০৪:৫০ এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেছেন, এ ঘটনার পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে।
রিজভী বলেন, "শ্রমিকদের ব্যবহার করে একটি মহল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।" তিনি আরও জানান, গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যও সামনে এসেছে। সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে তাদের ধারণা। গতকালের ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি জানাল ৫০০ জনের মানববন্ধন
রিজভী বলেন, "এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, "পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।" দেশের অভ্যন্তরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে বিব্রত ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তৎপর রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
রিজভী আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এই আন্দোলনে দলের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "সেই গণতান্ত্রিক চেতনা থেকেই বর্তমান সরকার সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।" দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ধুনটে পাঁচ কোটি টাকার সড়ক কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
তিনি বলেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীনির্ভর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়েছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এরই মধ্যে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয় উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা বিপ্লবের কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্র ও নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর প্রকাশ্যে আন্দোলন করেছে।
আরও পড়ুন: বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলে চোরাপথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি ও তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, "কেউ পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।" মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন