ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু


রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট, নিরাপত্তাহীনতা এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এই আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী ও তাঁদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির পক্ষ থেকে এই কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।

আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া, ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি একাধিকবার সংঘবদ্ধ হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁদের।

আরও পড়ুন: টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

এছাড়া, হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু না থাকায় মূল ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সীমিত জনবল ও অপ্রতুল চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রোগীদের মানসম্মত সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, এসব দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটায় বাধ্য হয়েই তাঁরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধুপুর পৌরশহরে ২৭ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মেয়র পদপ্রার্থী খন্দকার মোতালিব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১১ পি.এম


১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫

দেশে গত ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনার ফলে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, বিগত সরকারের ভুলনীতির কারণে সড়কে বেপরোয়া কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের যাতায়াত সড়কে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, "স্বাধীনতার পূর্বে এ দেশের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম ছিল নৌপথ, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এই দুই পথে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত হতো। সড়কে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত ছিল। তখন সড়ক দুর্ঘটনাও ২০ শতাংশে সীমিত ছিল।"

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ঋণের জালে আবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বেহিসাবি লুটপাট, পরিবহনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ার পরিবর্তে নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত সড়কে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও ৮০ শতাংশ বেড়েছে। অতএব, সড়কে এই গণহত্যার দায় অতীতের সব সরকারকেই নিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সড়ক সেক্টরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কিছু দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন অবাধে চলাচল করছে, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা রাস্তায় আছেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৭২,৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১,২৫,৪০৫ জন নিহত এবং ১,৭৬,২৪৯ জন আহত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পেলেও, দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানাচ্ছে। একই সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যার চেয়ে কম।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে উন্নতি করলেও পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। নিরাপদ নৌপথ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর পরিবর্তে সড়ক সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে সড়কের ওপর চাপ বেড়েছে। সড়কে ম্যাস ট্রানজিট বাড়েনি; ডেডিকেটেড বাস নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। উন্নত গণপরিবহনের অভাবে মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি বাড়ছে। এই সংকটকে পুঁজি করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং নসিমন-করিমন ব্যবহার বাড়ানোর ফলে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা বেড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনার পর্যবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ:

১. দেশে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি ও অবাধ চলাচল।

২. সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা এবং সড়কের গাছপালায় অন্ধবাঁকের সৃষ্টি।

৩. মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করা।

৪. উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি ও পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।

৫. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন।

৬. বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশসমূহ:

১. সড়কে হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ আমলাদের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা জরুরি।

২. সারা দেশে উন্নত বিশ্বের আদলে প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

৩. প্রযুক্তিভিত্তিক সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

৪. চালকদের উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

৫. গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা।

৬. কাঠামোগত সংস্কার করে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা।

৭. মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা এবং রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন করা।

৮. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা।

৯. ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন স্ক্র্যাপ করা।

১০. নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো এবং ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি গড়ে তোলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫১৮ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১১ পি.এম


রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫১৮ জন

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ কর্তৃক এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আটকদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৪৮ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৬১ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫৪ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৯৩ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৪৮ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩২ জন, গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৯ জন এবং সিটিটিসি বিভাগ থেকে ১ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় ১১৭০১ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা, ২ গ্রাম হেরোইন, মাদক বিক্রির নগদ ৪৬৩৬ টাকা, ১টি মোটরসাইকেল, ৫টি মোবাইলফোন এবং একজন ভুক্তভোগী উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ আটক করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত থাকলেও যেন ছাড় না দেয়: মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১২ পি.এম


চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত থাকলেও যেন ছাড় না দেয়: মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি মন্তব্য করেছেন, ‘চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসায় যারা জড়িত তাদেরকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যদি আমার ছেলে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হয়, তাহলে প্রশাসন যেন তাকে ছাড় না দেয়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ অপরিহার্য। যদি পরিবেশ ভালো না হয়, তাহলে ব্যবসায় বিনিয়োগের আগ্রহ থাকে না। এর ফলে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয় না। কর্মসংস্থান না হলে বেকারত্ব বাড়তে থাকে।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলার দাগনভূঞায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি উপলব্ধি করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ব্যস্ত রাখতে চান।

তিনি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রকল্পের সূচনা করছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি শিশু-কিশোরদের শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।’

পরিবেশ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে প্রশাসন ও শিক্ষকদের পাশাপাশি সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি দাগনভূঞা ও সোনাগাজীর উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটনের সভাপতিত্বে ও গোলাম রসুল মেননের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন, দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়েজুল আজিম নোমান, সমিতির উপদেষ্টা এএসএম নূর নবী দুলাল ও ইসমাঈল কেরানি, ডা: মো: হানিফ, সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুল আলম ফটিক, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবুল কাশেম ও গিয়াস উদ্দিন, ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দীন হায়দার ও সাইফুল ইসলাম বাহাদুর প্রমুখ।

পরে তিনি দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিষ্ণোইয়ের গ্যাংস্টার হওয়ার নেপথ্যে কী, কেন সালমানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১২ পি.এম


বিষ্ণোইয়ের গ্যাংস্টার হওয়ার নেপথ্যে কী, কেন সালমানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব?

ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ও অপরাধী চক্র ‘বিষ্ণোই গ্যাং’-এর প্রধান লরেন্স বিষ্ণোই। গোটা বলিউড গত কয়েক বছর ধরে তার আতঙ্কে রয়েছে। বিশেষ করে সালমান খানকে হুমকি দিয়ে সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয় এই বিষ্ণোই গ্যাং। সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর হামলা করে তারা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

কিন্তু লরেন্স বিষ্ণোই কে? তার গ্যাংস্টার হয়ে ওঠার পেছনের কাহিনী কী? সালমান খানের সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈরিতার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল?

পাঞ্জাব পুলিশের ধাওয়া খেয়ে একসময় ঘরছাড়া হতে হয়েছিল গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে। সেই ধাওয়া তাকে প্রথমে টেনে নিয়ে যায় জয়পুরে; যেখানে ক্যাম্পাস রাজনীতির হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে তিনি মদের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। পরে রাজস্থানের এক প্রভাবশালী চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনি যোধপুর জেলে বন্দি হন। সেই জেলেই তার পরিচয় হয় বর্তমান ‘বিষ্ণোই’ সম্প্রদায়ের বন্দিদের সঙ্গে।

একটি হত্যা মামলার সূত্রে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি তাকে যোধপুরের একটি আদালতে হাজির করা হয়। কাকতালীয়ভাবে, একই দিনে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার শুনানির জন্য ওই আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান।

সেদিনই প্রথমবারের মতো সালমান খানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বিষ্ণোই। যদিও এই সময়ের মিলটা কাকতালীয়, কিন্তু যে শত্রুতার কারণে আজও সালমান খানকে কঠোর নিরাপত্তায় থাকতে হচ্ছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে—তার সূচনা বহু বছর আগে হয়েছিল। ভাগ্য ও লোভের বশবর্তী হয়ে বিষ্ণোইয়ের পাঞ্জাব থেকে রাজস্থানে পা রাখার মাধ্যমে মূলত এই সংঘাতের বীজ রোপিত হয়েছিল।

হরিণ শিকার থেকে যে সংঘাতের শুরু

১৯৯৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ০২ অক্টোবরের মধ্যে সালমান খান যোধপুরের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে, তখন লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। সে সময় তিনি পাঞ্জাবের ফাজিলকা জেলার একটি গ্রামে বাস করতেন।

গত এক দশকে বিষ্ণোই বারবার এই অভিনেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, কারণ রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ অত্যন্ত পবিত্র।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশ সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং অভিনেতার বান্দ্রার বাসভবনের বাইরে অস্ত্র জোগাড় ও নজরদারিসহ বিভিন্ন ঘটনায় বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের গ্রেফতার করেছে।

এমনকি ২০২৪ সালে এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকীকেও হত্যা করে বিষ্ণোই গ্যাং; অভিযোগ রয়েছে, সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং মুম্বাইয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল।

২০১৩-১৪ সাল পর্যন্ত এই পাঞ্জাবভিত্তিক গ্যাংস্টারের অপরাধের জাল কেবল ছাত্ররাজনীতি, ক্যাম্পাসের সহিংসতা এবং পাঞ্জাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

রাজস্থানে তার সাম্রাজ্য বিস্তার এবং সালমান খানকে কেন্দ্র করে তার অন্ধ জেদের সূচনা হয় ২০১৪ সালে, যখন তিনি পাঞ্জাব পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পলাতক আসামি হিসেবে প্রথম রাজস্থানে প্রবেশ করেন।

২০২০ সালে পুলিশের কাছে দেওয়া লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ৩৫ পাতার জবানবন্দির সূত্রে তার অপরাধ জীবনের অজানা এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৪: ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে অপরাধের বড় দুনিয়ায়

২০০৮ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগে লরেন্স বিষ্ণোই প্রথম গ্রেফতার হন। ২০১০ সাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় তার নাম আসে এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কেবল রাজ্যের কলেজগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

তার জীবনের দ্বিতীয় খুনও (২০১৪ সালে) প্রথমটির মতো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররাজনীতিরই রেষারেষির ফল ছিল। একের পর এক হত্যা ও সহিংসতার একাধিক মামলার কারণে বিষ্ণোইয়ের পক্ষে আর পাঞ্জাবে থাকা সম্ভব হয়নি। তাই পুলিশের নজর এড়াতে তিনি পালিয়ে রাজস্থানে চলে যান।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালের শুরুর দিকে প্রথমে জয়পুরে পালিয়ে যান এবং সেখানে তিন-চার মাস অবস্থান করেন। তখন তার এক বন্ধু রবীন্দ্র পুনিয়া নিয়মিত তার খরচের জন্য টাকা পাঠাতেন।

এ ছাড়া পুনিয়ার মাধ্যমেই অমদীপ ওরফে সনু নামের এক মদের দোকান মালিকের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের পরিচয় হয়। অমদীপ বিষ্ণোইয়ের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্র; কারণ তিনিই বিষ্ণোইকে ক্যাম্পাস রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে অস্ত্র ও মদের ব্যবসার দুনিয়ায় প্রবেশ করান।

২০১৫: নতুন জোট ও প্রতিশোধমূলক খুন

২০১৪ সালের কোনো এক সময়ে রাজস্থানের মদ মাফিয়াদের হাতে অমদীপ খুন হওয়ার পর বিষ্ণোই তার গ্যাংকে রাজস্থানে প্রসারিত করেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন। তার জবানবন্দিতে এই সময়ে অন্তত দুটি প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে।

২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিষ্ণোই ও তার সহযোগীরা অমদীপ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ধন্না ও খান পহেলওয়ানসহ তিনজনকে হত্যা করেন। বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, এই সময়কালেই তিনি রাজস্থানের আরও অনেক অপরাধীর সঙ্গে জোট গড়ে তুলেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের দিকে তার এই সহযোগীরাই যোধপুরের এক প্রভাবশালী চিকিৎসকের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য তার সাহায্য চায়—ঠিক যে যোধপুর জেলায় সালমানের হরিণ শিকারের মামলার বিচার চলছিল।

২০১৭: সাম্রাজ্যের বিস্তার ও যোধপুর সংযোগ

২০১৭ সালের মধ্যে লরেন্স বিষ্ণোই বিভিন্ন রাজ্যে গ্যাংয়ের সদস্য রয়েছে এমন একজন সুপরিচিত গ্যাংস্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ওই বছরের শুরুর দিকে ফরিদকোট জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় যোধপুরের দুজন ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা যোধপুরের এক বিশিষ্ট চিকিৎসকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা করেন।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে যোধপুর পুলিশ বিষ্ণোইকে গ্রেফতার করে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠায়।

জবানবন্দি অনুসারে, এই কারাগারেই তিনি মূলত পাচার সংক্রান্ত মামলায় বন্দি থাকা বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে একই সেলে সময় কাটিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, যোধপুর জেলে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে আলাপচারিতাই তাকে বিষ্ণোই সমাজের ‘আন্দোলন’ বা স্বার্থরক্ষার ছদ্মবেশে এই কাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে থাকতে পারে। তাছাড়া, ২০১৭ সালের আগস্টের দিকে তার এই কারাবাস যোধপুরের স্থানীয় আদালতে সালমান খানের মামলার শেষ ধাপের শুনানির সঙ্গেই মিলে গিয়েছিল।

৪ জানুয়ারি, ২০১৮: আদালত চত্বরে প্রথম হুমকি

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তাকে কড়া নিরাপত্তার জেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেই তিনি যোধপুরের ব্যবসায়ী বাসুদেব ইরানিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন; যে মামলায় রাজস্থান পুলিশ তাকে আবারও গ্রেফতার করে।

এই মামলাটিই তাকে পুনরায় যোধপুরে ফিরিয়ে আনে এবং কয়েক মাস পর তাকে ঠিক সেই একই আদালত চত্বরে নিয়ে আসে, যেখানে সালমান খান উপস্থিত ছিলেন।

সে সময় যোধপুর আদালত নিয়মিত সালমান খানের মামলার শুনানি পরিচালনা করছিল। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি ইরানি হত্যা মামলার শুনানির জন্য তাকে যোধপুরে আনা হয়—ঠিক যে দিনটিতে কৃষ্ণসার হরিণ মামলার সমাপনী যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য সালমান খানও আদালত চত্বরে এসেছিলেন।

যোধপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বাইরে সালমানের শুনানি কভার করতে আসা সাংবাদিকদের সামনে সেদিনই প্রথম প্রকাশ্যে লরেন্স বিষ্ণোই সালমান খানকে হত্যার হুমকি দেন।

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে পুলিশ জানায়, আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সালমান খানকে দেখে বিষ্ণোই হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে—সালমান খান কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করা সত্ত্বেও আদালত থেকে কোনো শাস্তি পাননি, যা বিষ্ণোই সম্প্রদায়কে গভীরভাবে আহত করেছে।

সেদিন দুপুরে বিষ্ণোই যখন সাংবাদিকদের সামনে ওই হুমকি দেন, তখন তিনি আর পাঞ্জাবের গ্রামের সেই সাত বছরের বালক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সাধারণ কোনো ছাত্রনেতা ছিলেন না। তখন তিনি ২৬ বছর বয়সি লরেন্স বিষ্ণোই—যার ঝুলিতে ডজনখানেক খুন এবং বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা বিশাল এক অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব ছিল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%