প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পবিত্র নগরী মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার, মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফ অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। তবে, অল্প সময়ের মধ্যেই এই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় জানায়, ‘মক্কা শহরে বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
এর আগে, সৌদি সিভিল ডিফেন্স দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল।
ইসরাইলি সংবাদপত্র হায়োম-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
সোমবার, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার একদিন পরই এসব সতর্কতা জারি করা হয়।
এদিকে, মক্কার দিকে হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ এক্সে লিখেছেন, ‘মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ পুরোনো ও ভিত্তিহীন মিথ্যা, যা আগে বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারে না।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি ভূখণ্ডে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগে এবং বহু মানুষ আহত হয়।
হুথিদের দাবি, তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনে সংঘর্ষও তীব্র হয়েছে।
হুথি নেতা হাজেম আল-আসাদ বলেছেন, ‘সৌদি আরব আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে গেলে ইয়েমেনের প্রতিক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে এবং আরও জোরালো হবে।’
এদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে তা পুরো বিশ্বের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।
এ অবস্থায়, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে হুথিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে ক্রমবর্ধমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন