০১:৫১ এম
মেহেরপুরের গাংনীতে মোবাইল গেম ফ্রি ফায়ার/পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের ফলস্বরূপ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ান আল আবির (১২) হত্যা মামলায় আদালত দুই কিশোরকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। একই সাথে দেশের স্মার্টফোন থেকে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম দ্রুত অপসারণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে, মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের মধ্যে মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫)-কে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং মিনাপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নুহু নবীর ছেলে মো. জুনাইদ ইসলাম হামিম (১৪)-কে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিহত আবিরের মা রোজিনা খাতুন জানিয়েছেন যে, তাঁর স্বামী মো. আসাদুজ্জামান মালয়েশিয়া প্রবাসী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার শরিষাডালা এলাকায় হলেও তিনি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন।
মামলা অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৬ জুন মোস্তফা আল মুজাহিদ ও জুনাইদ ইসলাম হামিম রেজোয়ান আল আবিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মিনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে। পরবর্তী সময়ে ফ্রি ফায়ার/পাবজি গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে, তারা আবিরের বাবার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়। অবশেষে, চাঁদা না পেয়ে আবিরকে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ প্রাপ্ত হয়েছে। এই ঘটনায়, রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে ২০২১ সালের ২৭ জুন গাংনী থানায় হত্যা মামলাটি (মামলা নং-২৩) দায়ের করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, দণ্ডপ্রাপ্তরা ঘটনার সময় শিশু হওয়া সত্ত্বেও শিশু আইনের আওতায় সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেছে আদালত। পাশাপাশি, আদালত ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম দ্রুত দেশের স্মার্টফোন থেকে অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে। রায়ের মধ্যে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করার জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার আব্দুল মতিন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন