ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবক মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মিকে নতুন করে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উর্মি ইতিমধ্যে অন্য একটি মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ধানমন্ডি মডেল থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদিয়া আক্তার সেতু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: জানা গেল মার্কিন নির্বাচনে হিজাবি নারীদের পরিচয়

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে ধানমন্ডি ৩ নম্বর সড়কে ল্যাবএইড হাসপাতালের বিপরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। এ সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় মো. সজিব ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক পিঠ ও কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারিকুল ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় খাদিজা আক্তার উর্মির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় এই মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের চেষ্টা চলছে: নুর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে ইরান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫০ এম


‘যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে ইরান’

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। বরং এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে, এমন দাবি করেছেন দেশটির আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাভিয়ান।

নাবাভিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিকভাবে কিছু পোস্টে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করা, দেশটিকে বিভক্ত করা, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার উৎখাত করা এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন করা।

তবে তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরোধ এবং সামরিক অভিযানের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই আইনপ্রণেতা জানান, এ যুদ্ধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এছাড়া, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার পেছনে যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাবাভিয়ান আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা তৈরি করেছে। তার মতে, এই যুদ্ধ ইরানকে ‘বৈশ্বিক পরাশক্তি’তে পরিণত করেছে।

যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ভিন্ন কোনো বয়ান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, পশ্চিমাপন্থি ও ভীতসন্ত্রস্ত ব্যক্তিদের যেন যুদ্ধের জয়-পরাজয়ের চিত্র পাল্টে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া না হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ লাভ করার পর নাবাভিয়ান এসব মন্তব্য করেন।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রী স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই-অসহায় স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর কি কেউ নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খায়রুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


স্ত্রী স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই-অসহায় স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর কি কেউ নেই

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই হাট-গাইবান্ধা সড়কের বটতলীর একটু আগেই মানবিকতার এক করুণ চিত্র! একটি অসহায় পরিবার যেন নীরবে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
পরিবারটির স্ত্রী স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। অর্থাভাবে তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে না পরিবারটি। চোখের সামনে প্রিয় মানুষটির এমন অসহায় অবস্থা দেখেও কিছু করার সামর্থ্য নেই স্বামীর। প্রয়োজন চিকিৎসা, প্রয়োজন মানুষের একটু সহমর্মিতা ও সহযোগিতা।
প্রশ্ন হলো, সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজরে কি আসবে না এই অসহায় পরিবারটির কষ্ট?
সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন—দয়া করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। সরকারি চিকিৎসা সহায়তা কিংবা আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করে অসহায় নারীটির চিকিৎসার সুযোগ করে দিন।
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। আজ হয়তো তাদের প্রয়োজন আপনার সামান্য সহযোগিতা, আপনার একটু মানবিকতা।
আসুন, আমরা সবাই মিলে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াই। একটি জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসি।
স্থান: বটতলীর একটু আগে, নাকাই হাট-গাইবান্ধা সড়ক, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।
#মানবিক_আবেদন #অসহায়_পরিবার #গোবিন্দগঞ্জ #নাকাইহাট #গাইবান্ধা #সমাজসেবা_অধিদপ্তর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন ৩ সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


সরকার ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন ৩ সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

দেশে সার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপন করা হবে।

শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সংস্থাটি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিসিআইসি জানিয়েছে, তাদের অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া এবং দুটি নন-ইউরিয়া কারখানা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ছিল। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। ফলে অধিকাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।

বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের জন্য ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারের জন্য ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারের জন্য ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা

দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণের জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারখানা স্থাপিত হলে দেশের ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা রাষ্ট্রীয় বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’

চট্টগ্রামে বছরে চার লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ

ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’

পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা

নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ পর্বে ও উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ: উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ: উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল বাজার

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের এই তিন মাস পেঁয়াজের বাজারে অস্বস্তির সময়। দশক ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে এ সময় আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলে দাম দ্রুত বাড়ে। তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। গত পাঁচ বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন ৫১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা লাভজনক দাম পাচ্ছেন। উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গত চার বছরের মধ্যে এই সময়ে পেঁয়াজের খুচরা মূল্য সবচেয়ে কম পর্যায়ে নেমে এসেছে।

কৃষক এবং কৃষিবিদগণ জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগে ৯ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ, কৃষি বিভাগের তদারকি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রোগবালাই কম হওয়ায় এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, "এবার পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে, দামও স্থিতিশীল রয়েছে।"

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ছিল প্রায় ২৫ লাখ ১৭ হাজার টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৪৭ হাজার টনে। উৎপাদন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরো বেড়ে ২৯ লাখ ১৭ হাজার টন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ টন। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৩০ টন। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১৩ লাখ ২ হাজার ৫৩৩ টন, যা শতাংশের হিসাবে ৫১ দশমিক ৩১।

কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়টি শুধুমাত্র উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। দেশের মোট চাহিদা, বীজ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার, সংরক্ষণে ক্ষতি এবং মৌসুমভিত্তিক সরবরাহের হিসাবও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন মৌসুমে দাম পড়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশীয় উৎপাদনের সুফল কৃষক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই পাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ২ হাজার ২৯ টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫১ হাজার টনে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি ৬ লাখ ৫ হাজার টনে নেমে আসে। চাহিদা পূরণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আনা হয় ৪ লাখ ৭৪ হাজার টনের মতো। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি নেমে এসেছে মাত্র ৮৬ হাজার ৩৯৮ টনে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনই হয়নি, চাহিদা পূরণ হচ্ছে নিজেদের জোগান দিয়েই।

দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বছরে প্রায় ৩০ লাখ টনের মতো পণ্যটির চাহিদা রয়েছে। সংরক্ষণ ও পরিবহনজনিত অপচয় বা পোস্ট হারভেস্ট লস বিবেচনায় নিলে এ চাহিদা দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টনে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে পেঁয়াজের পোস্ট হারভেস্ট লস ২৫ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় কমানোও দেশের পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে আমদানি বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বাজারের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার উৎপাদন মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই আমদানি নীতি নির্ধারণে কৃষকের ন্যায্যমূল্য এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা দুটিকেই গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর দেশে সংরক্ষিত পেঁয়াজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৪ টনে। সংরক্ষণে কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

পেঁয়াজের একটি বড় সমস্যা হলো সংরক্ষণকালীন পচন এবং ওজন কমে যাওয়া। প্রচলিত পদ্ধতিতে যথাযথ বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হতে পারে। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও মৌসুমের পরবর্তী সময়ে বাজারে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা মোকাবেলায় কৃষক পর্যায়ে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের চার হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হয়। গত অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে চার হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে বিতরণ করা হয় ১৫ হাজার মেশিন। এর বাইরে অন্য কর্মসূচির আওতায় আরো ৩ হাজার ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় তিন লাখ টন।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, "সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ইতোমধ্যে নতুন এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত ওই নিয়মে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে দেশ পেঁয়াজে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের উৎপাদন এবং মজুতের নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ, কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভরতা কমানোর বাস্তব সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই অগ্রগতিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দেওয়া। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান, ভোক্তা যেন সাশ্রয়ী দামে পেঁয়াজ কিনতে পারেন এবং সংরক্ষণের অভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ নষ্ট না হয়- এই তিন লক্ষ্য পূরণ করতে পারলেই পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সুফল দেশের মানুষ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%