ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টিকিট কালোবাজারি রুখতে ম্যানইউর ৬৮৫টি সিজন টিকিট বাতিল


টিকিট কালোবাজারি রুখতে ম্যানইউর ৬৮৫টি সিজন টিকিট বাতিল

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড টিকিট কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংগঠিতভাবে টিকিট কেনাবেচা এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে টিকিট ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে ক্লাবটি ৬৮৫টি সিজন টিকিট বাতিল করেছে।

মৌসুম শুরুর পূর্বে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছিল ইউনাইটেড। ক্লাবটি তদন্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে জানায়, ৬৮৫টি অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আরও ৪৬৪ জন সমর্থককে তুলনামূলক কম শাস্তি অথবা চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইউনাইটেডের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে সংগঠিত টিকিট কালোবাজারির কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব চক্র টিকিট নিয়ন্ত্রণ, বিক্রি ও বিতরণের জন্য শত শত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত।

আরও পড়ুন: সাদমানের ফিফটির পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন শান্ত

ক্লাবের ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃত সমর্থকদের টিকিট পাওয়ার ন্যায্য সুযোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই টিকিট ব্যবস্থার এমন ‘গুরুতর অপব্যবহারের’ বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বাতিল হওয়া সিজন টিকিটগুলো এবার অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রকৃত সমর্থকদের দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইউনাইটেড। ক্লাবটি জানিয়েছে, এর মাধ্যমে টিকিটগুলো আবারও নিয়মিত সমর্থকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

তদন্তে আরও ১ হাজার ৬১৭টি অ্যাকাউন্টকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে ‘অস্বাভাবিক কার্যক্রম’ শনাক্ত করা হয়েছে বলে ক্লাবটি জানিয়েছে।

তবে ইউনাইটেডের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সমর্থকদের একাংশ। সমর্থকগোষ্ঠী ‘দ্য ১৯৫৮’ চলতি সপ্তাহে সমর্থকদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রোববার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ডার্বির আগে সিজন টিকিট নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে তারা। তাদের দাবি, এবার ক্লাব ‘সীমা অতিক্রম করেছে’।

আরও পড়ুন: আটঘরিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস খেলোয়াড় বাছাই পর্বের উদ্বোধন

এদিকে, যাদের সিজন টিকিট বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১৩ জন ক্লাবের তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেননি। আরও ৭৩ জন কোনো আপিল করেননি। আর ৪৯৯ জনের ক্ষেত্রে স্বাধীন আপিল বোর্ড নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই অভিযান টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কতটা কার্যকর হবে, সেটি ভবিষ্যতে ক্লাবের টিকিট ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জাপুরে ১০ বছরের মাদরাসা ছাত্রকে তিন মাস ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


মির্জাপুরে ১০ বছরের মাদরাসা ছাত্রকে তিন মাস ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিভাবক ও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামানকে আটক করে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর পৌরসদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৫ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। তিন বছর আগে আল আমিনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের একটি গ্রামের ১০ বছর বয়সী ছাত্রটি নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে মাদরাসার আবাসিক শাখায় অবস্থান করতে শুরু করে। গত প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। এ কারণে শিক্ষার্থীর পেটব্যথা, পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

শিক্ষার্থী অসুস্থতার কথা তার মাকে জানালে তিনি তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে টয়লেটে রক্ত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার ১১ দিন আগে শিক্ষার্থীকে আবার মাদরাসায় রেখে যান তার মা। এরপর আল আমিনের দ্বারা একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর শিশুটি আবারও তার মাকে বিষয়টি জানায়।

ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, ছেলে ফোন করে তাকে বলেছিল, “মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। পেট ব্যথা করছে। আমাকে নিয়ে যাও। আমি এখানে থাকতে পারব না।”

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে মাদরাসা ছাত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো হয়। এরপর ছাত্রের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসলে পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ছাত্রের মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে বিচার দাবি করলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদরাসার সামনে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।

এদিকে, মাদরাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের গেট বন্ধ করে ছাত্রদের লাঠি হাতে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি জানান, অভিযোগের ঘটনায় আল আমিনকে আর মাদরাসায় রাখা হবে না।

অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নির্দোষ এবং শিশুটির অভিযোগ সত্য নয়।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মাদরাসার প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আল আমিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পিন্সিপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে জলাভূমি সম্পদের ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


সুনামগঞ্জে জলাভূমি সম্পদের ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ সভা

সুনামগঞ্জ, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ জেলায় জলাভূমির সম্পদের বিচক্ষণ ব্যবহারের উপর একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সভার সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

বিশেষ অতিথিরূপে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মো. আমিনুর রহমান, রিসোর্স ম্যানেজম্যান্ট এডভাইজার মোহাম্মদ ফজলে আরাফাত এবং ইউএনডিপি প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন। প্রকল্প পরিচালক শাহেদা বেগম প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি শেরগুল আহমেদ, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি দে, সাংবাদিক মুহাম্মদ আমিনুল হক প্রমুখ।

উম্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা মন্তব্য করেন যে, হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। ফসল রক্ষা বাঁধ দেওয়ার সময় হাওরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে হাওরের মাছ ও জলজ উদ্ভিদ বিনষ্ট না হয়। পাশাপাশি, পলি মাটি জমে হাওরের খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো খনন করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে ‘ইসলাম ও তাসাউফ’ লেকচার সিরিজের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


কিশোরগঞ্জে ‘ইসলাম ও তাসাউফ’ লেকচার সিরিজের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের খানকাহ আবুলউলাইয়ার উদ্যোগে ‘ইসলাম ও তাসাউফ’ শীর্ষক বিশেষ লেকচার সিরিজ শুরু হয়েছে, যা ইসলামের আধ্যাত্মিক সাধনা, আত্মশুদ্ধি ও তাসাউফের গভীরতর তাৎপর্য মানুষের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ রোডস্থ শোলাকিয়ার খানকাহ আবুলউলাইয়ায় প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ আধ্যাত্মিক ধারার লেকচার সিরিজটি ইসলামের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য, আত্মিক পরিশুদ্ধি ও মানবজীবনে তাসাউফের তাৎপর্য অনুধাবনের প্রত্যাশায় আয়োজন করা হয়, যা ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে গভীর আগ্রহ ও আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।

প্রথম লেকচারের বিষয় ছিল ‘মানবীয় মর্যাদা; ইসলামী দৃষ্টিকোণ’। প্রধান আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ফিলসফিক্যাল সোসাইটির সাবেক প্রেসিডেন্ট (২০২৩-২০২৬) প্রফেসর ডক্টর শাহ্ কাওসার মুস্তফা মীযানী চিশ্তী আবুলউলাইয়ী বিষয়টির ওপর গভীর ও প্রজ্ঞাময় আলোচনা করেন। তিনি পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের সৃষ্টিগত শ্রেষ্ঠত্ব, আত্মমর্যাদা, নৈতিক দায়িত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

প্রফেসর ডক্টর শাহ্ কাওসার মুস্তফা মীযানী চিশ্তী আবুলউলাইয়ী তাঁর বক্তব্যে মানবজীবনের মর্যাদাকে কেবল সামাজিক স্বীকৃতি কিংবা পার্থিব সম্মানের মানদণ্ডে নয়; বরং মহান আল্লাহর সৃষ্টিরূপে মানুষের অন্তর্নিহিত সম্মান, নৈতিক সৌন্দর্য ও আত্মিক উৎকর্ষের আলোকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম মানুষের মর্যাদাকে এমন এক মহিমান্বিত নৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেখানে বর্ণ, ভাষা, সম্পদ, সামাজিক অবস্থান কিংবা বাহ্যিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ তার মানবিক সত্তার কারণেই সম্মানের অধিকারী।

তাঁর আলোচনায় কোরআনের বাণী, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ এবং ইসলামী দর্শনের গভীরতর তাৎপর্য যেন একই স্রোতে মিলিত হয়ে মানবমর্যাদার এক অনন্য দিগন্ত উন্মোচন করে। আধ্যাত্মিকতা, দর্শন ও নৈতিকতার সমন্বিত ব্যাখ্যায় তিনি তুলে ধরেন; মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব তার বাহ্যিক ঐশ্বর্যে নয়, বরং তার চরিত্রের পবিত্রতা, বিবেকের জাগরণ, ন্যায়বোধ ও স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণের মধ্যে নিহিত। তাঁর বক্তব্যে মানবমর্যাদা হয়ে ওঠে আত্মপরিচয়ের আয়না, নৈতিকতার মাপকাঠি এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

প্রফেসর ডক্টর শাহ্ কাওসার মুস্তফা মীযানী চিশ্তী আবুলউলাইয়ী কিশোরগঞ্জ খানকাহ আবুলউলাইয়ার সাজ্জাদাহ্-নাশীন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক (২০২০-২০২২) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের একাডেমিক সাধনা, দর্শনচর্চা ও তাসাউফের আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলের অভিজ্ঞতা তাঁর আলোচনাকে দিয়েছে জ্ঞান, মনন ও আত্মিক অনুধ্যানের এক অনন্য সমন্বয়।

আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শাহ্ নেসার মোস্তফা আবুলউলাইয়ী এবং সদস্য সচিব ডক্টর মো. মাসরুরুল হক তানভীর।

সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ জ্ঞান ও আত্মশুদ্ধির আসরে ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা, শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ, সমাজসেবকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে। জ্ঞানান্বেষী মানুষের নিবিড় মনোযোগ, ভক্তদের আন্তরিকতা এবং আধ্যাত্মিক আবহে সৃষ্ট এক প্রশান্ত পরিবেশে পুরো আয়োজনটি যেন পরিণত হয়েছিল হৃদয় থেকে হৃদয়ে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক মিলনমেলায়।

আলোচনা, মনন ও আত্মিক অনুধ্যানের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উপস্থিত মানুষের হৃদয়ে জেগে ওঠে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক সৌন্দর্য ও আত্মশুদ্ধির প্রত্যয়। বক্তার প্রজ্ঞাময় বাণী এবং উপস্থিত সবার আন্তরিকতায় খানকাহ প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক স্নিগ্ধ মিলনক্ষেত্র। সব মিলিয়ে, ‘ইসলাম ও তাসাউফ’ লেকচার সিরিজের প্রথম আয়োজনটি শুধুমাত্র একটি আলোচনা সভা ছিল না; বরং এটি ছিল আত্মার পরিশুদ্ধি, মানবিক মর্যাদাবোধের জাগরণ এবং কল্যাণমুখী সমাজ নির্মাণের প্রত্যয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ, যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ের আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ের আয়োজন

বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য মাত্র ১৫ মিনিট বাকি ছিল। বর সুসজ্জিত গাড়িতে চড়ে বিয়ের ভেন্যুর দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা পুরো পরিকল্পনাকে বদলে দেয়। বর গুরুতর আহত হলেও বিয়ে পিছিয়ে দেননি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কনের সঙ্গে তিনি জীবনের অন্যতম সেরা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

ঘটনাটি ফ্লোরিডার আলটামন্টে স্প্রিংস এলাকায় ঘটেছে। বর কাপরি ডিরামাস নিজ বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় একটি ট্রাফিক সিগন্যালে সিগন্যাল মেনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনায় ডিরামাসের দুই হাত, পাঁজরের হাড় ও চোয়াল ভেঙে যায়। এর ফলে তার হাঁটুতেও মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে অরল্যান্ডো রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে হবু বরকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান কনে টায়াসিয়া থমাস ও তার স্বজনেরা।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা বরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ঘোষণা করেন। তখন দুজনেই সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে না পেছানোর। সেদিন সন্ধ্যায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বর-কনে পরস্পরের হাত ধরেন। বরের দাদা এই বিয়ের ধর্মীয় আচার পরিচালনা করে তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন।

ভয়াবহ সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে কনে থমাস বলেন, দুর্ঘটনায় হবু স্বামীকে হারানোর আশঙ্কায় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে বর ডিরামাস জানান, দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।

চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেও নবদম্পতির সামনে এখন চরম আর্থিক সংকট। মধুচন্দ্রিমার পরিবর্তে তাদের এখন চিকিৎসার বিশাল খরচ, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির ক্ষতিপূরণ ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যয়ভার সামলাতে লড়াই করতে হচ্ছে। পরিবারটির সহায়তায় ইতোমধ্যে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%