০৯:৩২ পি.এম
বাঁশপাতা থেকে পরিবেশবান্ধব চা তৈরির উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। এ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে এক লাখ টাকার ফান্ড প্রদান করা হবে।
বিজয়ী দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মাহিদ ও আজিজ। তাঁরা যৌথভাবে বাঁশপাতাকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনের ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করেন।
জানা যায়, বাঁশপাতার সম্ভাবনাময় ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে এ উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন মাহিদ। পরবর্তী সময়ে সহপাঠী আজিজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন তিনি। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা বুটক্যাম্পে অংশ নেন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে সারা দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ইউনিলিভার, গ্রিন ভয়েস, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিজয়ী শিক্ষার্থীরা।
নিজেদের উদ্যোগ সম্পর্কে মাহিদ বলেন, ‘আমরা হঠাৎ করেই ভাবলাম, বাংলাদেশে বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করা যায় কি না। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আজিজকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন করি। পরে নির্বাচিত হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নিই এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাঁশপাতা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এতে সিলিকা, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমরা বাঁশপাতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব একটি চা বাজারে নিয়ে আসতে চাই।’
উদ্যোক্তাদের দাবি, বাঁশপাতার চা স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প পানীয় হতে পারে। তবে এর পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগিতা নির্ধারণে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকার ফান্ড পাওয়ার সুযোগকে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন মাহিদ ও আজিজ। তাঁদের প্রত্যাশা, যথাযথ গবেষণা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁশপাতার মতো সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার তৈরি করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন