০৮:১৮ পি.এম
ইরান বাংলাদেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছে, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জানিয়েছেন, এই সহযোগিতা আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রদান করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ অন্য দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে, আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তার আশ্বাসও দেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে এনসিপির মশাল মিছিল, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে এই সংকটকালীন সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ, আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পারাপারে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
এ সময় রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব বা সমর্থনকে তারা খুশি মনে গ্রহণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে জালিল রাহিমি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতার অর্থ আত্মসমর্পণ। ইরান কখনোই এটি মেনে নেবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি কোনো হামলা চালায়, তবে ইরান পূর্ণ শক্তিতে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না।
মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরান কখনোই কোনো আরব দেশে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি এই অঞ্চলে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
আরও পড়ুন: অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন