মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৭ পি.এম
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে। এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আসবাব, রাসায়নিক পণ্য ও যন্ত্রপাতির মতো কিছু খাত অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের শুরু থেকে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে আমদানির পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্য কোটা আরোপের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে কোন কোন পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে এবং তা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত হয়নি।
চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং বাণিজ্যিক টানাপড়েন নিয়ে ইউরোপে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে ইউরোপের বাজারে চীনা পণ্যের প্রবেশ সীমিত হতে পারে।
বিশেষ করে আসবাব শিল্পে কাঁচামাল ও পণ্য সংগ্রহের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ইউরোপীয় বাজারে বাণিজ্যের ধরন কতটা বদলাবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মৃত্যুর পর তার দাফনে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিক পশারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজ এলাকা চিথলিয়ায় জানাজা ও দাফনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পিরোজপুরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা মানিক পশারীর দাফনে বাধা প্রদান করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামায়াত একটি দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পিরোজপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে এর সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা কমিটি তদন্ত করে দেখবে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় সংগঠনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তের জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবীগঞ্জে ঘটনার চাঞ্চল্যকর তারেক হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি সাহেল মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যা করার পর লাশ গুম করার এই মামলার প্রধান আসামিকে মঙ্গলবার চৌশতপুর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করা হয়।
নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের দিকনির্দেশনায় অভিযানের নেতৃত্ব দেন এসআই জয়ন্ত কুমার রায় তালুকদারসহ পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তার হওয়া সাহেল মিয়া চৌশতপুর গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার পুত্র এবং নিহত তারেক একই গ্রামের মারফত উল্লাহর পুত্র। জানা গেছে, তারা দুজনই বন্ধু ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে সাহেল ও তারেক বন্ধুত্বের সুবাদে লাখাই উপজেলায় গিয়েছিল। এ সময় তারেকের কাছে একটি দামি আইফোন ছিল। মূলত ওই আইফোনের লোভেই সাহেল মিয়া ঠান্ডা মাথায় তার বন্ধুকে হত্যা করে এবং মরদেহ লাখাই এলাকার একটি খালে ফেলে দেয়।
এদিকে, গত কিছুদিন ধরে তারেক নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার কোনো সন্ধান না পেয়ে প্রথমে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামি সাহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন ও এসআই জয়ন্ত কুমার রায় তালুকদারসহ পুলিশের একটি দল নিহতের মরদেহ উদ্ধারের জন্য লাখাই থানায় যান। নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে একটি ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা আক্তার। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাহিদ হাসান। অভিযানে পুলিশের একটি টিম সহযোগিতা করে।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার বলেন,
"সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। দক্ষিণ বাজারের উপশম ফার্মেসীতে অভিযানে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে, যা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের জন্য পাচার করা হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইউক্রেনবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও জবরদস্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেককে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে কেউ নিহত, আহত, বন্দি কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।
গত সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা জবরদস্তির প্রমাণ পেয়েছে। এই দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপিন্স, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পুরুষদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষ। আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, মেকানিকসহ বিভিন্ন পেশায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে রাশিয়ায় পৌঁছালে অনেককে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। চুক্তি রুশ ভাষায় হওয়ায় অনেকে শর্ত বুঝতে পারেননি। কারো কারো পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবসায়িক ভিসার অনুলিপি সংগ্রহের কথা জানিয়েছে কমিশন। এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে কমিশনের সামগ্রিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেসামরিক চাকরির প্রলোভনের আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এক বাংলাদেশির স্ত্রীর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, তার স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে তাকে শুধুমাত্র রুশ ভাষায় লেখা চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। তার স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না।
কমিশন এসব ঘটনায় রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মানবপাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করা হয়, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হয়।
সাড়ে আট হাজার বাংলাদেশির অবস্থান খোঁজার তাগিদ
রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিদের নিয়োগের বিষয়ে গত বছরই সতর্ক করেছিল ব্র্যাক। সংস্থাটির মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর যুদ্ধে নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে কেউ কাজের ভিসায়, আবার কেউ পর্যটক ভিসায় সেখানে গিয়েছিলেন। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, নতুন করে কোনো বাংলাদেশি যেন রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি গত দুই বছরে বৈধভাবে রাশিয়ায় যাওয়া প্রায় সাড়ে আট হাজার বাংলাদেশির বর্তমান অবস্থান খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের মধ্যে কতজন এখনো সেখানে কাজ করছেন, কতজন যুদ্ধে জড়িয়েছেন এবং কতজন বেঁচে আছেন, তা জানতে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ