ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

স্ত্রী স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই-অসহায় স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর কি কেউ নেই


স্ত্রী স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই-অসহায় স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর কি কেউ নেই

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই হাট-গাইবান্ধা সড়কের বটতলীর একটু আগেই মানবিকতার এক করুণ চিত্র! একটি অসহায় পরিবার যেন নীরবে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
পরিবারটির স্ত্রী স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। অর্থাভাবে তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে না পরিবারটি। চোখের সামনে প্রিয় মানুষটির এমন অসহায় অবস্থা দেখেও কিছু করার সামর্থ্য নেই স্বামীর। প্রয়োজন চিকিৎসা, প্রয়োজন মানুষের একটু সহমর্মিতা ও সহযোগিতা।
প্রশ্ন হলো, সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজরে কি আসবে না এই অসহায় পরিবারটির কষ্ট?
সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন—দয়া করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। সরকারি চিকিৎসা সহায়তা কিংবা আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করে অসহায় নারীটির চিকিৎসার সুযোগ করে দিন।
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। আজ হয়তো তাদের প্রয়োজন আপনার সামান্য সহযোগিতা, আপনার একটু মানবিকতা।
আসুন, আমরা সবাই মিলে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াই। একটি জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসি।
স্থান: বটতলীর একটু আগে, নাকাই হাট-গাইবান্ধা সড়ক, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।
#মানবিক_আবেদন #অসহায়_পরিবার #গোবিন্দগঞ্জ #নাকাইহাট #গাইবান্ধা #সমাজসেবা_অধিদপ্তর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন ৩ সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


সরকার ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন ৩ সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

দেশে সার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপন করা হবে।

শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সংস্থাটি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিসিআইসি জানিয়েছে, তাদের অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া এবং দুটি নন-ইউরিয়া কারখানা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ছিল। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। ফলে অধিকাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।

বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের জন্য ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারের জন্য ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারের জন্য ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা

দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণের জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারখানা স্থাপিত হলে দেশের ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা রাষ্ট্রীয় বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’

চট্টগ্রামে বছরে চার লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ

ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’

পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা

নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ পর্বে ও উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ: উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ: উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল বাজার

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের এই তিন মাস পেঁয়াজের বাজারে অস্বস্তির সময়। দশক ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে এ সময় আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলে দাম দ্রুত বাড়ে। তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। গত পাঁচ বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন ৫১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা লাভজনক দাম পাচ্ছেন। উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গত চার বছরের মধ্যে এই সময়ে পেঁয়াজের খুচরা মূল্য সবচেয়ে কম পর্যায়ে নেমে এসেছে।

কৃষক এবং কৃষিবিদগণ জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগে ৯ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ, কৃষি বিভাগের তদারকি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রোগবালাই কম হওয়ায় এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, "এবার পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে, দামও স্থিতিশীল রয়েছে।"

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ছিল প্রায় ২৫ লাখ ১৭ হাজার টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৪৭ হাজার টনে। উৎপাদন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরো বেড়ে ২৯ লাখ ১৭ হাজার টন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ টন। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৩০ টন। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১৩ লাখ ২ হাজার ৫৩৩ টন, যা শতাংশের হিসাবে ৫১ দশমিক ৩১।

কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়টি শুধুমাত্র উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। দেশের মোট চাহিদা, বীজ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার, সংরক্ষণে ক্ষতি এবং মৌসুমভিত্তিক সরবরাহের হিসাবও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন মৌসুমে দাম পড়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশীয় উৎপাদনের সুফল কৃষক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই পাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ২ হাজার ২৯ টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫১ হাজার টনে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি ৬ লাখ ৫ হাজার টনে নেমে আসে। চাহিদা পূরণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আনা হয় ৪ লাখ ৭৪ হাজার টনের মতো। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি নেমে এসেছে মাত্র ৮৬ হাজার ৩৯৮ টনে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনই হয়নি, চাহিদা পূরণ হচ্ছে নিজেদের জোগান দিয়েই।

দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বছরে প্রায় ৩০ লাখ টনের মতো পণ্যটির চাহিদা রয়েছে। সংরক্ষণ ও পরিবহনজনিত অপচয় বা পোস্ট হারভেস্ট লস বিবেচনায় নিলে এ চাহিদা দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টনে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে পেঁয়াজের পোস্ট হারভেস্ট লস ২৫ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় কমানোও দেশের পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে আমদানি বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বাজারের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার উৎপাদন মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই আমদানি নীতি নির্ধারণে কৃষকের ন্যায্যমূল্য এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা দুটিকেই গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর দেশে সংরক্ষিত পেঁয়াজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৪ টনে। সংরক্ষণে কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

পেঁয়াজের একটি বড় সমস্যা হলো সংরক্ষণকালীন পচন এবং ওজন কমে যাওয়া। প্রচলিত পদ্ধতিতে যথাযথ বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হতে পারে। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও মৌসুমের পরবর্তী সময়ে বাজারে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা মোকাবেলায় কৃষক পর্যায়ে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের চার হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হয়। গত অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে চার হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে বিতরণ করা হয় ১৫ হাজার মেশিন। এর বাইরে অন্য কর্মসূচির আওতায় আরো ৩ হাজার ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় তিন লাখ টন।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, "সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ইতোমধ্যে নতুন এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত ওই নিয়মে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে দেশ পেঁয়াজে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের উৎপাদন এবং মজুতের নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ, কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভরতা কমানোর বাস্তব সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই অগ্রগতিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দেওয়া। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান, ভোক্তা যেন সাশ্রয়ী দামে পেঁয়াজ কিনতে পারেন এবং সংরক্ষণের অভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ নষ্ট না হয়- এই তিন লক্ষ্য পূরণ করতে পারলেই পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সুফল দেশের মানুষ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলকে দেওয়া সাহসী সংবর্ধনার ঐতিহাসিক মানপত্রের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ এম


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলকে দেওয়া সাহসী সংবর্ধনার ঐতিহাসিক মানপত্রের সন্ধান

রেদওয়ান আহমদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিসত্তা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাহিত্যকর্ম সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তবে সেই সময়ের কিছু অংশের বিরোধিতা ও বিদ্বেষের সম্মুখীনও হয়েছিল। ১৯২৯ সালে চট্টগ্রামের কাট্টলিতে কবিকে সংবর্ধনা জানিয়ে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন মাওলানা তমিজুর রহমান। কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি রচনা করেন ২৬ পঙ্ক্তির একটি কাব্যিক মানপত্র।

দীর্ঘ ৯৭ বছর পর কাজী নজরুল ইসলামকে দেওয়া ঐতিহাসিক মানপত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৯২৯ সালে কাট্টলি ইউনিয়ন ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবিকে এই মানপত্রটি প্রদান করা হয়েছিল। সম্প্রতি মানপত্রটির একটি ফটোকপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নজরুল গবেষণা কেন্দ্রে সংরক্ষিত হয়েছে।

মানপত্রটিতে নজরুলকে ‘বিশ্বকবি’, ‘অগ্নিকবি’, ‘বঙ্গরবি’ ও ‘অগ্নিবীণার বুলবুলি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার তুলনা করা হয়েছে ফারসি সাহিত্যের বিখ্যাত কবি উরফি, সাদী, জামি, ফেরদৌসী, আনওয়ারি ও খাকানীর সঙ্গে। বাংলায় নজরুলের জন্মকে ‘বাঙালির ভাগ্য’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মানপত্রটি রচনা করেছিলেন কাট্টলি ইউনিয়ন ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি মাওলানা তমিজুর রহমান, যিনি চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বহু ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, অনুবাদক ও ইসলামি গবেষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর একাধিক গ্রন্থ ও অভিধান প্রণয়নের কৃতিত্ব রয়েছে। এই ২৬ পঙ্ক্তির কাব্যিক মানপত্রের শিরোনাম ছিল ‘অগ্নিকবি কাজী নজরুল ইসলামের খায়রে-মকদম উপলক্ষে’।

মাওলানা তমিজুর রহমানের নাতি সারওয়ার আলম কায়সার বাসসকে জানিয়েছেন, নজরুল তাঁর দাদার আমন্ত্রণে কাট্টলি ইউনিয়ন ক্লাবে এসেছিলেন। ১৯২৯ সালের ১১ জানুয়ারি কাট্টলির নাজির বাড়ির মাঠে কবিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে মানপত্রটি কাজী নজরুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলেছিল, যার সভাপতিত্ব করেন তমিজুর রহমান। সঞ্চালনা করেন মাহমুদুন্নবী চৌধুরী, যিনি যুক্তফ্রন্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী মাহমুদুন্নবী চৌধুরীর বাবা। তিনি অনুষ্ঠানে মানপত্রটি আবৃত্তি করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন বাসসকে জানিয়েছেন, মানপত্রের কবিতাটি শুনে নজরুল এতটাই আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাওলানা তমিজুর রহমানকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় তাঁকে ইরানের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তুলনা করেন।

অধ্যাপক ফরিদুদ্দিন জানান, ওই সংবর্ধনা সভায় নজরুলকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে তাঁকে বাংলার ‘শ্রেষ্ঠকবি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, “এই সভা বাঙ্গালার ‘শ্রেষ্ঠ-কবি’ কাজী নজরুল ইসলাম সাহেবকে বাঙ্গালার তরুণ মুসলিম নেতা বলিয়া স্বীকার করিতেছে এবং যে সকল স্বার্থপর নেতা ও সংবাদপত্র তাঁহার বিরুদ্ধে নানা অমূলক আন্দোলন চালাইতেছেন এই সভা তাঁদের তীব্র নিন্দা করিতেছে। কলিকাতা নগরে নজরুল ইসলামের সম্বর্ধনায় যে আয়োজন হইতেছে এবং এ সম্পর্কে যে সমস্ত প্রস্তাব গৃহীত হইয়াছে এই সভা তাহার পূর্ণ সমর্থন করিতেছে।”

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আহমদ সাকি ৯৭ বছর আগের এই ছাপা মানপত্রটির সন্ধান প্রথম পান। প্রায় তিন দশক আগে মাওলানা তমিজুর রহমানের বড় ছেলে শামসুল আলমের কাছ থেকে তিনি এটি সংগ্রহ করেন। পরে গত ৪ জুলাই চট্টগ্রামের তরুণ লেখক ও গবেষক শামস সাইমুম মানপত্রটির একটি কপি সংগ্রহ করে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন।

সাইফুদ্দিন সাকি জানিয়েছেন, মানপত্রটি ছাপা হয়েছিল চট্টগ্রামের এসলামাবাদ প্রেস থেকে। এই প্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাওলানা আজিজুর রহমান। মানপত্রের গায়ে ছাপার সাল ও মাস হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ‘জানুয়ারি, ১৯২৯’। তবে এর মূল কপিটির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অধ্যাপক ফরিদুদ্দিন বলেন, তমিজুর রহমানের এই মানপত্রের কথা বাংলাদেশের নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের ‘নজরুলের স্মৃতিধন্য চট্টগ্রাম’ বইতেও উল্লেখ নেই। এতদিন এটি পাঠক ও গবেষকদের নজরের আড়ালে ছিল।

তিনি জানান, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে প্রথম মানপত্রটির খোঁজ পান তিনি। তবে তখন এর কোনো কপি সংগ্রহ করতে পারেননি। পরে বিষয়টি তিনি শামস সাইমুমকে অবহিত করেন।

শামস সাইমুম বাসসকে বলেন, কর্নেলহাট এলাকায় থাকার সময় স্থানীয় লোকজনের মুখে মানপত্রটির প্রথম দুই-চারটি লাইন শুনেছেন তিনি। এলাকার প্রায় সবারই সেগুলো মুখস্থ ছিল। কিন্তু পরের অংশটুকু কারও জানা ছিল না। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সাইফুদ্দিন সাকির কাছে মানপত্রটির সন্ধান পান তিনি। পরে এর একটি কপি অধ্যাপক ফরিদুদ্দিনের কাছে তুলে দেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে তিনিই এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে পারবেন—এমন বিবেচনা থেকেই কপিটি তাঁর কাছে দেওয়া হয়।

অধ্যাপক ফরিদুদ্দিনের মতে, মাওলানা তমিজুর রহমানের এই মানপত্র ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তিনি বলেন, যখন পূর্ব বাংলার একশ্রেণির মানুষ নজরুলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছিল, প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ কবিকে অবজ্ঞা করছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে ‘কাফের’ ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল, তখন তমিজুর রহমানের এই সংবর্ধনা ও মানপত্র ছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। সে সময় এমন উদ্যোগ নেওয়া ছিল সাহসের ব্যাপার।

তিনি আরও বলেন, নজরুলকে দেওয়া ওই সংবর্ধনা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেদিন কর্নেলহাট চত্বর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।

সাইফুদ্দিন সাকি বাসসকে বলেন, মানপত্রটিতে নজরুলের সাহিত্যপ্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা ও মানবতাবাদী দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটেছে। তৎকালীন চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সমাজে নজরুলের গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে আছে এটি।

মানপত্রে নজরুলকে ‘বিশ্বকবি’ হিসেবে অভিহিত করা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফরিদুদ্দিন বলেন, মাওলানা তমিজুর রহমানের আগে নজরুলকে এই উপাধিতে ভূষিত করার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, নজরুল প্রকৃত অর্থেই বিশ্বকবি। তাঁর কবিতা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, দেশ, কাল কিংবা মানচিত্রের ভেদাভেদ মানে না। পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে, শাসক ও শোষিতের লড়াই যতদিন চলবে, ততদিন নজরুল নিত্য-আধুনিক হয়ে ফিরে আসবেন।

বিশিষ্ট কবি, সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার বাসসকে বলেন, এর আগে নজরুলকে কেউ ‘বিশ্বকবি’ উপাধি দিয়েছেন বলে জানা যায় না। নজরুল বলেছেন, ‘আমি হয়তো এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু আমি সকল কালে সকল মানুষের কবি।’ তাঁর সাহিত্যসাধনায় এমন কিছু পাওয়া যায় না, যেখানে তিনি শুধু বাঙালি কিংবা বাঙালি মুসলমানের কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, নজরুলের ‘মানুষ’ কবিতায় মানুষ বলতে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ, জাতি কিংবা ভাষাভাষীর মানুষকে বোঝানো হয়নি; বরং সব যুগের, সব কালের মানুষকেই বোঝানো হয়েছে।

নজরুল সম্পর্কে নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার আরো বলেন, ‘নজরুল হয়তো নিজের দেশকে ভালোবেসেছেন, কিন্তু দেশকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই তিনি বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠেছেন। এ কথা ধ্রুবতারার মতো সত্য।’

নিচে কাব্যমানপত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

অগ্নি-কবি কাজী নজরুল ইসলামের খায়রে-মকদম উপলক্ষে-

আজ আমাদের গুলশনেতে ফুল ফুটেছে শীতের কালে,

অগ্নিবীণার বুল্ বুলিটী গাইবে গযল ডালে ডালে।

আয়রে দয়েল, আয় পাপিয়া,

ভক্তি গুলের হার গাঁথিয়া,

আগমনীর নায্ রানা দে, বিশ্ব-কবি নজ্রুল গলে,

গরীর দেশে আর কি আছে তোহ্ফা দিতে চরণ তলে।

আয়রে কবি, বঙ্গ-ুরবি,

আঁকিয়ে দে তোর রক্ত-ছবি,

বিশ্বজোরা কীর্ত্তি তোমার থাকুক লিখা যুগের তালে,

হিংসা-অনল দগ্ধীভূত করুক তোমার শত্রু দলে।

উরফি তুমি, ছাদি তুমি,

জামি ও ফেরদৌছি তুমি,

আনওয়ারী, খাকানী তুমি, ঘোষবে জগৎ কালে কালে

বঙ্গদেশে জন্মেছিলে বাঙ্গালীদের ভাগ্যফলে।

সর্ব্বহারা জাতি মোরা,

হিংসা দ্বেষে দেলটী ভরা,

গুণের আদর করতে জানে কয়জন আছে মোদের দলে;

তাইত এই বিশাল জাতি যাচ্ছে ক্রমে রসাতলে।

তুমি কবি ভাবের আকর,

ভাবগুলি ত তোমার চাকর,

অনায়াসে ভাবের ধারা আনতে পার এমন ছলে,

দোশ্ মনেরাও দোস্ত হয়ে নাচে যেমন তোমার তালে।

ধ্বংস পথের যাত্রী মোরা,

তরক্কি পথ চাই আমরা,

তুমি পার কাব্য ছলে পথ দেখা’তে সর্ব্ব-দলে;

বিশ্ব-প্রেমের কীর্ত্তি যেন বজায় থাকে ধরাতলে।

কাট্টলি ইউনিয়ন ক্লাব, চট্টগ্রাম।

[Composed by Moulvi Tamizur Rahman, the President of the Club]

———————————————————------------------------————————————

January, 1929.

এসলামাবাদ প্রেস, চট্টগ্রাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী তিন মাসে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


আগামী তিন মাসে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তবে গভীর রাতে ফ্যানের গতিকে কমিয়ে আনা কিংবা শেষরাতে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া কাঁথা ইঙ্গিত করছে যে, শীত ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে। কংক্রিটের শহরে শীতের আগমনের শব্দ কিছুটা ধীর হলেও উত্তরের গ্রামগুলোতে হিমেল বাতাস বইতে শুরু করেছে। সেখানে বিস্তীর্ণ প্রান্তর এবং নদীর তীরে ভোরের স্নিগ্ধ কুয়াশা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

প্রকৃতির এই শান্ত পরিবর্তনের মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর শীত নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছে। জানানো হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

চলতি নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। সেইসঙ্গে কুয়াশা, লঘুচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিন মাসের মধ্যে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেটাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে সেটাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে সেটাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

শৈত্যপ্রবাহ কখন এবং কোথায় বেশি হতে পারে, এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বাসসকে জানান, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে, অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে। সেইসব স্থানে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।

তবে জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কখনো কখনো একটি বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে তিনি জানান।

এই তিন মাসের সময়ের মধ্যে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এর ফলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যেহেতু এল নিনো সক্রিয় এবং পৃথিবী উষ্ণ হয়ে আছে, ফলে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এর প্রভাব থাকবে। ফলে গড় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবারের শীতকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকবে। তবে কখনো কখনো তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে।

তিনি আরও জানান, শৈত্যপ্রবাহ থাকবে, কিন্তু অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের দিনক্ষণ, সংখ্যা ও ব্যাপ্তি অনেকটাই কম থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবারের শীতকাল কিছুটা ‘উষ্ণ’ থাকতে পারে।

এছাড়া, এল নিনো সক্রিয় থাকার কারণে শৈত্যপ্রবাহ কয়দিন থাকবে, কয়বার হবে, এসব বিষয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে এবারের শীতকাল সার্বিকভাবে কিছুটা উষ্ণ থাকার আশা করা হচ্ছে।

শীতের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথাও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বাসস’কে জানান, আমাদের দেশে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। প্রতিবছরই এ সময়টাতে লঘুচাপ তৈরি হয়। কখনো কখনো এটি শক্তি অর্জন করে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।

তিনি বলেন, এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়ন ঘটে। ক্রমশ দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে, রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে এবং বঙ্গোপসাগর বরাবর সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ে।

এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সব বছর ঘটে না, মাঝে মাঝে ঘটে। এজন্য একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট (ক্ষণস্থায়ী) সিস্টেম।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, এই তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার। বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টি আরও কমে আসবে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটারের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের মডেল পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কীভাবে তৈরি হয়, তা ব্যাখ্যা করে ড. মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে কতটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, তার তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, এ সময় গড়ে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ থাকে। এর মধ্যে কিছু কখনো কখনো শক্তি সঞ্চয় করে। দীর্ঘ সময়ের এমন গড় চিত্রের ভিত্তিতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে বলে মনে করিয়ে দেন এই আবহাওয়াবিদ। তাই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পাশাপাশি নিয়মিত দৈনন্দিন পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অক্টোবরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৭ অক্টোবর। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৭ অক্টোবর। গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ১.৮, ০.৪ ও ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%