ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাড়িচাপায় দুই পা হারালেন অস্ট্রেলীয় এমপি হেলেন হেইনস


গাড়িচাপায় দুই পা হারালেন অস্ট্রেলীয় এমপি হেলেন হেইনস

অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হেলেন হেইনসের দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সোমবার তার কার্যালয়ের কাছে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন তার স্বামী ফিল হেইনস। পুলিশ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বর্তমানে হেলেন মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

৬৫ বছর বয়সি এই আইনপ্রণেতা সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্ন থেকে ২০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে ওয়াংগারাট্টা শহরের কাছে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন: সাদিক কায়েম: ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে

বুধবার হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তার স্বামী ফিল বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের হেলেনের দুই পা-ই কেটে ফেলতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এত কিছুর মধ্যেও সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, হেলেন বেঁচে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আমাদের পরিবারের কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

ফিল আরও বলেন, ‘পরিবার হিসেবে হেলেনের যে দুটি বিষয় আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো তার হৃদয় ও মন। তার হৃদয় অনেক বড়। তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, যত্নশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ একজন মানুষ।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলেনের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রেন্ডান নুজেন্টকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: খাদ্যমন্ত্রী

৪৩ বছর বয়সি নুজেন্টের বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শেষের অভিযোগটি অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় আইনের আওতাধীন অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড।

আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে গাঁজার গাছ চাষ এবং মাদক রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির ঘটনাস্থলে থাকা এক সাংবাদিক জানান, ওয়াংগারাট্টার একটি আদালতে নুজেন্টকে হাজির করা হয়। তিনি জামিনের আবেদন করেননি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বিরল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানি বেড়ে গেছে বলে পুলিশ নথিভুক্ত করেছে।

আরও পড়ুন: উগান্ডা: কঙ্গো থেকে ফেরা নাগরিকদের জন্য ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক

হামলার উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে অনুমান করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।

তবে বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, তারা সব ধরনের সূত্র খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে অভিযুক্তের উগ্র সরকারবিরোধী মনোভাব ছিল কি না, সেটিও রয়েছে।

ভিক্টোরিয়া পুলিশের কমিশনার মাইক বুশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছি। প্রত্যক্ষদর্শী, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছি।’

বুশ জানান, অভিযুক্তের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না। হামলার আগে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেন—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি। সূত্র: এএফপি

আরও পড়ুন: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব কামাল হায়দার ওএসডি, হাসিনার গুণগানে সরব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের নির্বাচনে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি ২৭ অক্টোবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


ইসরাইলের নির্বাচনে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি ২৭ অক্টোবর

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে, দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি খণ্ডিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে, কোন পক্ষ কতটা সফলভাবে জোট গঠন করতে পারে, তার ভিত্তিতে।

ইসরাইলে ভোটের অনুপাত অনুযায়ী সংসদে আসন বণ্টন করা হয়ে থাকে। ১২০ আসনের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন। কোনো একক দল এই সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে হচ্ছে।

সম্ভাব্য চারটি পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

১. জোট সরকার

নির্বাচনের পরপরই রাজনৈতিক দলগুলো ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে জোট গঠনের আলোচনা শুরু করবে।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর, সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেবেন। এই প্রার্থী অবশ্যই সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের সদস্য হবেন, এমনটি নয়। বরং, সংসদে প্রয়োজনীয় আসনের সমর্থন আদায়ে যার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া হবে।

জোট গঠনের আলোচনা দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। দলগুলো নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে দর-কষাকষি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে অস্থিতিশীল সরকার গঠনের আশঙ্কাও রয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ৫৮ দিন সময় লেগেছিল। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে পরিচিত নেতা সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট। দুই পক্ষই প্রায় ৫০ থেকে ৫২টি করে আসন পেতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে জরিপে দুই পক্ষের অবস্থান প্রায় সমান। ফলে, জোট গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও ১০টি বা তার কাছাকাছি আসন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষকে কঠিন হিসাব-নিকাশ করতে হবে। ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলত্যাগ ও জোটের সমীকরণে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের বহু নজির রয়েছে।

এ ছাড়া, দেশটিতে নতুন দুটি ডানপন্থী দল রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, দল দুটি সংসদে প্রবেশের ন্যূনতম ভোটের সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তারা সংসদে আসন পেলে দুই প্রধান শিবিরের যেকোনো একটির পক্ষে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

২. সংখ্যালঘু সরকার

কোনো শিবিরই ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে না পারলে, কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে, অন্য সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থন নিতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের। তাদের অধিকাংশই নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আরব-ইসরায়েলি দুটি নির্বাচনী জোট—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—মোট ১২ থেকে ১৪টি আসন পেতে পারে। অতীতে সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখা মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম জানায়, তারা আইজেনকোটের শিবিরের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে— এমন যেকোনো জোটকে ‘সমর্থনের নিরাপত্তাবলয়’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে বিরোধী শিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে এমন সম্ভাবনার কথা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক। কারণ, ইহুদি ভোটারদের একটি বড় অংশ ইসরাইলি আরবদের সঙ্গে যেকোনো ধরণের জোটের বিরোধী।

এতে অবশ্য নেতানিয়াহু তার নির্বাচনী প্রচারে আইজেনকোটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আনা থেকে বিরত থাকেননি। তিনি প্রচারে স্লোগান দিয়েছেন, ‘হয় ডানপন্থীরা, নয়তো ফিলিস্তিন।’

৩. জাতীয় ঐক্যের সরকার

ইসরাইলের চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে অবাস্তব মনে হতে পারে। তবে তাত্ত্বিকভাবে, এমন সরকার গঠিত হলে তুলনামূলক কম কট্টর সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রায়ই জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমন সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহু তার উসকানিমূলক কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের পাশাপাশি অতি-অর্থোডক্স দলগুলোকে বাদ দিয়ে আইজেনকোটের সঙ্গে জোট করতে পারেন। নিরাপত্তার অনেক বিষয়ে আইজেনকোটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর মতের মিল রয়েছে।

তবে এ ধরনের বৃহৎ জোটে আরব দলগুলোকে রাখা হবে না।

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নতুন নির্বাচনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনকে পছন্দ করবেন ৫৫ শতাংশ ইসরাইলি।

এ ধরণের সরকার গঠনের সাম্প্রতিক নজিরও রয়েছে। ২০২০ সালে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও বেনি গান্তজ ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি চুক্তিতে পৌঁছান। আইজেনকোটের মতো গান্তজও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল। তিনি মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। ওই চুক্তিতে পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

তবে এক বছরের মধ্যেই তাদের অংশীদারত্ব ভেঙে পড়ে। এর ফলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর অচলাবস্থা তৈরি হলে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে একসঙ্গে আনতে পর্দার আড়ালে কাজ করছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এর মাধ্যমে ২০২০ সালের মতো ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তবে এ পরিস্থিতির বিরোধিতা উভয় পক্ষ থেকেই আসতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের আপত্তি প্রবল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা এই নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণভোট হিসেবে দেখছে এবং তার ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

৪. অচলাবস্থা ও নতুন নির্বাচন

কোনো প্রার্থী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে ইসরাইলকে আবারও নির্বাচনে যেতে হবে।

রাজনৈতিক নেতারা স্থায়ী জোট গঠন করতে না পারায় ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে দেশটিতে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী সাধারণত জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। তবে নতুন নির্বাচন অবিলম্বে ঘোষণা ঠেকানোর জন্য অন্য কিছু প্রক্রিয়াগত পথও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

বান্দরবান, ২১ অক্টোবর ২০২৬ : দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্টগুলোতে কোনো কক্ষ খালি নেই। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যটন স্পটে যাওয়ার জন্য গাড়ি পাচ্ছেন না। সকালে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিনে পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, অনেক পর্যটক প্রকৃতির সাথে নিজেদের ছবি তুলতে ব্যস্ত। কেউ মেঘলার স্বচ্ছ হৃদে কায়াকিং করছেন, কেউ শৈলপ্রপাতের শীতল জলে গা ভিজাচ্ছেন। কিছু পর্যটক প্রকৃতির নীরবতায় নিমগ্ন হয়ে গান শুনছেন, আবার কেউ আনন্দের সাথে গান গাইছেন।

বান্দরবানের নীলাচলে ঘুরতে আসা সামিয়া জামান বাসসের সাথে আলাপকালে জানান, "বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। তাই বান্দরবানে ঘুরতে এসেছি। অনেক সুন্দর। চারদিকে পাহাড়-পর্বত আর সবুজে ঘেরা।"

ঢাকার গাজিপুর থেকে মেঘলায় ঘুরতে আসা জাহিদ হোসেন বলেন, "আমরা ১২ জন এসেছি। মেঘলায় প্রথম আসলাম। সবুজ পাহাড়ের মাঝখানে হ্রদ। অনেকে সুন্দর। দুই দিন থাকবো। আরো কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরবো।"

আজ সকাল ৮টায় স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য পর্যটকরা ভিড় করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব পর্যটকদের অনেকেই দলবদ্ধ হয়ে গাড়ি ভাড়া করছেন। আবার অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন।

চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন বাসসকে জানান, পর্যটকদের সেবায় প্রায় ৪২০টি চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। বান্দরবানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। খুব সকালে তিনশ’র বেশি গাড়ি স্টেশন ছেড়ে গেছে। তবে বেলা ১১টার পর আর কোনো গাড়ি নেই। অনেকে গাড়ি ভাড়ার জন্য এসেছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গত ১৮ অক্টোবর, রোববার থেকে ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনের পূজার ছুটি রয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা ১০ দিনের ছুটি চলমান। এই ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, "সকাল থেকে জিপ স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা ৫ জন। থানচির তিন্দু রেমাক্রী ও কেওক্রাডং যাবো। কোনো গাড়ি খালি পাচ্ছি না। স্টেশনে জটলা।"

হোটেল হিলটনের ব্যবস্থাপক তপন কান্তি বড়ুয়া বাসসকে বলেন, "২১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত কোনো কক্ষ খালি নেই। আমাদের ৭২ টি কক্ষ রয়েছে। অনেকে কোনো কক্ষ খালি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। টানা ছুটির কারণে এ অবস্থা।"

বান্দরবান হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, টানা ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকে ভরপুর থাকে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে। এখানে ৭০টির মতো হোটেল রয়েছে।

জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন বলেন, জেলা শহর এবং রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ২৫০টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা আছে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকটি স্পটে পর্যটকরা আসবেন। পর্যটকদের আগমন যাতে নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে, তাহলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সেবা করা। তাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করা উচিত।

বুধবার, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে যারা দুঃসময়ে তার পাশে ছিলেন, তাদের অবদানেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন। এজন্য তিনি মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এই কৃতজ্ঞতা তাকে দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির মধ্যে রাখবে।

তিনি বলেন, ভোট দিয়েছেন কি দেননি, তা বিবেচনা না করে সকল মানুষের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে। জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এ জেলায় দুর্গাপূজামণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিচয় বহন করে। এই সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সুনাম ধরে রাখতে সকলকে সহনশীল হতে হবে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে টাকার প্রলোভনে না পড়ে যোগ্য, সৎ এবং জনকল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা উচিত। ব্যক্তিগত ও দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষ এবং এলাকার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি সিংগাইর, হরিরামপুর, দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার আটটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর নেন এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য আর্থিক অনুদান দেন। স্থানীয় আয়োজকেরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসবের আয়োজনেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শন করা মণ্ডপগুলো হলো: সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ, হরিরামপুরের কাষ্ঠাপাড়া বাজার দুর্গামন্দির, আন্ধারমানিক নেপাল হালদারের বাড়ির সার্বজনীন দুর্গামন্দির, দৌলতপুর কালীবাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দির, ঘিওর সতদল সার্বজনীন দুর্গামন্দির, ঘিওরের কচিকাঁচা মিলন সংঘ সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, শিবালয়ের আরিচা ঘাট বাজার সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং মহাদেবপুর উত্তরপাড়া বনদুর্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজামন্দির।

এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবিদুর রহমান রোমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪২ পি.এম


রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে চালক ও যাত্রীদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করেছে নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের রিজার্ভ বাজার সিএনজি স্টেশন, লঞ্চঘাট ও পাহাড়িকা বাস কাউন্টারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
‎
‎কর্মসূচিতে সড়কে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নৌযানে যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা এবং নৌ আইন মেনে চলার আহ্বান জানান বক্তারা।
‎
‎পথসভায় বক্তারা বলেন, সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে চালক, যানবাহন ও নৌযানের মালিক এবং যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। আইন মেনে চলার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
‎
‎নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের রাঙামাটি জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. হাবীব আজমের সভাপতিত্বে পথসভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রাজু।
‎
‎এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন, সংগঠক মো. ইভান শফি এবং সদস্য মো. শাহ আলম ও মো. ইমরান। এ ছাড়া সংগঠনের অন্য সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এসআই মনোয়ার হোসেন, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, স্থানীয় চালক ও সাধারণ যাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎কর্মসূচিতে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান স্থানীয় চালক ও পথচারীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%