প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশি উদ্ভাবন, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও সৃজনশীল শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে মেধাস্বত্ব (আইপি) সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের উদ্ভাবন, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও সৃজনশীল শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩ এবং শিল্প নকশা আইন, ২০২৩ প্রণয়নের মাধ্যমে মেধাস্বত্বের আইনি কাঠামো আধুনিকায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যমান ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ এবং কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর আওতায় উদ্ভাবন, ব্র্যান্ড ও সৃজনশীল সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শিল্পমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী ও অঞ্চলভিত্তিক পণ্যের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় সেগুলোকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন ও সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। জিআই লোগোর ব্যবহার এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।
তিনি আরও জানান, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও শিল্প নকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) কার্যক্রম ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মেধাস্বত্ব নিবন্ধনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ওষুধ, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক, হস্তশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং সৃজনশীল শিল্পসহ উদীয়মান রপ্তানি খাতে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও ব্র্যান্ডিংয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে স্থানীয় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারে ‘ট্রিপস’ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।
মেধাস্বত্ব সুরক্ষার ইতিবাচক ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ায় দেশের ব্র্যান্ড পরিচিতি ও বিদেশি বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও শিল্প নকশার নিবন্ধন দেশীয় উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। এর ফলে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মূল্য সংযোজন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ছে।
তিনি বলেন, জিআই নিবন্ধিত পণ্যের উৎপাদক ও উদ্যোক্তারা বেশি বাজারমূল্য এবং নতুন রপ্তানি সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া, প্লাস্টিক ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উদ্ভাবননির্ভর শিল্পায়নের সম্ভাবনা বেড়েছে, যা টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার মেধাস্বত্ব সুরক্ষাকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তুলতে আইন সংস্কার, জিআই নিবন্ধন, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক সুরক্ষা, ব্র্যান্ড উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনে সহায়তার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন