বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৩ পি.এম
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : খুলনার ভৈরব নদে ফেরি-ট্রলারের সংঘর্ষের ফলে নিখোঁজ যুবক রাকিব খানকে উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে নৌবাহিনী, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার বিভাগের সদস্যরা।
নিখোঁজ যুবক রাকিব রূপসা উপজেলার সেনের বাজার এলাকার হাজী গ্রামের বাসিন্দা বাকের খানের ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভৈরব নদীতে ফেরি ও ট্রলারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ট্রলারটি মাঝ নদীতে ডুবে যায়। ট্রলারে উপস্থিত সকল যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাকিব নিখোঁজ রয়েছেন।
নৌ পুলিশ রূপসা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বাসস’কে জানিয়েছেন, "রাত ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আমরা রাকিবের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাই। এরপর আজ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে আবারও অভিযান শুরু করা হয়েছে।" এই অভিযানে নৌ পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং নৌ বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মাসুদ সরদার বলেছেন, "রাতভর অভিযান চালানোর পরও রাকিবকে খুঁজে না পাওয়ায়, আজ সকালে তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে ডুবরীর একটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।"
এছাড়া, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থানও এখনও জানা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এই তথ্য প্রদান করেন। সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, ভারতের ১৫৭তম এবং পাকিস্তানের ১৫৩তম। এর মানে হল, ওই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় কিছুটা অগ্রবর্তী।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দেশের সঙ্গে তুলনার ভিত্তিতে নয়, বরং সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ লক্ষ্যে সরকার স্বাধীন ও শক্তিশালী জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সম্প্রচার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অপতথ্য, গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য যাচাই এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিকতার পেশাগত মান, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি শক্তিশালী, বহুমাত্রিক ও জনকল্যাণমুখী গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং গণমাধ্যমের স্বাধীন, নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার বিকাশের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ৫ ব্যক্তি প্রথমে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে প্রবেশ করেন। এরপর তল্লাশির নামে ভয়ভীতি দেখালে তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়।
তখন ওই প্রতারকরা নিজেদের ‘সাংবাদিক’ দাবি করে বাসায় ‘অসামাজিক কার্যকলাপ চলে’ বলে অপবাদ দেয় এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তিন প্রতারক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হালিশহর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন সাখাওয়াত হোসেন (৪০) ও মো. মাইনউদ্দিন (৪৬)। মামলার অপর তিন পলাতক আসামি হলেন মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) এবং বাবুল (৩৬)।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযুক্তরা প্রথমে পুলিশ পরিচয়ে বাসায় প্রবেশ করে। পরে নারী সদস্যরা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বললে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওয়াকিটকিসহ মোবাইলফোন জব্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৫৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী তার দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাসায় অবস্থান করছিলেন। পুরুষ সদস্যরা কাজের সূত্রে বাইরে থাকার সুযোগে ওই পাঁচ ব্যক্তি বাসায় ঢুকে নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি শুরু করেন।
তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। তখন নিজেদের ‘সাংবাদিক’ দাবি করে ওই চক্রটি জানায়, ঘরে অসামাজিক কার্যকলাপের খবর পেয়ে তারা এসেছেন।
এক পর্যায়ে তারা মুঠোফোনে ওই তিন নারীর ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভুক্তভোগী নারী বাসাটি নিজের বলে পরিচয় দিলেও চক্রটি হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ঘরে ভাঙচুর চালান। এ সময় নারীদের চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে চক্রটি তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে সাখাওয়াত ও মাইনউদ্দিনকে আটক করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে শিশু এবং তার শেখার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও, প্রতিটি শিশুর কার্যকর শেখা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তব জীবনের উপযোগী সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শিশুরা কী শিখছে, কতটা শিখছে এবং সেই শেখা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন করা হবে।
যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধুমাত্র বই পড়ানো নয়, বরং প্রতিটি শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করা। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলা ও যোগাযোগের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালু করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু শিখবে, নিজের কথা বলতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।’
শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ হাজারের অধিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসন, শ্রেণি কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-ভাবনা ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে একটি কার্যকর, মানসম্মত ও শিশুকেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে স্বপ্ন জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু শুধু বিদ্যালয়ে যাবে না, কার্যকরভাবে শিখবে। শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠাই হবে আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় অর্জন।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক, ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের সব জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে আরো তীব্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি কেউ রাশিয়াকে গ্রাস করার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে।
পুতিন কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে অংশগ্রহণের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে তেহরানের প্রতি মস্কোর সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন।
তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পুতিন বলেন, “আমরা যাদের ভালোভাবে চিনি এবং সাধারণভাবে যাদের ওপর আস্থা রাখি, তাদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”জানাচ্ছে, ইউক্রেন গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও অন্যান্য অবকাঠামোতে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
পুতিন দাবি করেন, গত ৪০ দিনে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান।
এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা বৃদ্ধি করেছে। নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানোর পাশাপাশি রাজধানী কিয়েভ এবং কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, রাশিয়ার হামলার ফলে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি আর্থিক সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়ার মন্তব্যের জবাবে পুতিন ইউক্রেনের ড্রোন হামলাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কূটনৈতিক গোয়েন্দা তৎপরতা
পুতিন সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের যোগাযোগ ‘কিছুটা হলেও স্থগিত’ রয়েছে বলে জানান তিনি।
র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের কয়েক দিন পর উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে পুতিনের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে আলোচনার পথে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে চলতি মাসের শেষ দিকে রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা নিয়োগ বা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পুতিন এ ধরনের আশঙ্কাকে ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা
এসসিও বৈঠকের ফাঁকে পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি জানান, ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের ‘সাহস ও দৃঢ়তার’ প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
পুতিন পেজেশকিয়ানকে বলেন, “এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।”
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই তেহরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে মস্কো। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য রাশিয়া ইরানকে দিয়েছে বলেও
উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে।
হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁতভাঙা জবাব
এর আগে রাশিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পুতিন মেরুভালুক ও ঘাতক তিমির উদাহরণ দিয়েছিলেন। পরে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো। যদি কেউ খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।
পুতিন আরো বলেন, “এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তার জবাব দিতে প্রস্তুত।”
একই সঙ্গে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে তারাই আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে চাইছে, ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে।” তবে এরপরই তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ