ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শিল্পীদের ব্যক্তিগত সময়েও গোপন ক্যামেরা, সতর্ক করলেন রেশমা আহমেদ


শিল্পীদের ব্যক্তিগত সময়েও গোপন ক্যামেরা, সতর্ক করলেন রেশমা আহমেদ

শুটিংয়ের বিরতিতে অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সময়ের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ তুলেছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী রেশমা আহমেদ। তার দাবি, শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি আড়ালে শিল্পীদের কথাবার্তা, হাসি-আড্ডা ও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করছেন। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শুটিং সেটে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রেশমা তার অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তবে তিনি এ ঘটনায় জড়িত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা শুটিংয়ের নাম প্রকাশ করেননি।

পোস্টে রেশমা জানান, একটি শুটিংয়ে চরিত্রাভিনেতাদের, বিশেষ করে মা-বাবার চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের প্রায় ১০ থেকে ১২টি দৃশ্যে কাজ করতে হয়। প্রতিটি দৃশ্যের মাঝখানে তারা অল্প সময়ের বিরতি পান। এই সময়টুকুতে চা পান, গল্পগুজব কিংবা সহশিল্পীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটান তারা। ব্যক্তিগত জীবন, সংসার ও সন্তানদের নিয়েও নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। পরবর্তী দৃশ্যে কাজের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি এই বিরতি তাদের মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেয়।

আরও পড়ুন: জামিনের পর পরীমনির অশালীন ভাষায় দুই শব্দের পোস্ট

রেশমা লেখেন, প্রতি সিকোয়েন্সের মাঝখানে হয়তো ১০ মিনিট ব্রেক দেওয়া হয়। তখন তারা চা খেয়ে গল্প করেন, একটু ফান করার চেষ্টা করেন। হাসাহাসি করেন। সুখ-দুঃখের কথা বলেন। ব্যক্তিগত জীবন, সংসার, সন্তানদের নিয়ে কথা বলেন। আর এই ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা পরবর্তী সিকোয়েন্সের জন্য এনার্জি নিয়ে তৈরি হন।

কিন্তু শিল্পীদের এই ব্যক্তিগত সময়ও গোপনীয়তার মধ্যে থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। রেশমার দাবি, শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত লাইট ও ক্যামেরা সহকারী, মেকআপ সহকারী কিংবা শুটিং দেখতে আসা অতিথিদের কেউ কেউ আড়ালে এসব মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করছেন। পরে সেসব ভিডিও দিয়ে রিলস তৈরি করে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করছেন। এমনকি এসব ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জনেরও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী লেখেন, লাইট এবং ক্যামেরার অ্যাসিস্ট্যান্ট, মেকআপ অ্যাসিস্ট্যান্ট, শুটিংয়ের কোনো গেস্ট—অর্থাৎ আমাদের শুটিংয়ের লোকজন আমাদের সেই ব্যক্তিগত বিশ্রামের সময় ভিডিও ধারণ করে লুকিয়ে লুকিয়ে। এবং রিলস বানিয়ে নিয়ে নিজের আইডি থেকে আপলোড দেয়। টাকা ইনকাম করে।

রেশমা আরও উল্লেখ করেন, শুটিং সেটে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভিডিও ধারণের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও অনেক অভিনয়শিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু বারবার অভিযোগ ওঠার পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

আরও পড়ুন: আদনানের প্রথম সিনেমা ‘অপলক’এ নিশো ও মেহজাবীন

এ অবস্থায় শুটিং সেটে নিজেদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপনীয়তা রক্ষায় অভিনয়শিল্পীদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রেশমা আহমেদ। অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ৬ দলে আছেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ৬ দলে আছেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটান

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে। ছয়টি দেশ শিরোপার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করছে—স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটান।

টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ছয়টি দল নিজেদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের দলে হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া ও সমিত সোমের মতো পরিচিত মুখ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, অন্যান্য দলগুলোও নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে এসেছে। আসুন, ছয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড দেখে নেওয়া যাক।

বাংলাদেশ: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, মোহাম্মদ সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ, তারিক রায়হান কাজী, জায়ান আহমেদ, মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, আবদুল্লাহ ওমর সাজিব, মোহাম্মদ সোহেল রানা, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সমিত সোম, সৈয়দ কাজেম কিরমানী শাহ, জামাল ভূঁইয়া, ফারহান আলী ওয়াহিদ, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, ফাহামেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সুকি ইতাফুসা, মিনহাজুল করিম শাদিন, মোহাম্মদ মাহে খান।

ভারত: আরশ আনোয়ার শেখ, মোহনরাজ কে, প্রিয়াংশ দুবে, আবদুল রবিহ, বিজয় ভার্গিস, চিংলেনসানা সিং কোনশাম, মিংথানমাউইয়া রালতে, খাইমিনথাং লুংদিম, মুহাম্মদ উভাইস, নাথান রড্রিগেজ, রনি খারবুদন, সন্দীপ মান্ডি, অভিষেক সূর্যবংশী, আদিসন সিং থোকচোম, ব্রাইসন ফার্নান্দেস, এবিনদাস ইয়েসুদাসন, ফারুখ চৌধুরী, ম্যাকার্টন নিকসন, মাংলেনথাং কিপগেন, নিখিল প্রভু, নওফাল পিএন, রিকি জন শাবং, সুরেশ সিং ওয়াংজাম, ইরফান ইয়াদওয়াদ, লিস্টন কোলাসো, মুহাম্মদ সুহাইল, বিষ্ণু পিভি, সুহাইল আহমেদ ভাট।

পাকিস্তান: সাকিব হানিফ, হাসান আলী, ইউসুফ বাট, আবদুল রহমান, আবদুল্লাহ ইকবাল, আলী খান নিয়াজি, ইসাহ সুলিমান, হারিস জেব, হাসিব আহমেদ খান, মামুন মুসা খান, মোহিবুল্লাহ আফ্রিদি, ওয়াকার এহতিশাম বেলুচ, জুনায়েদ শাহ, আদিল নবী, আলী উজাইর মাহমুদ, হাইয়ান খাত্তাক, তুফায়েল খান শিনওয়ারি, জাইনুল আবেদিন ইসহাক, মুহাম্মদ জুনায়েদ, আলী আকবর খান, সৈয়দ আলী রাজা, আবদুল সামাদ আরশাদ, আলমগীর গাজী, কলিমুল্লাহ, মিকেল আবদুল্লাহ, নাজিবুল্লাহ, শায়াক দোস্ত, উমর নওয়াজ।

শ্রীলঙ্কা: সুজান পেরেরা, কভিশ ফার্নান্দো, মোহাম্মদ মুরসিথ, মোহাম্মদ হাসমির, মুহাম্মদহু মুনসিফ, চালানা চামেরা, জুড সুপান, জেসন থায়াপারান, জেরেমি পেরেরা, উইলিয়াম থমাসন, অনুজান রাজেন্দ্রাম, ক্ল Claudio কামারখনেখট, ভারত সুরেশ, স্টিভেন সাকায়ারাদজি, লিওন পেরেরা, আধাভান রাজামোহন, গ্যারেট কেলি, নিলোশান সেথুরওয়াসান, অলিভার কিলার্ট, ডিলন ডি সিলভা, স্যামুয়েল ডুরান্ট, ওয়াসিম রাজিক, ওয়েড ডেকার, রাহুল সুরেশ, মুথুচ্চুমারু রেমিয়ান, আইমান জাওয়াহির, রেজিজ ক্যানিস্তান ও আমান ফিজার।

ভুটান: লোচো নিমা, তানদিন শেওয়াং, ফুনশো জিগমে, তেনজিন নরবু, দেইচোগ দ্রাকার দর্জি, জিগমেন সেলতোব দর্জি, চেনচো গিয়েলশেন, পেমা জাংপো, কিনজাং তেনজিন, ওরগেন শেরিং, কিংগা ওয়াংচুক, কিনলে পেনজোর, জিগদ্রেল ওয়াংচুক, দাওয়া শেরিং, নিমা ওয়াংদি, শেলথ্রিম নামগিয়েল, জেতসুন দর্জি, কিনজাং তাশি তোবদেন, সোনাম দর্জি, গিয়েলশেন জাংপো, দেন্দুপ নামগিয়েল, জিগমে সুলত্রিম, বিকাশ প্রধান।

মালদ্বীপ: মোহাম্মদ আশওয়ান, হুসেইন শরিফ, মোহাম্মদ শাফিউ, সামুহ আলী, হাসান ইনায়াজ, হুসেইন সিফাউ ইউসুফ, আহমেদ আইহাম (আইহু), আমধান আলী, থোইফ গাসিম, আহমেদ মাইশ রশিদ, আহমেদ আইহাম (ফাথো), ইব্রাহিম ওয়াহিদ হাসান, ইব্রাহিম আইসাম, নিশাম মোহাম্মদ রশিদ, আজহাম রশিদ, ইথান ইব্রাহিম জাকি, আলী হামধান, ইব্রাহিম মাহুধি হুসেইন, নাসাহ ইব্রাহিম নাসির, নাইজ হাসান, আলী ফাসির, মোহাম্মদ নাঈম, মুজধান হাসান, আবদুল্লাহ লুথ ইব্রাহিম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজয়ী আবদুল আল-সাইয়েদ ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাব দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


বিজয়ী আবদুল আল-সাইয়েদ ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাব দিলেন

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে একের পর এক কটাক্ষ ও বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ডা. আবদুল আল-সাইয়েদ। তবে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের পর, ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে তিনি একটি শক্তিশালী জবাব দিয়েছেন, যিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম-আমেরিকান সিনেটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

বুধবার মিশিগানে নিজের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর উল্লাসিত সমর্থকদের সামনে বক্তব্য প্রদানকালে, আল-সাইয়েদ ট্রাম্প এবং ভ্যান্সকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এখন থেকে তাদের তাকে ‘সিনেটর’ বলেই সম্বোধন করতে হবে।

প্রচারণার সময়, ট্রাম্প আল-সাইয়েদের মুসলিম নাম নিয়ে প্রকাশ্যে উপহাস করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন—প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এই চিকিৎসককে যা খুশি তা-ই ডাকার অধিকার রাখেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, আর তার ভাইস প্রেসিডেন্ট রানিংমেট জেডি ভ্যান্স তাকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বা অপ্রকৃতিস্থ বলে সম্বোধন করেছিলেন।

ভোটের ফল ঘোষণার পর, ট্রাম্পের সেই কটূক্তির প্রতি সরাসরি জবাব দিয়ে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘জেডি, হাবিবি [স্নেহসূচক আরবি শব্দ], এটি নিয়তির চরম পরিহাস—সংবিধান অনুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে আমাকে শপথ পাঠ করাতে আপনি বাধ্য।’

এরপর ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার বেশ কষ্ট হয়। তাই জেডি যখন আমাকে শপথ পাঠ করাবেন, তখন থেকে আপনি আমাকে ‘সিনেটর’ বলে ডাকতে পারেন। আমরা যেন মিশিগানে আপনার মতো মানুষকে আর কখনো দেখতে না পাই।’

বিজয়ী ভাষণে আবেগাপ্লুত আল-সাইয়েদ অভিবাসী মা-বাবাদের সাহস জুগিয়ে বলেন, ‘যেসব বাবা-মা তাদের সন্তানদের বোঝাতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছেন—প্রেসিডেন্ট কেন কারও নাম বা কীভাবে সে প্রার্থনা করে তা নিয়ে জনসমক্ষে উপহাস করেন; আগামীকাল সন্তানদের জানিয়ে দিন যে সেই খারাপ লোকেরাই নির্বাচনে হেরে গেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহুল গান্ধী মোদির সঙ্গে প্রকাশ্যে বিতর্কের আহ্বান জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


রাহুল গান্ধী মোদির সঙ্গে প্রকাশ্যে বিতর্কের আহ্বান জানালেন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে বিতর্কের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিতর্কের বিচারক কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কংগ্রেস নেতা মোহন ভাগবতকে বিচারক হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে আবারও প্রকাশ্যে বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

রাহুল গান্ধীর প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি টেবিলের দুই পাশে মুখোমুখি বসবেন প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি। সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এবং দেশের তরুণ প্রজন্ম উপস্থিত থাকবেন। বিতর্কের বিচারক কে হবেন, তা প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঠিক করতে পারবেন।

রাহুল বলেন, টেবিলের একপাশে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং অন্যপাশে তিনি নিজে। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে যাকে বিচারক হিসেবে বেছে নিতে পারেন। এমনকি মোহন ভাগবতকেও এই দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

রাহুলের এই আহ্বানের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাত রয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদের দেশবিরোধী এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা প্রকাশ্যে বিতর্কের মাধ্যমে সেই অভিযোগের জবাব দিতে চান।

রাহুলের দাবি, বিতর্কে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে বিতর্কের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

রাহুলের প্রস্তাবের পর বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। একদিকে রাহুল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিতে চাইছেন, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা সংসদীয় পরিসরকে বিতর্কের উপযুক্ত মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি রাহুলের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে প্রকাশ্যে বিতর্কে অংশ নেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ পি.এম


অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলছে, বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারকে ছাপিয়ে। এই তথ্য জানিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার একটি কথিত অডিও-ভিডিও বার্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে। বিশেষ করে ‘নিউ ইয়র্ক বাংলা লাইফ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওই বার্তায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার অসত্য দাবি করা হয়েছে, এবং ‘প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসাব নেওয়ার’ মতো উসকানিমূলক হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর দায় এড়াতে এবং প্রবাসীদের আবেগকে পুঁজি করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা থেকেই এমন রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত বলছে, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা ও দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়াকে অভ্যন্তরীণ বা কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। মূলত ২০১৮ সাল-পরবর্তী সময় থেকে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং জাতিসংঘের প্রধান অর্থায়নকারী দেশগুলোর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী মিশন সংকুচিত হচ্ছে।

নজিরবিহীন এই আর্থিক সংকটের কারণে জাতিসংঘ তাদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শান্তিরক্ষা বাজেট ১০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে মাত্র ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে এবং মালির পর গত ১ নভেম্বর পশ্চিম সাহারার মতো ৩৫ বছরের পুরনো মিশনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের এই সামগ্রিক মিশন হ্রাসের অনুপাতে সব দেশের সৈন্য সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এই তীব্র বৈশ্বিক ছাঁটাইয়ের মধ্যেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী তাদের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের তালিকায় ১ম থেকে ৪র্থ অবস্থানের মধ্যে নিজেদের জায়গা সুদৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে।

কেবল জাতিসংঘ মিশনই নয়, এর বাইরেও বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি সদস্য বিভিন্ন দেশের দ্বিপক্ষীয় বা হাইব্রিড মিশনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠনে (ওকেপি) বর্তমানে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৭৬৮ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন, যা বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি বৈদেশিক মোতায়েন।

একইভাবে হাইতিতে গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোর্সের (জিএসএফ) আওতায় গত অক্টোবর থেকে আগামী জানুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ৪০০ জন সদস্য সংযোজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ২৩০ জনের একটি অগ্রগামী দল ইতিমধ্যে হাইতিতে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, বর্তমান সরকারের আমলে মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্কের এক নজিরবিহীন সম্প্রসারণ ঘটেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরো শক্তিশালী করছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বরের অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, কাতারে কর্মরত বাংলাদেশ মিলিটারি কন্টিনজেন্টের (বিএমসি) মোট জনবল বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৭৬৭ জনে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কোস্ট অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটিতে (কিউসিবিএস) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৩৭ জন সদস্যের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আরো ২৪ জন সদস্য যোগ দিচ্ছেন, যার ফলে সেখানে নৌ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৬১ জনে।

পাশাপাশি কাতার সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য আরো ৫০০টি নতুন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান রয়েছে, যা আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। কাতারের পাশাপাশি সৌদি আরবেও নতুন মেরিটাইম অ্যালায়েন্সের আওতায় দুটি ফ্রিগেট এবং একটি এয়ার ডিফেন্স (এডি) ব্যাটারিসহ মোট ১ হাজার নতুন সদস্য মোতায়েন হতে যাচ্ছে।

সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা সংকটের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জাতিসংঘের মিশন সংকোচনের মধ্যেও জাতিসংঘ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও পরিধি বৃদ্ধি মূলত বর্তমান সরকারের অত্যন্ত অল্প সময়ের কূটনৈতিক বিজয়েরই সুস্পষ্ট প্রমাণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%