০২:০৬ এম
শর্বরীর কথায়, এই সময়ে দাঁড়িয়ে কোনও ছবি টানা এত দিন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানবে, তা আগে থেকে আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব। তাঁর মতে, ছবির সাফল্যের আসল শক্তি ছিল দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসা।
ছবির সাফল্যের রেশ তখনও কাটেনি, এরই মধ্যেই নতুন ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত শর্বরী। আলি আব্বাস জাফরের পরিচালনায় অহন পাণ্ডের বিপরীতে নতুন কাজের ফাঁকেই ফিরে দেখলেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’-এর সাফল্য। মুক্তির কয়েক সপ্তাহ পরেও প্রেক্ষাগৃহে ছবির দাপট দেখে এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না অভিনেত্রী।
শর্বরীর কথায়, এই সময়ে দাঁড়িয়ে কোনও ছবি টানা এত দিন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানবে, তা আগে থেকে আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব। তাঁর মতে, ছবির সাফল্যের আসল শক্তি ছিল দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসা। প্রচার নয়, দর্শকের ভালবাসাই ছবিকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তাই এই সাফল্য তাঁর কাছে আরও বেশি মূল্যবান।
আরও পড়ুন: বাকৃবিতে উদ্বোধন হলো সার্জারি গ্যালারি
তবে মুক্তির প্রথম কয়েক দিন মোটেই নিশ্চিন্ত ছিলেন না তিনি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল কী হবে, সেই উদ্বেগ ছিল গোটা টিমের মধ্যেই। কিন্তু শর্বরী বরাবরই আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ছবি একসময়-না-একসময় দর্শকের নজর কাড়বেই। মুক্তির ঠিক দু’দিন পরেই ছিল তাঁর জন্মদিন। সেই সময় থেকেই মনে হয়েছিল, হয়তো ভাগ্য তাঁর সঙ্গে রয়েছে। এখন সেই বিশ্বাসই যেন সত্যি হয়েছে। অনেক দর্শক তাঁকে তাঁর নিজের নামে নয়, ছবির চরিত্র ‘জিয়া’ নামে চিনতে শুরু করেছেন। এক জন অভিনেতার কাছে এর চেয়ে বড় স্বীকৃতি আর কীই-বা হতে পারে!
অভিনয়ের পাশাপাশি শর্বরীর ফ্যাশন-সচেতনতাও সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে। তাঁর কথায়, আগে নতুন কিছু পরতে বা করতে দ্বিধা থাকলেও এখন সেই সংকোচ নেই। পরীক্ষানিরীক্ষা করতে ভাল লাগে, তবে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেই। তাঁর বিশ্বাস, ফ্যাশন কখনও মুখোশ নয়, বরং ব্যক্তিত্বেরই স্বাভাবিক প্রকাশ।
মজার বিষয়, ছোটবেলায় সাজগোজে তাঁর আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। বরং খেলাধুলাতেই বেশি মন ছিল। বড় দিদি কস্তুরীই তাঁকে ধীরে ধীরে ফ্যাশনের জগতে টেনে আনেন। দিদির পোশাক, গয়না, কানের দুল চুরি করে পরার অভ্যাস নিয়ে দুই বোনের মধ্যে কম ঝগড়াও হয়নি। সেই স্মৃতি এখনও হাসিমুখে মনে করেন শর্বরী।
পর পর সফল ছবি উপহার দিলেও নিরাপদ পথে হাঁটতে রাজি নন অভিনেত্রী। বরং নিজেকে বারবার নতুন ভাবে আবিষ্কার করাই তাঁর লক্ষ্য। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে চান তিনি। শর্বরীর বিশ্বাস, অভিনয়ে বৈচিত্রই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয়। এতে পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে নতুন চরিত্রে তাঁকে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ : স্পিকার
বক্স অফিসের অঙ্ক নয়, দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াকেই নিজের সাফল্যের মাপকাঠি বলে মনে করেন শর্বরী। তাঁর ইচ্ছে, মানুষ যেন ছবির আয় নয়, তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোকেই মনে রাখে। কারণ তাঁর কাছে অভিনেত্রী হিসাবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সেখানেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন