ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪ শতাংশে বিষণ্নতার লক্ষণ: গবেষণা


বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪ শতাংশে বিষণ্নতার লক্ষণ: গবেষণা

বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময়টিকে তরুণদের জীবনের সম্ভাবনাময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে দেশের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মানসিক স্বাস্থ্যসংকটে ভুগছে। এক গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার বিভিন্ন মাত্রার লক্ষণ দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী তীব্র ও অত্যন্ত তীব্র বিষণ্নতার লক্ষণ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'বন্ধু' (BONDHU) এবং যুব উন্নয়ন ও নীতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংক' (BYTT) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণাটির শিরোনাম 'Socio-demographic Predictors of Depression Among University Students in Bangladesh: Evidence from Regression Modeling'। এটি দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত কলেজের ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী ৪২২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতার মাত্রা নির্ধারণে গবেষকেরা ডিএএসএস-২১ (DASS-21)-এর বাংলা বিষণ্নতা উপ-স্কেল ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের ১২ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে মৃদু, ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে মাঝারি, ১২ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে তীব্র এবং ২০ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে অত্যন্ত তীব্র বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও অভ্যাস বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা কয়েকটি বিষয়কে বিষণ্নতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আত্মহত্যার চিন্তা, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা।

জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ২৯ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, নিয়মিত পড়াশোনার জন্য তাঁরা প্রতিদিন এক ঘণ্টাও ব্যয় করেন না। অন্যদিকে, ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান। ঘুম থেকে জাগার আধা ঘণ্টার মধ্যেই মুঠোফোন ব্যবহার শুরু করেন ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, অংশগ্রহণকারীদের ২৫ দশমিক ৮ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। এ ছাড়া ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেও বিভিন্ন কারণে সেই সেবা নিতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: বাউস্টের ইইই ফেস্টে গবেষণাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে এমন মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সহজলভ্য পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা চালু, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাদ মাহমুদ। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মাহাদী-উল-মোর্শেদ। আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের পরিচালক কাজী সাদ্দাম হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজাউল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়’কে ‘বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে’ রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য: উপাচার্য তাহ্‌মিনা আখতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত

ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ১৫টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেহেরদিয়া গ্রামে সংঘর্ষটি সংঘটিত হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেহেরদিয়া গ্রামের কালাম মুন্সির এবং নূর ইসলাম মুন্সির মধ্যে বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুরে কালাম মুন্সি তার ফসলি জমিতে বেড়া দেওয়ার সময় নূর ইসলাম মুন্সির সমর্থকেরা তাকে মারধর করেন।

এই ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি নিয়ে নূর ইসলাম ও কালাম মুন্সির সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। পরে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানিয়েছেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে রুনা খানের সাক্ষাৎ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে রুনা খানের সাক্ষাৎ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার-২০২৬ প্রাপ্ত বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান।

এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে।

সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার রুনা খানকে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এ ধরনের অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমগ্র জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। মানবকল্যাণ, সমাজের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে নিবেদিত ব্যক্তিদের কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করবে।

এ সময় তারা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

ডেপুটি স্পিকার রুনা খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনি আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ।"

মতবিনিময়কালে ডেপুটি স্পিকার তার নিজ জেলা নেত্রকোণার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষ এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।" দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহন, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, "জীবিকার তাগিদে হাওরাঞ্চলের অনেক মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রিকশা চালানোসহ নানা পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।" অথচ একসময় এ হাওরাঞ্চল খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমানে এ অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

হাওরের জলমহাল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, "অনেক ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন।" অথচ প্রকৃত জেলেদের জীবিকা ও অধিকার সুরক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সাধারণ জেলে ও স্থানীয় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের জীবিকার সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন দুই থেকে তিন মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়।" দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, হাওরাঞ্চলের রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। মৎস্যসম্পদ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব। এ জন্য হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, হাওরকে শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা না করে জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে দেখতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার নেত্রকোণার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রুনা খান হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও ভাবনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।" বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রুনা খান নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তার প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফ্রেন্ডশিপ-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোশাক শিল্পের সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


পোশাক শিল্পের সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, পোশাক শিল্পে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজমান, তা স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়। এটি মূলত সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা, ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা।

বুধবার, মন্ত্রী বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কোনো অমীমাংসিত দাবি-দাওয়া নেই। কিন্তু একটি মহল শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য চক্রান্ত করছে। এই বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার সাথে সাধারণ শ্রমিকরা যুক্ত নয়; বরং শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি অনাকাক্সিক্ষত হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের কয়েকজন গার্মেন্টস মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এর পেছনে রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি, মাফিয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত চক্রান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সরকার এসব রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা কঠোরভাবে দমনের নির্দেশনা দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের প্রধান দাবি ছিল প্রতি তিন বছর পর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা। সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট আগে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি নাম প্রদানে কিছুটা সময় নেওয়ায় বোর্ড গঠনে সামান্য বিলম্ব হলেও, নাম প্রাপ্তির পরপরই মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই এর প্রথম সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে আগামী ১লা জানুয়ারি (২০২৭) থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব এবং শিল্পবান্ধব। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি গার্মেন্টস মালিকদের সাথে সরকারের দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথেও বিশদ আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই একমত হয়ে স্বীকার করেছেন যে, এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন নয়; বরং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার ধৈর্যের সাথে এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন তারা কোনো অবস্থাতেই "প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ" না করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত সংযম প্রদর্শন করেছেন এবং শ্রমিকদের ওপর বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থেকেছেন। তবে এই সুযোগে মাফিয়া ও অপরাধী চক্রকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্ত্রী সাধারণ শ্রমিকদের কোনো প্রকার উস্কানি ও গুজবে কান না দিয়ে অবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজে ফিরলে শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং শ্রমিকদের নিজস্ব কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে।

সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি তিনি আটক হয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবিধানকে অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই: ড. কামাল হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


সংবিধানকে অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই: ড. কামাল হোসেন

গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এবং এটি অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন বিদ্যমান। তিনি বলেন, "জনআকাঙ্ক্ষার প্রয়োজনে সময়ের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন হতে পারে। তবে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এই পবিত্র সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই।"

বুধবার সংবিধান দিবস উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান তার লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান জনমত ও জনআকাঙ্ক্ষার দলিল। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে সেই চেতনার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "সময় বিবর্তনে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হতে পারে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এই সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার কোনো অবকাশ নেই।"

তিনি বলেন, সংবিধান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে জাতিকে বিভক্ত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অবসান, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকসন্ত্রাস উচ্ছেদ এবং সন্ত্রাস নির্মূল করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে দেশে হতাশা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে এমন একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার নামই সংবিধান। তিনি উল্লেখ করেন, "সময় প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।" দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ও বাস্তবতা বিবেচনায় সংবিধানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অল্প সময়ে প্রণীত হওয়া দেশের জন্য গর্বের বিষয়। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, সংবিধানের মধ্যে থাকা ফ্যাসিবাদী উপাদান দূর করতে না পারলে জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, "সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এই বিতর্কের কারণে জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে।"

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%