ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আদালতে হাজির না হওয়ায় ফের বিপাকে নোরা ফাতেহি


আদালতে হাজির না হওয়ায় ফের বিপাকে নোরা ফাতেহি

বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি ২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি মামলায় নতুন আইনি জটিলতায় পড়েছেন। সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পর্কিত এই মামলায় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবীরা ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন। তবে আদালত নোরার অনুপস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালত নতুন করে সমন জারি করে আগামী ৬ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছে।

দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার (ইওডব্লিউ) দায়ের করা মামলায় গত ২ নভেম্বর নোরাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত দিনে সশরীরে উপস্থিত হননি। আইনজীবীদের দাবি, অল্প সময়ের নোটিশে সমন পাওয়ার পাশাপাশি আগে থেকে নির্ধারিত পেশাগত চুক্তির কারণে ওই দিন আদালতে আসা সম্ভব হয়নি। এ কারণে হাজিরা মওকুফের আবেদন জানানো হয়।

তবে বিচারক এই আবেদনে সন্তুষ্ট হননি। আদালতের কার্যক্রমকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়েছে। পরে শুনানি পিছিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয় এবং নোরার নামে নতুন করে সমন জারি করা হয়।

আরও পড়ুন: পরীমণির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

এদিকে আদালতের এই পদক্ষেপের পর নোরার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই মামলায় অভিনেত্রী কোনো অভিযুক্ত নন। বরং তাকে তদন্তে সহায়তার জন্য সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, "পরিষ্কার জানানো হচ্ছে যে, নোরা ফাতেহি এই মামলায় কোনো অভিযুক্ত নন এবং তিনি কোনো অপরাধও করেননি। আদালতকে তদন্তে সাহায্য করার জন্য কেবল একজন সাধারণ সাক্ষী হিসেবেই তাকে ডাকা হয়েছে।"

কিন্তু ২০০ কোটি রুপির সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ডে বারবার কেন নোরার নাম উঠে আসছে? তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অনুসন্ধানে সুকেশ ও তার স্ত্রী লীনা মারিয়া পলের সঙ্গে নোরার যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে নোরা জানিয়েছেন, একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার বিনিময়ে তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দামি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উপহারের তালিকায় ছিল একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, গুচির ব্যাগসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল সামগ্রী। তবে সুকেশের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানান নোরা।

তদন্তের অংশ হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নোরার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার চার্জশিটে তাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কেন বিয়ের বন্ধনে জড়াননি টাবু, অজয়কে নিয়ে অভিনেত্রীর বক্তব্য?

তবে নোরার বক্তব্যের বিপরীতে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। কারাগার থেকে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কোটি কোটি রুপি দিয়েছিলেন। অভিনেত্রীকে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করার কথাও বলেছেন সুকেশ।

এছাড়া, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন সুকেশ। তার অভিযোগ, নিয়মিত ফোন করে জ্যাকুলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন নোরা। তবে এগুলো সুকেশের ব্যক্তিগত অভিযোগ। এসব দাবির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই।

উল্লেখ্য, দিল্লির রোহিণী কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোটিপতি ব্যবসায়ী শিবিন্দার সিং ও মলবিন্দার সিংয়ের স্ত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে সুকেশের বিরুদ্ধে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি ও দামি উপহার কেনা হয়েছিল। এসব উপহার নোরা ফাতেহি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজসহ বলিউডের কয়েকজন তারকার কাছে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা মকোকা আইনে মামলা করে।

সব মিলিয়ে আলোচিত এই মামলায় নোরার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তার আইনি দলের দাবি, অভিনেত্রী অভিযুক্ত নন, বরং তদন্তে সহায়তার জন্য একজন সাক্ষী। আগামী ৬ নভেম্বর আদালতে তার উপস্থিতি ও পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

আরও পড়ুন: নিজের সাক্ষাৎকার দেখলেই অস্বস্তি হয়: শবনম ফারিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচবিবিতে নৈশপ্রহরীকে জিম্মি করে ৬০০ মুরগি লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


পাঁচবিবিতে নৈশপ্রহরীকে জিম্মি করে ৬০০ মুরগি লুট

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রাধাবাড়ী এলাকায় একটি মুরগির খামারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা খামারের ৭০ বছর বয়সী নৈশপ্রহরী বাদল চন্দ্রকে হাত বেঁধে জিম্মি করে প্রায় ৬০০ মুরগি চুরি করে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মনোরঞ্জন দাস রতনের মুরগির খামারে এই ঘটনা ঘটে।

নৈশপ্রহরী বাদল চন্দ্র জানিয়েছেন, রাতের বেলায় খামারে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জনের একটি দল এসে তাঁর হাত বেঁধে ফেলে। চিৎকার করতে নিষেধ করে একজন চাকু হাতে তাঁকে পাহারায় রাখে এবং অন্যরা খামার থেকে মুরগি নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর সকালে দাঁত দিয়ে হাতের বাঁধন খুলে তিনি খামার মালিককে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা খামারের পশ্চিম পাশের নিরাপত্তাবেষ্টনীর তারকাঁটা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর শেডের তালা খুলতে না পেরে নেট কেটে মুরগি নিয়ে যায়। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যানও খামারের দিকে যেতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

খামারের মালিক মনোরঞ্জন দাস রতন জানিয়েছেন, খামার থেকে প্রায় ৬০০টি মুরগি লুট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা করছেন।

পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তামবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই দিয়ে খাবারের দাম বাড়ানোর অভিযোগে তদন্তের মুখে ম্যাকডোনাল্ডস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


এআই দিয়ে খাবারের দাম বাড়ানোর অভিযোগে তদন্তের মুখে ম্যাকডোনাল্ডস

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খাবার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ডসের কাছে এআইয়ের মাধ্যমে খাবারের দাম নির্ধারণের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন দেশটির পাঁচ আইনপ্রণেতা। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম আদায় এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমিয়ে আনতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কি না।

আইনপ্রণেতারা সোমবার (২ নভেম্বর) ম্যাকডোনাল্ডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস কেম্পচিনস্কির কাছে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে তারা এসব প্রশ্ন উত্থাপন করেন। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন চিঠির নেতৃত্ব দেন, অন্য চারজন আইনপ্রণেতা হলেন প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার, বেকা বালিন্ট, জেসুস গার্সিয়া ও মেরি গে স্ক্যানলন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ম্যাকডোনাল্ডস খাবারের দাম নির্ধারণে যন্ত্রশিক্ষাভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি খাবারের জন্য সম্ভাব্য উপযুক্ত দাম নির্ধারণের সুপারিশ করা হয় এবং কোন এলাকার ক্রেতারা কত দাম দিতে আগ্রহী, সেই হিসাবও এতে বিবেচনা করা হয়।

আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায় করা হতে পারে। একই সাথে, একই এলাকার বিভিন্ন শাখার মধ্যে দাম নির্ধারণে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

চিঠিতে আইনপ্রণেতারা জানতে চান, ম্যাকডোনাল্ডসের গ্রাহক আনুগত্য কর্মসূচির ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কি খাবারের দাম নির্ধারণ করা হয়। তারা আরও জানতে চান, বিভিন্ন শাখাকে এই প্রযুক্তির সুপারিশ অনুসরণে কীভাবে উৎসাহিত করা হয় এবং এটি চালুর আগে প্রতিযোগিতা আইন পর্যালোচনা করা হয়েছিল কি না। আগামী ১৬ নভেম্বরের মধ্যে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তবে, ম্যাকডোনাল্ডস পূর্বে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তাদের দাম নির্ধারণের সুপারিশে কোনো নির্দিষ্ট গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হয় না। শাখার মালিকেরা নিজেদের মতো খাবারের দাম নির্ধারণের স্বাধীনতা রাখেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে দেওয়া দাম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক নয় বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

এদিকে, সম্প্রতি ম্যাকডোনাল্ডসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দুটি দলগত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শাখার খাবারের দাম নির্ধারণে অবৈধ সমন্বয় করছে। তবে ম্যাকডোনাল্ডস দাবি করেছে, তাদের কোনো প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্গার বা অন্যান্য খাবারের দাম নির্ধারণ করে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন শাখার মালিকেরা।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিম্ফোমায় আক্রান্ত মহাসিনের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


লিম্ফোমায় আক্রান্ত মহাসিনের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৭ লাখ টাকা

বাগেরহাটের ফকিরহাটে চোখের জটিল রোগ লিম্ফোমায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দিনমজুর মহাসিন শেখ (৩৬)। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁর পরিবার ইতোমধ্যে স্ত্রী ও মেয়ের গয়না বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় করেছে। তবে অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আরও ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হলেও আর্থিক অনটনে থাকা পরিবারটির পক্ষে তা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মহাসিনের চিকিৎসায় সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজনেরা।

মহাসিন শেখ বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছয় সদস্যের সংসার পরিচালনা করেন। দিনমজুরি করে তাঁদের অন্নসংস্থান চলত। কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে মারাত্মক অসুস্থ থাকায় বর্তমানে তিনি কোনো কাজ করতে পারছেন না, ফলে পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রথমে মহাসিনের চোখে চুলকানি দেখা দেয়। পরবর্তীতে চোখ লাল হয়ে তীব্র ব্যথা শুরু হলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর দ্রুত অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও এর জন্য ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন।

চিকিৎসার খরচ মেটাতে মহাসিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা বেগম নিজের ও মেয়ের গয়না বিক্রি করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়নি। স্বামীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং সংসার চালানোর দায়িত্ব নিয়ে তিনি চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মহাসিন শেখ বলেন, 'অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই প্রায় এক লাখ টাকা শেষ হয়েছে। চিকিৎসকেরা দ্রুত অপারেশন করতে বলেছেন, যার জন্য ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা লাগবে। দিনমজুর মানুষ হিসেবে এই টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। সরকার বা বিত্তবানরা একটু সহযোগিতা করলে হয়তো অপারেশন করাতে পারব। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করে পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে চাই।'

তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী তিন মাস ধরে অসুস্থ। আমার ও মেয়ের সামান্য যা গয়না ছিল, সবই বিক্রি করে এক লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন আর চিকিৎসা চালানোর কোনো সামর্থ্য নেই। সবাই একটু পাশে দাঁড়ালে হয়তো আমার স্বামীর জীবনটা বাঁচানো সম্ভব হতো।'

মহাসিনের ভাতিজা মাহিম হাসান জানান, তাঁর চাচা ঢাকা ও খুলনায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে আজ নিঃস্ব। পরিবারে আর কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তিও নেই। সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি ও প্রবাসীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁর চাচার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। প্রতিবেশী ইবাদুল মোড়ল ও মহাসিনের মা ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন শুধু চোখের ওষুধ কিনতেই প্রায় ৩০০ টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। উপার্জন বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। চোখ সুস্থ করে আবারও কর্মজীবনে ফিরে যেতে চান মহাসিন। তাঁর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা যোগাযোগ করতে পারেন এবং নিচের বিকাশ নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।

মহাসিন শেখের যোগাযোগ ও বিকাশ নম্বর: ০১৮১১৮৮৩৩১৯

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূলভিত্তি: আজ সংবিধান দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূলভিত্তি: আজ সংবিধান দিবস

॥ এস এম আশিকুজ্জামান ॥

ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : আজ বাংলাদেশের সংবিধান দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭২ সালের এই দিনে গণপরিষদে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যকর হয়।

একটি স্বাধীন দেশের জন্য সংবিধান একটি অনন্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি কেবল একটি আইনি দলিল নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। এই দর্শনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো ‘সাংবিধানিক প্রাধান্য’ বা কনস্টিটিউশনাল সুপ্রিমেসি।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হিসেবে সাংবিধানিক প্রাধান্যকে দেখা হয়। এর মানে হলো, দেশের সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

সাংবিধানিক প্রাধান্য কী?

সাংবিধানিক প্রাধান্যের অর্থ হলো রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন। রাষ্ট্রের তিনটি মূল অঙ্গ— আইনসভা (সংসদ), শাসনবিভাগ (সরকার) ও বিচারবিভাগ— তাদের সকল ক্ষমতা সংবিধান থেকে প্রাপ্ত হয় এবং তাদের কার্যক্রমও সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে পরিচালিত হতে হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে সাংবিধানিক প্রাধান্যের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।’

অন্যদিকে, আমাদের সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।’ এর মানে হলো, এমন কোনো আইন পাস করা যাবে না, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী।

সাংবিধানিক প্রাধান্যের গুরুত্ব কী? সংবিধানে নাগরিকদের জীবন, স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, চলাফেরা ও সমাবেশের অধিকারসহ নানা মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সাংবিধানিক প্রাধান্য নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্র বা সরকার নাগরিকদের এসব অধিকার খেয়াল খুশিমতো খর্ব করতে পারবে না।

এছাড়া, রাষ্ট্রের কোনো একটি অঙ্গ যেন অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী হয়ে স্বৈরাচারী রূপ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করে সংবিধান। আইনসভা আইন তৈরি করবে, শাসনবিভাগ তা প্রয়োগ করবে এবং বিচারবিভাগ তা ব্যাখ্যা করবে— এই ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্য সাংবিধানিক প্রাধান্যের ফল।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় অগণতান্ত্রিক পন্থায় সংবিধানকে কাঁটাছেঁড়া করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিচারবিভাগ তার বিভিন্ন ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের মূল কাঠামোকে রক্ষার চেষ্টা করেছে।

সর্বোপরি, সাংবিধানিক প্রাধান্যকে কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বিচারবিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা অপরিহার্য। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক। কোনো আইন বা পদক্ষেপ সংবিধানের পরিপন্থী হলে, তা বাতিল করার ক্ষমতা (জুডিশিয়াল রিভিও) সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে। এই ক্ষমতার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রয়োগই সাংবিধানিক প্রাধান্যকে সমুন্নত রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%