টোবর অপরাহ্ণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। তাঁদের নিজ নিজ পারসোনাল ডাটা শিটে (পিডিএস) লগইন করে অবমুক্তি ও যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসান থেকে লাভজনক খাতে রূপান্তর এবং লেভেল ক্রসিংয়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করেছে।
কমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগের সুপারিশ করেছে এবং আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
বৈঠকে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত সকালে কমিউটার ট্রেন চালু করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আজ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো এবং মুহাম্মদ আজীজুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
আজকের বৈঠকে প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয় এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কন্টেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহনও চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকটের কারণে উক্ত মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য গৃহীত প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া পূর্বে অনুমোদিত ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২০২৯ সালে মোট ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হলে কন্টেইনার, জ্বালানি এবং খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বব্যাংকের গ্রীন রেলওয়ে প্রকল্পের অধীনে ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বর্তমানে মোংলা বন্দর থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ এবং জয়পুরহাটে সীমিত পরিসরে মোলাসেস পরিবহন করা হচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে মোংলা থেকে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা নেই।
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে ৯৫/৯৬ নম্বর ট্রেনটি মোংলা-বেনাপোল রুটে পরিচালিত হচ্ছে। অতিশীঘ্রই বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে। ইতোমধ্যে ১৮টি কোচ এসেছে। উক্ত ব্রডগেজ কোচ প্রাপ্তি সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত জমি, ইজারাকৃত জমি, ইজারাকৃত আয়, ইজারা গ্রহীতাদের তালিকা, অবৈধ দখলকৃত জমি, অবৈধ দখলদারদের তালিকা এবং ভূমি সংক্রান্ত মামলা বিষয়ক প্রতিবেদন পেশ করা হয় এবং রেলওয়ের ভূমি/স্থাপনায় সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অনলাইন রেল টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকম। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তি শেষ হওয়ার পূর্বে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভেন্ডর নিয়োগের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, মন্ত্রণালয় কমিটিকে অবহিত করেছে।
বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ