ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সংবিধানকে অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই: ড. কামাল হোসেন


সংবিধানকে অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই: ড. কামাল হোসেন

গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এবং এটি অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন বিদ্যমান। তিনি বলেন, "জনআকাঙ্ক্ষার প্রয়োজনে সময়ের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন হতে পারে। তবে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এই পবিত্র সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই।"

বুধবার সংবিধান দিবস উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান তার লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান জনমত ও জনআকাঙ্ক্ষার দলিল। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে সেই চেতনার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "সময় বিবর্তনে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হতে পারে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এই সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার কোনো অবকাশ নেই।"

তিনি বলেন, সংবিধান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে জাতিকে বিভক্ত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অবসান, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকসন্ত্রাস উচ্ছেদ এবং সন্ত্রাস নির্মূল করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে দেশে হতাশা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে এমন একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ১৫০ ভরি স্বর্ণের বিরোধে যুবদল নেতা সাকের খুন : পুলিশ

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার নামই সংবিধান। তিনি উল্লেখ করেন, "সময় প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।" দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ও বাস্তবতা বিবেচনায় সংবিধানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অল্প সময়ে প্রণীত হওয়া দেশের জন্য গর্বের বিষয়। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, সংবিধানের মধ্যে থাকা ফ্যাসিবাদী উপাদান দূর করতে না পারলে জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, "সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এই বিতর্কের কারণে জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে।"

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ।

আরও পড়ুন: সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ, উভয় ক্ষেত্রেই ডেমোক্র্যাটরা জয়লাভ করেছে। এর ফলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি অংশে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকবে। এই পরিস্থিতিতে, আইন প্রণয়ন ও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হতে পারে।

ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম

ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব ছিল। তিনি ফক্স নিউজকে বলেছেন, গ্যাসের উচ্চমূল্য রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে এবং যখন জনগণকে জ্বালানির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে, তখন তারা তা ‘পছন্দ করেনি।’

একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটার জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি ছিল ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। নিউইয়র্ক টাইমসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধে অংশগ্রহণকে ‘খুবই বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বিবেচনা করেন।

‘আমি ব্যালটে ছিলাম না’

ট্রুথ সোশ্যাল এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যদি ব্যালটে তার নাম থাকতো, তাহলে রিপাবলিকানরা জয়ী হতো। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি জানান, ‘আমি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ছিলাম না এবং আমার অনুপস্থিতির কারণেই আমরা যথেষ্ট মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারিনি।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী ‘আরো ভালো হতে পারতেন’, যাদের মধ্যে কয়েকজন হেরে যাওয়া প্রার্থীও ছিলেন, যাদের তিনি নিজে সমর্থন দিয়েছিলেন।

‘ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করেছে’

ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন যে, ডেমোক্র্যাটরা ‘ভালো কাজ করেছে।’ তিনি আরও জানান, রিপাবলিকানরা ‘বিশাল বিশাল জনসভা’ করার পরেও ডেমোক্রেটদের এই ফলাফলে তিনি ‘কিছুটা অবাক’ হয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটদের সাথে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। যদিও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই নিয়ন্ত্রণ তার পরিকল্পনাগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের সাথে কাজ করার মতো ‘অনেক অনেক বিষয়’ রয়েছে, তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে তিনি ‘ভেটো পাওয়ার বা ক্ষমতা’ ব্যবহার করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ আ.লীগ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


গণমাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ আ.লীগ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বার্তা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং এই বার্তা প্রকাশ করে।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, আজ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নিয়েছে। দুপুরের দিকে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের অফিসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেনের বক্তব্যে দখলবাজির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মূলত ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান পদ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এসব অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, শিল্প খাতের অস্থিরতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বেও তিনি ছিলেন।

তবে সম্প্রতি তার কার্যক্রমে গোয়েন্দাদের কাছে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। পোশাক খাত নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তারা কিছুদিন ধরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের নিয়ে মিডিয়া দখল করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ডিবিসি টেলিভিশন দখলের চেষ্টা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকদের নয়, আন্দোলনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


শ্রমিকদের নয়, আন্দোলনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, "এই আন্দোলন শ্রমিকদের আন্দোলন নয়, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশেকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে।"

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মন্ত্রী বলেন, "শ্রমিক নয়, এমন কিছু ব্যক্তি আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।" তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, "কিছু ইন্ডাস্ট্রির মালিকও রয়েছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তারা এর সঙ্গে জড়িত।" মন্ত্রী আরও বলেন, "অশান্তি সৃষ্টি করতে তাদের একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তারা দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।"

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "হয়তো কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করছে। আর সেটা এখানে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।" তিনি জানান, "আমরা কঠোর হাতে সেটা দমনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।"

মন্ত্রী বলেন, "যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়ার পক্ষে আমরা সবসময় কথা শুনতে রাজি।" তিনি উল্লেখ করেন, "জন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে, তারা সেখানে যাবে।" মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানান, "সবাই স্বীকার করেছেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়।" তিনি বলেন, "বিভিন্নভাবে একটা রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে, শ্রমিকদের ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে।"

মন্ত্রী আরও বলেন, "শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করা।" তিনি জানান, "সেটা যথেষ্ট সময়ের আগে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, "বোর্ড গঠনের জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির নাম দিতে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তা না হলে আরও দু’সপ্তাহ আগেই বোর্ড গঠন করতে পারতাম।"

মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "এখানে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ এবং অন্যান্য যারা রয়েছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান সবার বক্তব্য শুনবেন।" তিনি বলেন, "অতীতে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর যে মজুরি নির্ধারণ হতো, তার মধ্যে কী হারে বৃদ্ধি হয়েছিল, সেটাকে পাঁচ দিয়ে ভাগ করবেন, তারপরে তিন দিয়ে গুণ করবেন।" তিনি আরও বলেন, "ইকোনমিক ভ্যালু কীভাবে হয়েছে, কীভাবে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নেবেন।"

তিনি আরও বলেন, "সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক সঙ্গতি, মালিকপক্ষের যুক্তি, শ্রমিকপক্ষের যুক্তি মিলে একটা যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।"

মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "এটা মজুরি বোর্ড দেখবে। তবে আমরা বলেছি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যেন সেটা ঘোষণা হয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "যাতে শ্রমিকদের জানুয়ারি থেকে এটা কার্যকর হয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণ বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি, প্রতিমন্ত্রীসহ ১০ দপ্তরে অনুলিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণ বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি, প্রতিমন্ত্রীসহ ১০ দপ্তরে অনুলিপি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর।
এই অভিযোগের পর আজকের পত্রিকা অনলাইনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে উঠে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
পরে আজ ৪ নভেম্বর, বুধবার হাসপাতালের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান।

চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ভৈরব কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম সহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।


উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হাসপাতালের জায়গা রক্ষার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় প্রতিবাদ।

সিভিল সার্জনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্বাধীনতার আগে থেকে অদ্যাবধি সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী এখান থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা পান। প্রতিষ্ঠানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভৈরবের প্রাণকেন্দ্র বাজার এলাকায় প্রায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত পৌরসভার ইপিআই টিকাদান কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এখানে আধুনিক ২০ শয্যার একটি ডায়াবেটিস হাসপাতাল স্থাপনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের জনবলের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

চিঠিতে সিভিল সার্জন অভিযোগ করেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর একদল লোক হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা তা প্রতিহত করেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, হাসপাতালটি সচল থাকা অবস্থায় এর স্থাপনা বিলীন করার উদ্যোগ স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষকে মর্মাহত করেছে। জমিটি এখনো বিএস রেকর্ডে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে রয়েছে এবং নিয়মিত সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্র আরও উন্নত ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা করার জন্য জেলা পরিষদ প্রশাসককে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা এবং সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে প্রায় ১০ হাজার নতুন ইট রাখা অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি দোকানের এক শাটার ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রির কথাও শোনা যায় লোকমুখে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব বাজার মৌজার খতিয়ান নং-৩৩, দাগ নং-৭৫০২ দাগে প্রায় ৩৮.২৮ শতাংশ জমি বিএস খতিয়ানে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে সিএস খতিয়ানে জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী জানিয়েছিলো, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সচল থাকবে, তবে বাকি জায়গায় জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ করবে। এখনো কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। কাজের জন্য ইট আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনোভাবেই সচল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। বরং হাসপাতালটি আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছিলো। গতকাল ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের লোকজন হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় মানুষ ও সুশীল সমাজের লোকজন তা প্রতিহত করে। বিষয়টি জানার পর আজ বুধবার, নির্মাণ কাজ বন্ধসহ স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%