০১:৫৪ এম
বাগেরহাটের সরকারি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের দ্বাদশ (২য়) বর্ষের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার (২০)কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ছোটবাদুরা গ্রামের স্থানীয় গ্রামবাসীরা এ ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। নিহত ছাত্র জাহিদুল ইসলামের পিতা মনিরুল ইসলাম এবং মাতা আছিয়া বেগম বলেন, জাহিদুল ইসলাম চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি হোটেলে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন বাড়িতে আসেননি এবং পরিবারের সাথে মোবাইল ফোনে মাঝে মধ্যে কথা বলতেন। কিন্তু হঠাৎ ৪দিন ধরে তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বাড়ির অধূরে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়, এসে দেখে গাছের সাথে ফাঁস লাগানো মুখে বিষ ঝুলন্ত অবস্থায় ছেলের লাশ ঝুলছে। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে। জানা গেছে, জাহিদুল পার্শ্ববর্তী জিয়ানগর (ইন্দুরকানি) উপজেলার কালাইয়া গ্রামের এক বিবাহিত নারী টিকটকারের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কয়েকদিন পূর্বে তিনি তার বড় ছেলের স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন যে জাহিদুলের লাশও পাওয়া যাবে না। আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে? আমি চাই না, আমার মত আর কোন মায়ের বুক খালি হোক। মানববন্ধনে নিহতের ভাই আসাদুল হাওলাদার, সাইফুল হাওলাদার, চাচা জামাল হাওলাদার, কলেজ সহপাঠি আসিফ শেখ, পল্লী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম, সেন্টু হাওলাদার, আমেরুল বেগম, মরিয়ম বেগমসহ একাধিক স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, ছাত্র জাহিদুল ইসলাম কখনও নেশার সাথে জড়িত ছিলো না। অথচ তার লাশ উদ্ধারের সময় পকেটে সিগারেট, গ্যাসলাইট এবং পকেটে চিরকুট পাওয়া গেছে, মুখে বিষ এবং গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি আত্মহত্যা নয়, বলেই তারা দাবি করছেন যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা চান, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার ক্লু-উদঘাটন করে জড়িতদের ফাঁসি দেওয়া হোক। এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, জাহিদুলের মৃত্যুকে ঘিরে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই তার মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন