০৮:২০ পি.এম
বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময়টিকে তরুণদের জীবনের সম্ভাবনাময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে দেশের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মানসিক স্বাস্থ্যসংকটে ভুগছে। এক গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার বিভিন্ন মাত্রার লক্ষণ দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী তীব্র ও অত্যন্ত তীব্র বিষণ্নতার লক্ষণ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'বন্ধু' (BONDHU) এবং যুব উন্নয়ন ও নীতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংক' (BYTT) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরা হয়।
গবেষণাটির শিরোনাম 'Socio-demographic Predictors of Depression Among University Students in Bangladesh: Evidence from Regression Modeling'। এটি দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত কলেজের ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী ৪২২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতার মাত্রা নির্ধারণে গবেষকেরা ডিএএসএস-২১ (DASS-21)-এর বাংলা বিষণ্নতা উপ-স্কেল ব্যবহার করেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের ১২ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে মৃদু, ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে মাঝারি, ১২ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে তীব্র এবং ২০ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে অত্যন্ত তীব্র বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও অভ্যাস বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা কয়েকটি বিষয়কে বিষণ্নতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আত্মহত্যার চিন্তা, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা।
জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ২৯ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, নিয়মিত পড়াশোনার জন্য তাঁরা প্রতিদিন এক ঘণ্টাও ব্যয় করেন না। অন্যদিকে, ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান। ঘুম থেকে জাগার আধা ঘণ্টার মধ্যেই মুঠোফোন ব্যবহার শুরু করেন ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, অংশগ্রহণকারীদের ২৫ দশমিক ৮ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। এ ছাড়া ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেও বিভিন্ন কারণে সেই সেবা নিতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: বাউস্টের ইইই ফেস্টে গবেষণাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে এমন মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সহজলভ্য পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা চালু, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাদ মাহমুদ। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মাহাদী-উল-মোর্শেদ। আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের পরিচালক কাজী সাদ্দাম হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজাউল ইসলাম।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়’কে ‘বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে’ রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য: উপাচার্য তাহ্মিনা আখতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন