প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের খানকাহ আবুলউলাইয়ার উদ্যোগে ‘ইসলাম ও তাসাউফ’ শীর্ষক বিশেষ লেকচার সিরিজ শুরু হয়েছে, যা ইসলামের আধ্যাত্মিক সাধনা, আত্মশুদ্ধি ও তাসাউফের গভীরতর তাৎপর্য মানুষের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ রোডস্থ শোলাকিয়ার খানকাহ আবুলউলাইয়ায় প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ আধ্যাত্মিক ধারার লেকচার সিরিজটি ইসলামের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য, আত্মিক পরিশুদ্ধি ও মানবজীবনে তাসাউফের তাৎপর্য অনুধাবনের প্রত্যাশায় আয়োজন করা হয়, যা ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে গভীর আগ্রহ ও আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।
প্রথম লেকচারের বিষয় ছিল ‘মানবীয় মর্যাদা; ইসলামী দৃষ্টিকোণ’। প্রধান আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ফিলসফিক্যাল সোসাইটির সাবেক প্রেসিডেন্ট (২০২৩-২০২৬) প্রফেসর ডক্টর শাহ্ কাওসার মুস্তফা মীযানী চিশ্তী আবুলউলাইয়ী বিষয়টির ওপর গভীর ও প্রজ্ঞাময় আলোচনা করেন। তিনি পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের সৃষ্টিগত শ্রেষ্ঠত্ব, আত্মমর্যাদা, নৈতিক দায়িত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
প্রফেসর ডক্টর শাহ্ কাওসার মুস্তফা মীযানী চিশ্তী আবুলউলাইয়ী তাঁর বক্তব্যে মানবজীবনের মর্যাদাকে কেবল সামাজিক স্বীকৃতি কিংবা পার্থিব সম্মানের মানদণ্ডে নয়; বরং মহান আল্লাহর সৃষ্টিরূপে মানুষের অন্তর্নিহিত সম্মান, নৈতিক সৌন্দর্য ও আত্মিক উৎকর্ষের আলোকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম মানুষের মর্যাদাকে এমন এক মহিমান্বিত নৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেখানে বর্ণ, ভাষা, সম্পদ, সামাজিক অবস্থান কিংবা বাহ্যিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ তার মানবিক সত্তার কারণেই সম্মানের অধিকারী।
তাঁর আলোচনায় কোরআনের বাণী, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ এবং ইসলামী দর্শনের গভীরতর তাৎপর্য যেন একই স্রোতে মিলিত হয়ে মানবমর্যাদার এক অনন্য দিগন্ত উন্মোচন করে। আধ্যাত্মিকতা, দর্শন ও নৈতিকতার সমন্বিত ব্যাখ্যায় তিনি তুলে ধরেন; মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব তার বাহ্যিক ঐশ্বর্যে নয়, বরং তার চরিত্রের পবিত্রতা, বিবেকের জাগরণ, ন্যায়বোধ ও স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণের মধ্যে নিহিত। তাঁর বক্তব্যে মানবমর্যাদা হয়ে ওঠে আত্মপরিচয়ের আয়না, নৈতিকতার মাপকাঠি এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
প্রফেসর ডক্টর শাহ্ কাওসার মুস্তফা মীযানী চিশ্তী আবুলউলাইয়ী কিশোরগঞ্জ খানকাহ আবুলউলাইয়ার সাজ্জাদাহ্-নাশীন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক (২০২০-২০২২) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের একাডেমিক সাধনা, দর্শনচর্চা ও তাসাউফের আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলের অভিজ্ঞতা তাঁর আলোচনাকে দিয়েছে জ্ঞান, মনন ও আত্মিক অনুধ্যানের এক অনন্য সমন্বয়।
আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শাহ্ নেসার মোস্তফা আবুলউলাইয়ী এবং সদস্য সচিব ডক্টর মো. মাসরুরুল হক তানভীর।
সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ জ্ঞান ও আত্মশুদ্ধির আসরে ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা, শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ, সমাজসেবকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে। জ্ঞানান্বেষী মানুষের নিবিড় মনোযোগ, ভক্তদের আন্তরিকতা এবং আধ্যাত্মিক আবহে সৃষ্ট এক প্রশান্ত পরিবেশে পুরো আয়োজনটি যেন পরিণত হয়েছিল হৃদয় থেকে হৃদয়ে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক মিলনমেলায়।
আলোচনা, মনন ও আত্মিক অনুধ্যানের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উপস্থিত মানুষের হৃদয়ে জেগে ওঠে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক সৌন্দর্য ও আত্মশুদ্ধির প্রত্যয়। বক্তার প্রজ্ঞাময় বাণী এবং উপস্থিত সবার আন্তরিকতায় খানকাহ প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক স্নিগ্ধ মিলনক্ষেত্র। সব মিলিয়ে, ‘ইসলাম ও তাসাউফ’ লেকচার সিরিজের প্রথম আয়োজনটি শুধুমাত্র একটি আলোচনা সভা ছিল না; বরং এটি ছিল আত্মার পরিশুদ্ধি, মানবিক মর্যাদাবোধের জাগরণ এবং কল্যাণমুখী সমাজ নির্মাণের প্রত্যয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ, যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন