০৩:০১ পি.এম
বাগেরহাটের ফকিরহাটে চোখের জটিল রোগ লিম্ফোমায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দিনমজুর মহাসিন শেখ (৩৬)। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁর পরিবার ইতোমধ্যে স্ত্রী ও মেয়ের গয়না বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় করেছে। তবে অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আরও ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হলেও আর্থিক অনটনে থাকা পরিবারটির পক্ষে তা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মহাসিনের চিকিৎসায় সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজনেরা।
মহাসিন শেখ বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছয় সদস্যের সংসার পরিচালনা করেন। দিনমজুরি করে তাঁদের অন্নসংস্থান চলত। কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে মারাত্মক অসুস্থ থাকায় বর্তমানে তিনি কোনো কাজ করতে পারছেন না, ফলে পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রথমে মহাসিনের চোখে চুলকানি দেখা দেয়। পরবর্তীতে চোখ লাল হয়ে তীব্র ব্যথা শুরু হলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর দ্রুত অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও এর জন্য ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ এমপি মনিরুলের
চিকিৎসার খরচ মেটাতে মহাসিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা বেগম নিজের ও মেয়ের গয়না বিক্রি করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়নি। স্বামীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং সংসার চালানোর দায়িত্ব নিয়ে তিনি চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মহাসিন শেখ বলেন, 'অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই প্রায় এক লাখ টাকা শেষ হয়েছে। চিকিৎসকেরা দ্রুত অপারেশন করতে বলেছেন, যার জন্য ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা লাগবে। দিনমজুর মানুষ হিসেবে এই টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। সরকার বা বিত্তবানরা একটু সহযোগিতা করলে হয়তো অপারেশন করাতে পারব। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করে পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে চাই।'
তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী তিন মাস ধরে অসুস্থ। আমার ও মেয়ের সামান্য যা গয়না ছিল, সবই বিক্রি করে এক লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন আর চিকিৎসা চালানোর কোনো সামর্থ্য নেই। সবাই একটু পাশে দাঁড়ালে হয়তো আমার স্বামীর জীবনটা বাঁচানো সম্ভব হতো।'
মহাসিনের ভাতিজা মাহিম হাসান জানান, তাঁর চাচা ঢাকা ও খুলনায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে আজ নিঃস্ব। পরিবারে আর কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তিও নেই। সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি ও প্রবাসীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁর চাচার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। প্রতিবেশী ইবাদুল মোড়ল ও মহাসিনের মা ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইমামদের সঠিক তথ্য প্রচারের আহ্বান
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন শুধু চোখের ওষুধ কিনতেই প্রায় ৩০০ টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। উপার্জন বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। চোখ সুস্থ করে আবারও কর্মজীবনে ফিরে যেতে চান মহাসিন। তাঁর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা যোগাযোগ করতে পারেন এবং নিচের বিকাশ নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।
মহাসিন শেখের যোগাযোগ ও বিকাশ নম্বর: ০১৮১১৮৮৩৩১৯
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন