ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

গণমাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ আ.লীগ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়


গণমাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ আ.লীগ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বার্তা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং এই বার্তা প্রকাশ করে।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, আজ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নিয়েছে। দুপুরের দিকে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের অফিসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেনের বক্তব্যে দখলবাজির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মূলত ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান পদ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এসব অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, শিল্প খাতের অস্থিরতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বেও তিনি ছিলেন।

আরও পড়ুন: সরকারের ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ

তবে সম্প্রতি তার কার্যক্রমে গোয়েন্দাদের কাছে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। পোশাক খাত নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তারা কিছুদিন ধরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের নিয়ে মিডিয়া দখল করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ডিবিসি টেলিভিশন দখলের চেষ্টা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকদের নয়, আন্দোলনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


শ্রমিকদের নয়, আন্দোলনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, "এই আন্দোলন শ্রমিকদের আন্দোলন নয়, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশেকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে।"

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মন্ত্রী বলেন, "শ্রমিক নয়, এমন কিছু ব্যক্তি আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।" তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, "কিছু ইন্ডাস্ট্রির মালিকও রয়েছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তারা এর সঙ্গে জড়িত।" মন্ত্রী আরও বলেন, "অশান্তি সৃষ্টি করতে তাদের একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তারা দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।"

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "হয়তো কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করছে। আর সেটা এখানে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।" তিনি জানান, "আমরা কঠোর হাতে সেটা দমনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।"

মন্ত্রী বলেন, "যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়ার পক্ষে আমরা সবসময় কথা শুনতে রাজি।" তিনি উল্লেখ করেন, "জন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে, তারা সেখানে যাবে।" মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানান, "সবাই স্বীকার করেছেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়।" তিনি বলেন, "বিভিন্নভাবে একটা রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে, শ্রমিকদের ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে।"

মন্ত্রী আরও বলেন, "শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করা।" তিনি জানান, "সেটা যথেষ্ট সময়ের আগে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, "বোর্ড গঠনের জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির নাম দিতে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তা না হলে আরও দু’সপ্তাহ আগেই বোর্ড গঠন করতে পারতাম।"

মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "এখানে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ এবং অন্যান্য যারা রয়েছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান সবার বক্তব্য শুনবেন।" তিনি বলেন, "অতীতে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর যে মজুরি নির্ধারণ হতো, তার মধ্যে কী হারে বৃদ্ধি হয়েছিল, সেটাকে পাঁচ দিয়ে ভাগ করবেন, তারপরে তিন দিয়ে গুণ করবেন।" তিনি আরও বলেন, "ইকোনমিক ভ্যালু কীভাবে হয়েছে, কীভাবে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নেবেন।"

তিনি আরও বলেন, "সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক সঙ্গতি, মালিকপক্ষের যুক্তি, শ্রমিকপক্ষের যুক্তি মিলে একটা যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।"

মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "এটা মজুরি বোর্ড দেখবে। তবে আমরা বলেছি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যেন সেটা ঘোষণা হয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "যাতে শ্রমিকদের জানুয়ারি থেকে এটা কার্যকর হয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণ বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি, প্রতিমন্ত্রীসহ ১০ দপ্তরে অনুলিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণ বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি, প্রতিমন্ত্রীসহ ১০ দপ্তরে অনুলিপি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর।
এই অভিযোগের পর আজকের পত্রিকা অনলাইনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে উঠে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
পরে আজ ৪ নভেম্বর, বুধবার হাসপাতালের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান।

চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ভৈরব কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম সহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।


উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হাসপাতালের জায়গা রক্ষার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় প্রতিবাদ।

সিভিল সার্জনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্বাধীনতার আগে থেকে অদ্যাবধি সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী এখান থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা পান। প্রতিষ্ঠানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভৈরবের প্রাণকেন্দ্র বাজার এলাকায় প্রায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত পৌরসভার ইপিআই টিকাদান কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এখানে আধুনিক ২০ শয্যার একটি ডায়াবেটিস হাসপাতাল স্থাপনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের জনবলের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

চিঠিতে সিভিল সার্জন অভিযোগ করেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর একদল লোক হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা তা প্রতিহত করেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, হাসপাতালটি সচল থাকা অবস্থায় এর স্থাপনা বিলীন করার উদ্যোগ স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষকে মর্মাহত করেছে। জমিটি এখনো বিএস রেকর্ডে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে রয়েছে এবং নিয়মিত সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্র আরও উন্নত ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা করার জন্য জেলা পরিষদ প্রশাসককে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা এবং সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে প্রায় ১০ হাজার নতুন ইট রাখা অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি দোকানের এক শাটার ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রির কথাও শোনা যায় লোকমুখে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব বাজার মৌজার খতিয়ান নং-৩৩, দাগ নং-৭৫০২ দাগে প্রায় ৩৮.২৮ শতাংশ জমি বিএস খতিয়ানে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে সিএস খতিয়ানে জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী জানিয়েছিলো, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সচল থাকবে, তবে বাকি জায়গায় জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ করবে। এখনো কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। কাজের জন্য ইট আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনোভাবেই সচল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। বরং হাসপাতালটি আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছিলো। গতকাল ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের লোকজন হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় মানুষ ও সুশীল সমাজের লোকজন তা প্রতিহত করে। বিষয়টি জানার পর আজ বুধবার, নির্মাণ কাজ বন্ধসহ স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে ব‍্যবসায়ির গড়া "সামারা ভিলা’ দখলের পাঁয়তারা: মেজো ভাইয়ের তাণ্ডব, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা,মোঃসানি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


বাকেরগঞ্জে ব‍্যবসায়ির গড়া "সামারা ভিলা’ দখলের পাঁয়তারা: মেজো ভাইয়ের তাণ্ডব, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া গ্রামে নিজ শ্রম, ঘাম ও অর্থায়নে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্প ‘সামারা ভিলা’ দখলের উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসে অর্জিত অর্থে নির্মিত এই বহুতল ভবনটি জবরদখল করার জন্য মেজো ভাই মিজানুর রহমান স্বপন স্থানীয় ও ভাড়াটে লোকজনকে নিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার পটভূমি ও আইনি মালিকানা

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলহাজ মো. তরিকুল ইসলাম তারেক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় সফল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৬ সালে তিনি নিজ অর্থায়নে আঙ্গারিয়া গ্রামে ৪৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ভাইদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও বিশ্বাসের কারণে দলিলে অন্যান্য ভাইদের নামও অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে ছোট ভাই আর্থিক সংকটে পড়লে তাঁর অংশটুকুও নিজ খরচে কিনে নেন।

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও একক অর্থায়নে ২০২০ সালে ওই জমিতে দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি এবং ২০২৩ সালে এর দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। নিজ আদরের একমাত্র মেয়ের নামানুসারে বাড়িটির নাম রাখা হয় ‘সামারা ভিলা’ (হোল্ডিং নম্বর: ৩৫৬)। ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ছোট ভাই আরিফুর রহমান সুমন বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিচতলায় বসবাস করছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার, চাকরিচ্যুতি ও সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্যমেজো ভাই মিজানুর রহমান স্বপন দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফেরার পর তিনি আলহাজ মো. তরিকুল ইসলামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন কর্মরতও ছিলেন। একপর্যায়ে চারিত্রিক অধঃপতনের কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি ঢাকা ও বিভিন্ন স্থানে ভাসমান জীবন কাটিয়ে সুকৌশলে ছোট ভাই সুমনের সাথে যোগাযোগ করে গ্রামে প্রবেশ করেন এবং হীন উদ্দেশ্যে নিচতলায় থাকা শুরু করেন। তাঁর এ ধরনের দুরভিসন্ধি বুঝতে পেরে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ জানান মো. তরিকুল ইসলাম।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপাশা ইউনিয়নের তৎকালীন ও বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের দলিল ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করা হয়। সালিশে মিজানুর রহমানের অংশ সম্পূর্ণ আলাদা করে সীমানা পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এবং মো. তরিকুল ইসলামের একক খরচে নির্মিত বাড়িঘর, পুকুর ও প্রবেশপথ তাঁর অনুপস্থিতিতে ও অননুমতিক্রমে ছোট ভাই আরিফুর রহমানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু কিছুদিন পরেই মিজানুর রহমান শালিসী সিদ্ধান্ত অমান্য করে পেশিশক্তির ব্যবহার করেন। তিনি ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্য মিলে বাড়ির নামফলক, পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া উপড়ে ফেলে পানিতে ফেলে দেন। তাঁদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর কাছে তাঁরা ভুল স্বীকার করেন যাহার সমস্ত নথিপত্র এবং দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার প্রমাণাদি ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি সালিশে ভুল স্বীকার করলেও তাঁদের উপস্থিতিতেই মিজানুর রহমানের ছেলেসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রকাশ্য মো. তরিকুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেন। এসব কথোপকথন ও হুমকির ভিডিও রেকর্ড দুর্গাপাশা ইউনিয়ন পরিষদে সুরক্ষিত আছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট
স্থানীয় সালিশ ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পুরো বাড়িটি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিত হামলা চালান মিজানুর রহমান। বাউফল থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী সঙ্গে নিয়ে তিনি আকস্মিক তাণ্ডব চালান। বাড়ির মূল নামফলক ভেঙে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সীমানা নির্ধারণের পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া তুলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য রক্ষিত প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার টাইলস, মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, এসি, গিজার ও স্যানিটারি সামগ্রীসহ সমস্ত আসবাবপত্র লুট করে নেওয়া হয়।জোরপূর্বক ভবনটির দোতলা দখল করে নেওয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবারের আকুতি
বর্তমানে ‘সামারা ভিলা’র তত্ত্বাবধানে থাকা আরিফুর রহমান সুমন ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে সুমনকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানিয়েছেন, বাড়ি দখল ও মালামাল লুটের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজ রক্ত ও ঘামে গড়া সম্পত্তি রক্ষার জন্য এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি ও দৃষ্টান্তমূলক হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ তুহিন(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা রাসায়নিক সার আটক করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সার পাচারের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থেকে ভ্যানযোগে রাসায়নিক সার গোমস্তাপুরের শিমুলতলী এলাকায় নিয়ে আসার সময় স্থানীয় লোকজন ১৬ বস্তা সার আটক করেন।

পরে বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সার পরিবহনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সার পাচারের অভিযোগে মো. রশিদ (পিতা: ফারাজ, সাং: নিমতলা কাঁঠাল, গোমস্তাপুর ইউনিয়ন, থানা: গোমস্তাপুর, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ) নামের এক ব্যক্তিকে নগদ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে আটক করা ১৬ বস্তা সার পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সার যাতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে অবৈধভাবে সরবরাহ বা পাচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%