মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৬ পি.এম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সোহেল ও রানা নামের দুই বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও নিয়মিত অফিসে বসে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার করছেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহেল ও রানা দীর্ঘদিন ধরে অফিসের ল্যাপটপ ও কম্পিউটারে বসে সরকারি কাজ পরিচালনা করছেন। তারা নামজারি (খারিজ) সহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী নির্মল চন্দ্র অভিযোগ করেন, "জমির খারিজের কথা বলে সোহেল আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমি প্রথমে তাকে ভূমি অফিসেরই কোনো কর্মকর্তা বা স্টাফ মনে করেছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তিনি এই অফিসের কেউ নন।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব লতিফ বহিরাগতদের উপস্থিতি স্বীকার করলেও তাদের অনিয়মে জড়িত থাকার কথা এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, "সোহেল ও রানা মাঝেমধ্যে কম্পিউটারে বসে থাকেন ঠিকই, তবে তারা কোনো দাপ্তরিক কাজ করেন না।" যদিও অনুসন্ধানে বহিরাগত সোহেলকে সরাসরি সরকারি কম্পিউটারে বসে ভূমি-সংক্রান্ত গোপনীয় ও দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করতে দেখা গেছে।
একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি দপ্তরের চেয়ারে বসে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন—এমন প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল করিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, "সরকারি দপ্তরের কোনো চেয়ারে কোনো বেসরকারি বা বহিরাগত ব্যক্তি বসার কোনো সুযোগ নেই। যে কর্মকর্তার দায়িত্ব, তাকেই সেখানে বসতে হবে। সরকারি অফিশিয়াল কম্পিউটার সাধারণ কোনো ব্যক্তি ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে বহিরাগতদের এই অবাধ যাতায়াত এবং প্রকাশ্য লেনদেনের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী কর্মকর্তা লতিফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াত এমপির রাষ্ট্রীয় সম্মাননার দাবি আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ীদেরপটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসউদ, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ও কারিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননা দেওয়ার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন।তিনি মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই দাবি জানান।সম্প্রতি মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড্ডীন করার কথা উল্লেখ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসউদ বলেন, ‘১২৩টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আমার দেশের সন্তান, আমার বাউফলের সন্তান। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তার কাছে যাওয়ার এবং তাকে কাছে পাওয়ার।’তিনি প্রধান ধারার গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার সমালোচনা করে আরও বলেন, ‘ক্রিকেট দল ভালো করলে আমরা এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাই। অথচ প্রথম স্থান অধিকার করা এই সন্তানদের জন্য আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে কী করেছি? বিমানবন্দর থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কেবল একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে নামমাত্র রিসিভ করা হয়েছে। অথচ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কেউ আন্তর্জাতিক সাফল্য পেলে তাদের গাড়ি, বাড়ি, প্লট ও নানা সম্মাননা দেওয়া হয়। তাহলে কোরআনের এই প্রতিযোগিতায় যারা অবদান রাখলেন, আমরা কেন তাদের মূল্যায়ন করতে পারলাম না?’তিনি আমাদের মনস্তাত্ত্বিক সংকীর্ণতা ও হীনমন্যতা কোথায়—এমন প্রশ্ন রেখে সংসদ সদস্য বলেন, দেশের এই কৃতিসন্তানদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের অবমূল্যায়নের চিত্র দেখেছেন। স্পিকারের মাধ্যমে এই সংসদে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং কোরআনে বিশ্বজয়ীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মাননা দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদানের দাবি জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের সদর উপজেলার আলালপুরে সংঘটিত দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদরের আলালপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হালুয়াঘাটের আব্দুর রাজ্জাক এবং ফুলপুরের তোফাজ্জল হোসেন। অন্য একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাস যখন আলালপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা ইমাম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান।ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যালের মর্গে রাখা হয়েছে।এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মির্জা আব্বাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসা গ্রহণের পর দেশে ফিরে এসেছেন।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিএনপির ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।মির্জা আব্বাসের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর এলাকায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে স্লোগান দেন।গত ১১ মার্চ রমজান মাসের ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। ওই দিন রাতেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখতে পান সাবেক এই মন্ত্রীর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে ১৫ মার্চ মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে কিছুটা উন্নতির পর চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে তাঁর পুনর্বাসনের জন্য চিকিৎসা ও থেরাপি দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা মির্জা আব্বাসের সুস্থতাকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছিলেন মালয়েশিয়ায় নেওয়ার আগে।গত ১৬ মে প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস। ওই দিন তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস এবং তিনি দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে আছেন। সবার দোয়া ও আল্লাহর অশেষ রহমতে মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে তাঁর ফিজিওথেরাপি এখনও চলছে। নিউরোসংক্রান্ত বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত ফলোআপ ও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল ২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ফেসবুকে নবীজি (সাঃ)-কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর আখাউড়া থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব সহকারে অভিযান শুরু করে।
অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশ আখাউড়া থানাধীন মনিয়ন্দ ইউনিয়নের কর্ণেল বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান ওয়াসিমকে (২৫) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে গ্রেফতার করে।
*গ্রেফতারকৃতের পরিচয়:*
- নাম: আসাদুজ্জামান ওয়াসিম (২৫)
- পিতা: রতন ডাক্তার
- ঠিকানা: আইড়ল (কর্ণেল বাজার), থানা- আখাউড়া, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ