০৬:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নতুন করে সংক্রমণের শিকার না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (আইপিসি) প্রটোকল নিয়মিতভাবে চর্চা ও অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদেরও এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে।
আজ রোববার সকালে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে চার দিনব্যাপী ‘ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি ম্যানুয়াল গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।
আরও পড়ুন: বিশ্ব ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি ও শিশু দিবস উপলক্ষে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
উপাচার্য বলেন, বিএমইউতে এই কর্মশালার উদ্বোধনের মাধ্যমে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। একজন চিকিৎসককে রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয়। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত চর্চা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সদস্য ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। পরবর্তীতে কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদেরও এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বসহকারে শেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সবাই আইপিসি প্রটোকল অনুসরণ করবেন বলে তিনি আশা করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশেষায়িত চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএমইউ হাসপাতালে কার্যকর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব এবং সংক্রমণ নজরদারির চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
হাসপাতালের দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট্রাল স্টেরিলাইজেশন বিভাগ (সিএসএসডি) না থাকায় বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করছে। এ ছাড়া আইসিইউ, এনআইসিইউ ও সাধারণ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত দর্শনার্থীর প্রবেশ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) শিশুদের দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
আরও পড়ুন: চিকিৎসকদের রাজনৈতিক কারণে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যাবে না: চসিক প্রশাসক
অনুষ্ঠানে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় স্টেরিলাইজেশন বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সংক্রমণ নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও পৃথক বাজেট বরাদ্দ, নিয়মিত অডিট এবং বিভাগ ভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিএমইউর ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইরতেকা রহমান।
এ সময় বিএমইউর ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল কমিটির সদস্য সচিব ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাজী আলী আফতাব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুরাদ সুলতান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইসলাম।
আরও পড়ুন: চক্ষুসেবায় ৭ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত
চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে বিএমইউর বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন