০৪:১৯ পি.এম
সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, একটি দেশের বিচার বিভাগের গুণমানই তার প্রধান অর্থনৈতিক সূচক। তিনি মন্তব্য করেন, "দ্রুত, কার্যকর এবং স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা বাণিজ্যিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো নির্মাণ করছি।"
আজ শনিবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বলরুমে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিআক) প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম বাংলাদেশ এডিআর সামিট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়িত অর্থনীতি বর্তমানে দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীই কোনো দেশকে শুধু কর ছাড় বা অবকাঠামো দিয়ে বিচার করেন না। তাঁরা নিশ্চয়তা খোঁজেন এবং এ আশ্বাস চান যে চুক্তিগুলো সম্মানিত হবে, অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং বিরোধগুলো বহু দশকে নয়, বরং কয়েক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
এডিআরের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব আইনি পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার। এছাড়া বিআক-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং ব্যাংকিং ও করপোরেট খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি নিবন্ধন ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের মাধ্যমে শুরু হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর বিআক-এর চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিআক-এর পথচলা, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সালিশ ও মধ্যস্থতা ব্যবস্থার বিকাশে বিআক-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও অন্যান্য অংশীজনদের ধারাবাহিক সহযোগিতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এরপর "বিয়াক নিয়ে প্রতিফলন: ২০১১-২০২৬" শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিআক-এর ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এ (রুমী) আলী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি মো. আওলাদ আলী, আফতাবুল ইসলাম, ড. খালেদ হামিদ চৌধুরী এবং রিজওয়ান রহমান। বক্তারা বিগত ১৫ বছরে বিআক-এর অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশে এডিআর ব্যবস্থার বিকাশে এর অবদান এবং বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক সালিশ ও মধ্যস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
বিআক এর প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে, বিআক-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কেটে প্রতিষ্ঠানের এ গৌরবময় মাইলফলক উদযাপন করেন।
এ সময় বিআক-এর অব্যাহত অঙ্গীকার ছিল বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ, কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায়ে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং এডিআর ব্যবস্থার প্রসার।
বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার মূল প্রবন্ধে ‘এডিআরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও ব্যবসায়িক আস্থা শক্তিশালীকরণ’ প্রতিপাদ্যের ওপর আলোকপাত করেন এবং বলেন, প্রচলিত বিচারব্যবস্থার কার্যকর পরিপূরক হিসেবে এডিআর দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, ন্যায়বিচারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি অধিকতর পূর্বানুমানযোগ্য ও আস্থাশীল আইনি পরিবেশ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর একই প্রতিপাদ্যের ওপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার-এর সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা; ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ফররুখ রহমান; অধ্যাপক ড. মিলিতা মেহজাবীন, চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি এবং ব্যারিস্টার মারজুক কবির।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার
আলোচনায় বক্তারা বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এডিআর-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁরা বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
পরে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সালিশ, মধ্যস্থতা এবং অন্যান্য এডিআর প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক এডিআরের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও আস্থার প্রতিফলন ছিল।
অনুষ্ঠানটি বিআক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এ এম মাজেদুর রহমানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সঙ্গে শেষ হয়। বাংলাদেশের প্রথম এডিআর সামিট কেই বিআক-এর প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তির এই আয়োজন বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা এবং এডিআর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করেছে। একে অপরের সহযোগিতায় বাংলাদেশে সালিশ, মধ্যস্থতা এবং অন্যান্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বিস্তার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়নে অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন