০৮:২৫ পি.এম
গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এবং এটি অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন বিদ্যমান। তিনি বলেন, "জনআকাঙ্ক্ষার প্রয়োজনে সময়ের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন হতে পারে। তবে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এই পবিত্র সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই।"
বুধবার সংবিধান দিবস উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান তার লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান জনমত ও জনআকাঙ্ক্ষার দলিল। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে সেই চেতনার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "সময় বিবর্তনে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হতে পারে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এই সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার কোনো অবকাশ নেই।"
তিনি বলেন, সংবিধান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে জাতিকে বিভক্ত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অবসান, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকসন্ত্রাস উচ্ছেদ এবং সন্ত্রাস নির্মূল করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে দেশে হতাশা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।
ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে এমন একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ১৫০ ভরি স্বর্ণের বিরোধে যুবদল নেতা সাকের খুন : পুলিশ
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার নামই সংবিধান। তিনি উল্লেখ করেন, "সময় প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।" দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ও বাস্তবতা বিবেচনায় সংবিধানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অল্প সময়ে প্রণীত হওয়া দেশের জন্য গর্বের বিষয়। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, সংবিধানের মধ্যে থাকা ফ্যাসিবাদী উপাদান দূর করতে না পারলে জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, "সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এই বিতর্কের কারণে জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে।"
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ।
আরও পড়ুন: সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন