আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
০৫:০৭ পি.এম
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরশহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র পদপ্রার্থী খন্দকার মোতালিব হোসেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তিনি পৌরশহরের ২৭টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে নগদ অর্থসহায়তা তুলে দেন এবং পূজারি ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে খন্দকার মোতালিব হোসেন পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ও আয়োজকদের খোঁজখবর নেন। তিনি পূজারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন।
আসন্ন মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে খন্দকার মোতালিব হোসেন সবার সমর্থন কামনা করেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেলে তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান রবিন, যুগ্ন সম্পাদক মোশারফ হোসেন মুছা, যুগ্ন সম্পাদক মোঃ নাজিম উদ্দীন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সাগরসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং পৌরশহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নগদ অর্থসহায়তা প্রদানের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মেয়র পদপ্রার্থী খন্দকার মোতালিব হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা করেছেন। এই আলোচনা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক তিক্ত বিরোধ প্রশমনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জেলেনস্কি, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আগাম সতর্কতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ আবার চালু করায় ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানান।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য উইটকফের অসলো থেকে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে বুধবার, যা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টার অংশ।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্পের চুক্তি ও রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর, জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ মন্তব্যের কারণে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
অসলোতে সাংবাদিকদের সামনে জেলেনস্কি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের কার্যক্রম আবার চালু হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। আমি আগাম সতর্কতার কথা বলছি, যা আমাদের জনগণ, শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আসার সময় আমরা সতর্কবার্তা পেতে পারি।’
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের পাশে দাঁড়িয়ে জেলেনস্কি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী উইটকফ। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অসুস্থতার কারণে দূর থেকে আলোচনায় অংশ নেন।
বৈঠক শেষে এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলেনস্কি, উইটকফ ও কুশনারের মধ্যে আলোচনা ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইউক্রেন নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব সামনে এনেছে।’
‘চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে’
যদিও আলোচনা ইতিবাচক ছিল, ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন। হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে জেলেনস্কিকে। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা আরও জোরদার করছে।
গত সপ্তাহে জেলেনস্কিকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো ট্রাম্প ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাদের বহুল আলোচিত টেলিভিশন সম্প্রচারিত বাদানুবাদের প্রসঙ্গও তোলেন।
সে সময় তিনি যে শর্তগুলো প্রস্তাব করেছিলেন, জেলেনস্কি সেগুলো গ্রহণ না করায় তার সমালোচনা করেন।
চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্ক আবারও তলানিতে নামে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায়, তা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ওই চুক্তি করেন।
একই সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ইউক্রেন ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিয়েভের আশঙ্কা, ট্রাম্প আবারও পুতিনের দিকে ঝুঁকছেন।
এরপর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়। জেলেনস্কি ট্রাম্পের দুর্বলতার সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য আটকে রাখছে ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব করছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ এবং রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ডে হামলা পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবস্থা স্টারশিল্ডের গতিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।
স্টারশিল্ডের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক বলেছিলেন, এ ব্যবস্থার গতি কমানোর নির্দেশ কেবল হোয়াইট হাউস থেকেই আসতে পারে। তবে ট্রাম্প এমন নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারলিংক ব্যবস্থার গতি কমানোর নির্দেশ আসলে মাস্কই দিয়েছিলেন।
অসলোতে বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন, কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর রাজধানীতে উত্তেজনা কমাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়।
মঙ্গলবার এর আগে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনা করেছেন বলে জানান।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের সঙ্গে আলাদা আলোচনায় জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, পেন্টাগন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব করছে। ইউরোপের দেশগুলো আগে থেকেই এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য পরিশোধ করেছে।
তার দাবি, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিজেদের মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনকে দিতে প্রস্তুত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন এখনো পায়নি বলে জানান জেলেনস্কি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন নিখিল। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার এই ভূমিকা স্বাভাবিক মনে হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার দলীয় পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নিখিল কুমার নাথ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হাছান মাহমুদের নির্বাচনি এলাকা রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্ত। স্থানীয় রাজনীতিতে হাছান মাহমুদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও বেশ আলোচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সরকারি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত একজন নেতার সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাদের প্রশ্ন—বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে নানা সুবিধাভোগী ও পদপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি কীভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অবস্থান পেলেন?
তবে নিখিল কুমার নাথের দাবি, পূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবেই তিনি অনুষ্ঠানে এ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, তিনি কখনো কারো কোনো ক্ষতি করেননি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার দেশকে নিখিল কুমার নাথ বলেন, ‘বিএনপির লোকেরা আমাকে ভালোবাসেন। আমাদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। তিনি তো সবার। সে হিসেবে আমাদেরও। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবিটি আওয়ামী লীগ এলে কেউ যদি দেখিয়ে বলে আমি বিএনপি করতাম, তাহলে কী শোভা পায়?’
নিখিল কুমার নাথ পেশায় চট্টগ্রামের একজন আইনজীবী। পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। ২০২১ সালের ২২ জুন প্রকাশিত স্থানীয় একটি সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে তিনি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ছাত্রজীবনেও তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, আইন কলেজ ছাত্রলীগ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, ইউনিয়ন ও কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
পরবর্তী সময়ে তিনি পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হন। মঙ্গলবার জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এই সাংগঠনিক পরিচয়েই দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নিখিল কুমার নাথের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক মাসুদ উল হক চৌধুরী। তার পোস্টের মূল প্রশ্ন ছিল, ‘প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে?’
পোস্টে মাসুদ উল হক চৌধুরী দাবি করেন, নিখিল কুমার নাথ কেবল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যই নন, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো মেয়াদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে তাকে তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, এ ধরনের দলীয় পরিচয়ের একজনকে প্রধানমন্ত্রীর অত কাছাকাছি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হলো কীভাবে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নজরে আনারও আহ্বান জানান তিনি।
নিখিল কুমার নাথের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। হাছান মাহমুদ দীর্ঘদিন রাঙ্গুনিয়া আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই এলাকার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় নিখিল নাথ তার বিশ্বস্ত বলয়ের অংশ হিসেবে পরিচিতি পান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ডিও লেটারের ভিত্তিতেই নিখিল কুমার নাথ উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু জানান, তিনি বর্তমানে একটি বৈঠকে ব্যস্ত রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদে হারামে সংঘটিত একটি ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগাণ্ডা। আনন্দবাজার পত্রিকা ও ইন্ডিয়া টুডে-র মতো গণমাধ্যমে ঘটনাটিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের এবং সউদী আরবের মধ্যে সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ইসলামি শরিয়াহ আইন, সউদী বিচারব্যবস্থা এবং মসজিদ আল হারামের পবিত্রতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রও লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশটির গণমাধ্যমে।
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘‘অপরাধ কি কপালে চুম্বন? ঢাকাকে না জানিয়ে বাংলাদেশি ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’র ধড়-মুণ্ড কেন আলাদা করল সৌদি আরব?’’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অপ্রাসঙ্গিকভাবে মক্কা চুক্তিকে টেনে এনে বাংলাদেশ সরকারের তাতে যোগদানের আগ্রহ নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ঢাকা-রিয়াদ সম্পর্কে ফাটল ধরার অতিরঞ্জিত দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সউদী আরবকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এই পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গ করে মক্কা সামরিক চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি সরকারের আগ্রহকে ‘লাফালাফি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে আরও দাবি করা হয়েছে, তারেক রহমানের আসন্ন সউদী আরব সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই শিরচ্ছেদের ঘটনা নাকি ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র চাপ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘কখনও হুথি হামলার কড়া নিন্দা। কখনও আবার মক্কা সামরিক চুক্তিতে যোগ দিতে চেয়ে ‘লাফালাফি’। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইস্তক সৌদি আরবকে প্রবল ভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে ঢাকা। এ-হেন পরিস্থিতিতে আচমকাই ছন্দপতন। সবাইকে চমকে দিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল রিয়াধ। শুধু তা-ই নয়, তাদের ‘সম্পূর্ণ অন্ধকারে’ রেখে এই পদক্ষেপ করায় বেজায় অস্বস্তিতে ভারতের পূর্বের প্রতিবেশী।’'
অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হেলথ হোল্ডিং কোম্পানি জানায়, চলতি বছরে নতুন শূন্যপদ, সম্পন্ন নিয়োগ এবং অনুমোদিত প্রশিক্ষণ চুক্তি মিলিয়ে মোট সুযোগের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬১০টি হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, দেশের ২০টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে নতুন করে ৪ হাজার ২৯১টি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব পদে বিভিন্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, জনবলের ঘাটতি পূরণ এবং দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ঘোষিত শূন্যপদগুলোর নির্দিষ্ট পদ ও যোগ্যতার বিস্তারিত জানার জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অঞ্চলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯১৪ জন সৌদি নাগরিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আরও ২ হাজার ৪০৫টি প্রশিক্ষণ চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে।
এই নিয়োগ, প্রশিক্ষণ চুক্তি এবং নতুন শূন্যপদ মিলিয়ে মোট সুযোগের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬১০টি। অর্থাৎ, সবগুলো পদ বর্তমানে খালি নেই বা সব পদে এখনই আবেদন করা যাবে—এমনটি নয়।
আগ্রহী প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অঞ্চলের নিয়োগ পোর্টালে গিয়ে শূন্যপদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে শূন্যপদ প্রকাশের তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। তাই আবেদনের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ ও শেষ সময় নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
এ নিয়োগের মূল লক্ষ্য সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। ফলে ঘোষিত ৪ হাজার ২৯১টি পদ বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে সৌদি আরবে বিদেশি চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। এসব পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন, লাইসেন্স এবং কাজের অনুমতির শর্ত পূরণ করতে হয়।
বাংলাদেশি প্রার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি নাগরিকদের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ