প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে, তাহলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সেবা করা। তাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করা উচিত।
বুধবার, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে যারা দুঃসময়ে তার পাশে ছিলেন, তাদের অবদানেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন। এজন্য তিনি মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এই কৃতজ্ঞতা তাকে দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির মধ্যে রাখবে।
তিনি বলেন, ভোট দিয়েছেন কি দেননি, তা বিবেচনা না করে সকল মানুষের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে। জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এ জেলায় দুর্গাপূজামণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিচয় বহন করে। এই সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সুনাম ধরে রাখতে সকলকে সহনশীল হতে হবে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে টাকার প্রলোভনে না পড়ে যোগ্য, সৎ এবং জনকল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা উচিত। ব্যক্তিগত ও দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষ এবং এলাকার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
খাদ্যমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি সিংগাইর, হরিরামপুর, দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার আটটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর নেন এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য আর্থিক অনুদান দেন। স্থানীয় আয়োজকেরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসবের আয়োজনেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন করা মণ্ডপগুলো হলো: সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ, হরিরামপুরের কাষ্ঠাপাড়া বাজার দুর্গামন্দির, আন্ধারমানিক নেপাল হালদারের বাড়ির সার্বজনীন দুর্গামন্দির, দৌলতপুর কালীবাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দির, ঘিওর সতদল সার্বজনীন দুর্গামন্দির, ঘিওরের কচিকাঁচা মিলন সংঘ সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, শিবালয়ের আরিচা ঘাট বাজার সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং মহাদেবপুর উত্তরপাড়া বনদুর্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজামন্দির।
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবিদুর রহমান রোমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন