বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪১ এম
সৌদি আরব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পবিত্র নগরী মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার, মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফ অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। তবে, অল্প সময়ের মধ্যেই এই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় জানায়, ‘মক্কা শহরে বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
এর আগে, সৌদি সিভিল ডিফেন্স দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল।
ইসরাইলি সংবাদপত্র হায়োম-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
সোমবার, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার একদিন পরই এসব সতর্কতা জারি করা হয়।
এদিকে, মক্কার দিকে হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ এক্সে লিখেছেন, ‘মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ পুরোনো ও ভিত্তিহীন মিথ্যা, যা আগে বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারে না।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি ভূখণ্ডে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগে এবং বহু মানুষ আহত হয়।
হুথিদের দাবি, তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনে সংঘর্ষও তীব্র হয়েছে।
হুথি নেতা হাজেম আল-আসাদ বলেছেন, ‘সৌদি আরব আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে গেলে ইয়েমেনের প্রতিক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে এবং আরও জোরালো হবে।’
এদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে তা পুরো বিশ্বের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।
এ অবস্থায়, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে হুথিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে ক্রমবর্ধমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক সৌন্দর্যের রানি, ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স খেতাব অর্জনকারী এবং বলিউডের মডেল-অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছেন এবং সন্তানদের থেকে দূরে অবস্থান করছেন। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তার স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। এর ফলে সন্তানরা হয়ে পড়েছে এক অদৃশ্য সাগরের মাঝখানে।
মুম্বাইয়ের আদালতে সেলিনা জেটলি স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক হিংসা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। সন্তানদের পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাকে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি, সামাজিক মাধ্যমে সেলিনা জেটলি তার তিন পুত্র উইনস্টন, বিরাজ ও আর্থারের উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছেন। ওই লেখায়, তিনি নতুন ক্লাসের প্রথম দিনে ছেলেদের পাশে থাকতে না পারার বিষাদ প্রকাশ করেছেন।
অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির দাম্পত্য জীবনে এখনো টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং এর মধ্যে সন্তানদের থেকেও দূরে রয়েছেন। ছেলেদের সঙ্গে কিছু ছবি শেয়ার করে সেলিনা লিখেছেন, “এখানেই কথাগুলো লিখছি। কারণ আমার ছেলেদের কাছে পৌঁছাতে পারছি না। ওদের নতুন ক্লাস শুরু হলো। একটা আলিঙ্গন, একটা চুমু আর তোমাদের মুখে ‘স্কুলে যাচ্ছি মা’ শুনতে পাব না। একসময় তোমাদের স্কুলের বইয়ের মলাট আমি নিজে লাগিয়ে দিতাম। আজ তোমাদের জন্য প্রার্থনা করছি মাত্র।”
ছেলেদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সেলিনা বলেন, “আমার প্রিয় উইনস্টন, বিরাজ ও আর্থার, স্কুলের প্রথম দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা। মা এখনো মনে রেখেছে তোমাদের স্কুলের নানা কাজ। আমরা একসঙ্গে বইগুলোতে মলাট লাগাতাম, আরও কত কী।”
তিনি আরও বলেন, “অস্ট্রিয়ায় স্কুল খোলার এক সপ্তাহ আগে কীভাবে ভালোবেসে তোমাদের জন্য পাউরুটি আর নানা পদ বানিয়েছিলাম, সেটিও মনে আছে। কত সাধারণ ছিল সেই মুহূর্তগুলো। অথচ সেই মুহূর্তগুলোই কত দারুণ আনন্দে ভরা ছিল।”
সন্তানদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো দূর থেকে দেখতে হচ্ছে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সেলিনা জেটলি। তিনি বলেন, “এবার তোমাদের ক্লাসের প্রথম দিনে আমি থাকতে পারব না। ২০২৬ সালের বাকি দিনগুলোও থাকতে পারব না। আমার মন ভেঙে গেছে। বড়দের মধ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, আমি চাই তোমরা বাবা ও মা– দুজনেরই ভালোবাসা পাও।”
সেলিনা জেটলি বলেন, “তোমাদের কখনো মা বা বাবার মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হবে না। তোমরা মা ও বাবা দুজনকেই ভালোবাসতে পারো। মা সবসময় সেটাকে সমর্থন করবে। আমাদের দুজনকে সমানভাবে ভালোবাসার জন্য তোমাদের কখনো অপরাধবোধে ভুগতে হবে না। আমাকে সবসময়ে পাশে পাবে। আমার ভালোবাসায় কোনো শর্ত নেই। কোনো দূরত্বই সেই ভালোবাসা বদলাতে পারবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে কয়েক দফা কমার পর বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সবশেষ ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত ওই দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সবশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী, মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। নতুন কাঠামোর অধীনে গ্রেড অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের জন্য ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকলেও উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে তা কমে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে আসবে। একই সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমানো, চিকিৎসা ও মোবাইল ভাতা বাড়ানোর মতো বেশ কিছু ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, গ্রেড-২০ থেকে ৬ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। গ্রেড-৫-এ এই হার ৪ শতাংশ হবে। গ্রেড-৪ ও ৩-এর জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মূল বেতন বেশি হলেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য পদে ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এদিকে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনা নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যাবে। এ প্রণোদনা প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে ওই সভার কার্যবিবরণী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় বেতন-ভাতা আরও যৌক্তিক করা। তবে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি বাড়ি ভাড়া ভাতা। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা হবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। আর সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে বর্তমানে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে। তবে মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়া শতাংশ হারে কমলেও গ্রেডভেদে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায় ভাতার টাকার অঙ্কও বাড়বে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় ভাতার হার কমিয়ে মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধার ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় এ সময় কমিয়ে ৮ বছর করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ছয় বছর একই গ্রেডে চাকরির শর্ত থাকছে। পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ‘ব্লকড পদ’ হিসাবে ঘোষিত, সেসব পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পাবেন। প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয়বার পরবর্তী আট বছর চাকরির পর এ সুবিধা পাওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।
চিকিৎসা ভাতায়ও বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীরা পাবেন ৩ হাজার টাকা। ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সিদের জন্য তা হবে ৪ হাজার টাকা। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা ভাতা বাড়ছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা মাসে ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা পাবেন। প্রথমবার সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বর্তমানে শুধু প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পান। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি ছোট ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে; তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামোও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নন-কমব্যাট্যান্ট (এনরোল্ড) বা এনসি (ই) ও সমতুল্য পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার টাকা এবং মেজর জেনারেল ও সমপদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদকে গ্রেড-২ এবং কর্নেল ও সমপদকে গ্রেড-৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বিমানবাহিনীর ফ্লাইং পে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কমান্ড, স্টাফ, টিচিং, কোয়ালিফিকেশন, ডিস্টার্বেন্স ও বিশেষজ্ঞ বেতন ১০ শতাংশ করে এবং দক্ষতা, নিযুক্তি, প্যারাসুট, কমান্ডো/স্নাইপার, স্কুবা ডাইভিং ও সদাচরণ বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জরিপ ভাতা বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ।
অপরদিকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ৮১ ধরনের ভাতা পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি। এর মধ্যে অফিসার ও সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ভাতা, শিক্ষকতা ভাতাসহ-বেশিরভাগ ভাতা বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। জরিপ ভাতার পরিমাণ বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ। তবে বাড়ি ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাড়া, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ হবে। সরকারের হিসাবে নতুন কাঠামোয় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এছাড়া নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের হাতের আঙুল ভেঙে যায়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উত্তর পাশে হলপাড়ায় অবস্থিত পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি বিশেষ দল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের সময় জুয়াড়িরা উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৪ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। আসর থেকে নগদ টাকা, তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন—পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে জুয়া প্রতিরোধ আইনে ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।" চার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক দুজনকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ