০৫:২৩ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হেলেন হেইনসের দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সোমবার তার কার্যালয়ের কাছে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন তার স্বামী ফিল হেইনস। পুলিশ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বর্তমানে হেলেন মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
৬৫ বছর বয়সি এই আইনপ্রণেতা সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্ন থেকে ২০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে ওয়াংগারাট্টা শহরের কাছে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুন: সাদিক কায়েম: ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে
বুধবার হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তার স্বামী ফিল বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের হেলেনের দুই পা-ই কেটে ফেলতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এত কিছুর মধ্যেও সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, হেলেন বেঁচে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আমাদের পরিবারের কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ফিল আরও বলেন, ‘পরিবার হিসেবে হেলেনের যে দুটি বিষয় আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো তার হৃদয় ও মন। তার হৃদয় অনেক বড়। তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, যত্নশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ একজন মানুষ।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলেনের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রেন্ডান নুজেন্টকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: খাদ্যমন্ত্রী
৪৩ বছর বয়সি নুজেন্টের বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শেষের অভিযোগটি অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় আইনের আওতাধীন অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড।
আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে গাঁজার গাছ চাষ এবং মাদক রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির ঘটনাস্থলে থাকা এক সাংবাদিক জানান, ওয়াংগারাট্টার একটি আদালতে নুজেন্টকে হাজির করা হয়। তিনি জামিনের আবেদন করেননি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বিরল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানি বেড়ে গেছে বলে পুলিশ নথিভুক্ত করেছে।
আরও পড়ুন: উগান্ডা: কঙ্গো থেকে ফেরা নাগরিকদের জন্য ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক
হামলার উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে অনুমান করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
তবে বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, তারা সব ধরনের সূত্র খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে অভিযুক্তের উগ্র সরকারবিরোধী মনোভাব ছিল কি না, সেটিও রয়েছে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশের কমিশনার মাইক বুশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছি। প্রত্যক্ষদর্শী, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছি।’
বুশ জানান, অভিযুক্তের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না। হামলার আগে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেন—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি। সূত্র: এএফপি
আরও পড়ুন: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব কামাল হায়দার ওএসডি, হাসিনার গুণগানে সরব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন