বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২২ পি.এম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ “পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র ও তৃতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, “পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ করা কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক অঙ্গীকার। মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তার পক্ষে সোচ্চার থাকা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
উপাচার্য দেশে ইভটিজিং, অনলাইন সাইবার হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কেবল আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালাই যথেষ্ট নয়, বরং মানসিকতার পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, যেখানে কোনো নারী, শিক্ষার্থী বা কর্মী ভয়ের মধ্যে থাকবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেরোবি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ তাজুল ইসলাম। বেরোবি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াছ প্রামানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউএন ওমেন বাংলাদেশ এর প্রোগ্রাম এনালিস্ট তশিবা কাশেম, আইন ও শালিস কেন্দ্রের উপদেষ্টা মুবারক মোহাম্মদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসনে সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশি উদ্ভাবন, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও সৃজনশীল শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে মেধাস্বত্ব (আইপি) সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের উদ্ভাবন, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও সৃজনশীল শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩ এবং শিল্প নকশা আইন, ২০২৩ প্রণয়নের মাধ্যমে মেধাস্বত্বের আইনি কাঠামো আধুনিকায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যমান ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ এবং কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর আওতায় উদ্ভাবন, ব্র্যান্ড ও সৃজনশীল সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শিল্পমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী ও অঞ্চলভিত্তিক পণ্যের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় সেগুলোকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন ও সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। জিআই লোগোর ব্যবহার এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।
তিনি আরও জানান, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও শিল্প নকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) কার্যক্রম ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মেধাস্বত্ব নিবন্ধনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ওষুধ, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক, হস্তশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং সৃজনশীল শিল্পসহ উদীয়মান রপ্তানি খাতে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও ব্র্যান্ডিংয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে স্থানীয় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারে ‘ট্রিপস’ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।
মেধাস্বত্ব সুরক্ষার ইতিবাচক ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ায় দেশের ব্র্যান্ড পরিচিতি ও বিদেশি বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও শিল্প নকশার নিবন্ধন দেশীয় উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। এর ফলে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মূল্য সংযোজন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ছে।
তিনি বলেন, জিআই নিবন্ধিত পণ্যের উৎপাদক ও উদ্যোক্তারা বেশি বাজারমূল্য এবং নতুন রপ্তানি সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া, প্লাস্টিক ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উদ্ভাবননির্ভর শিল্পায়নের সম্ভাবনা বেড়েছে, যা টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার মেধাস্বত্ব সুরক্ষাকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তুলতে আইন সংস্কার, জিআই নিবন্ধন, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক সুরক্ষা, ব্র্যান্ড উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনে সহায়তার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : খুলনার ভৈরব নদে ফেরি-ট্রলারের সংঘর্ষের ফলে নিখোঁজ যুবক রাকিব খানকে উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে নৌবাহিনী, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার বিভাগের সদস্যরা।
নিখোঁজ যুবক রাকিব রূপসা উপজেলার সেনের বাজার এলাকার হাজী গ্রামের বাসিন্দা বাকের খানের ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভৈরব নদীতে ফেরি ও ট্রলারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ট্রলারটি মাঝ নদীতে ডুবে যায়। ট্রলারে উপস্থিত সকল যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাকিব নিখোঁজ রয়েছেন।
নৌ পুলিশ রূপসা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বাসস’কে জানিয়েছেন, "রাত ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আমরা রাকিবের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাই। এরপর আজ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে আবারও অভিযান শুরু করা হয়েছে।" এই অভিযানে নৌ পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং নৌ বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মাসুদ সরদার বলেছেন, "রাতভর অভিযান চালানোর পরও রাকিবকে খুঁজে না পাওয়ায়, আজ সকালে তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে ডুবরীর একটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।"
এছাড়া, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থানও এখনও জানা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এই তথ্য প্রদান করেন। সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, ভারতের ১৫৭তম এবং পাকিস্তানের ১৫৩তম। এর মানে হল, ওই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় কিছুটা অগ্রবর্তী।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দেশের সঙ্গে তুলনার ভিত্তিতে নয়, বরং সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ লক্ষ্যে সরকার স্বাধীন ও শক্তিশালী জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সম্প্রচার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অপতথ্য, গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য যাচাই এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিকতার পেশাগত মান, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি শক্তিশালী, বহুমাত্রিক ও জনকল্যাণমুখী গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং গণমাধ্যমের স্বাধীন, নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার বিকাশের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ৫ ব্যক্তি প্রথমে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে প্রবেশ করেন। এরপর তল্লাশির নামে ভয়ভীতি দেখালে তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়।
তখন ওই প্রতারকরা নিজেদের ‘সাংবাদিক’ দাবি করে বাসায় ‘অসামাজিক কার্যকলাপ চলে’ বলে অপবাদ দেয় এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তিন প্রতারক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হালিশহর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন সাখাওয়াত হোসেন (৪০) ও মো. মাইনউদ্দিন (৪৬)। মামলার অপর তিন পলাতক আসামি হলেন মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) এবং বাবুল (৩৬)।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযুক্তরা প্রথমে পুলিশ পরিচয়ে বাসায় প্রবেশ করে। পরে নারী সদস্যরা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বললে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওয়াকিটকিসহ মোবাইলফোন জব্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৫৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী তার দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাসায় অবস্থান করছিলেন। পুরুষ সদস্যরা কাজের সূত্রে বাইরে থাকার সুযোগে ওই পাঁচ ব্যক্তি বাসায় ঢুকে নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি শুরু করেন।
তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। তখন নিজেদের ‘সাংবাদিক’ দাবি করে ওই চক্রটি জানায়, ঘরে অসামাজিক কার্যকলাপের খবর পেয়ে তারা এসেছেন।
এক পর্যায়ে তারা মুঠোফোনে ওই তিন নারীর ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভুক্তভোগী নারী বাসাটি নিজের বলে পরিচয় দিলেও চক্রটি হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ঘরে ভাঙচুর চালান। এ সময় নারীদের চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে চক্রটি তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে সাখাওয়াত ও মাইনউদ্দিনকে আটক করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ