বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৪ পি.এম
ঠাকুরগাঁও, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।
আজ বিকেলে সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের নারগুন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও সদর ও রুহিয়া এলাকার ২ হাজার ৫১৭ জন কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে জেলায় এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।
এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১ হাজার ১৪৮ জন এবং রুহিয়া এলাকার ১ হাজার ৩৬৯ জন কৃষক রয়েছেন।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জরিপের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে ১১ হাজার ৬৪৮ জন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি কৃষিসেবা, কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সহায়তা সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর ফলে কৃষকদের সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া ব্লকের ৯৬৫ জন কৃষক এবং রুহিয়া এলাকার কুজিশহর ব্লকের ১ হাজার ১৭২ জন কৃষক কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন।
কৃষক কার্ড পেয়ে উপকারভোগী কৃষকদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা যায়। তারা জানান, কৃষিকাজে সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণের ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ তাদের কৃষিকাজে সহায়ক হবে।
উপকারভোগী কৃষকরা বলেন, "কৃষক কার্ড পাওয়ায় আমরা খুশি। কৃষিকাজের জন্য সরকারের কাছ থেকে সহায়তা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সহায়তা আমাদের মতো কৃষকদের জন্য বেশ উপকারি।"
তারা আরো বলেন, "কৃষক হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি নিয়মিত কৃষি সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে এবং কৃষিকাজে উৎসাহ বাড়বে।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক হাতেম আলী, ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, "কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা ও প্রণোদনা সহজে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার আরো কৃষককে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।"
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরো সহজে, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরো কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরতের কাশফুলের রঙে পরিবর্তন এসেছে রংপুরের পীরগঞ্জের করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে। নদীর তীর এবং উঁচু চরে সাদা কাশফুল ফুটে উঠেছে। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিকেল হলেই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মানুষ কাশবনে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, করতোয়া নদীর জাতের ঘাটে বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজ ঘাসের মধ্যে কাশফুল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশবন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে আসছেন। অনেকেই কাশফুলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও তুলছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
দর্শনার্থীদের ভিড় বিকেলের দিকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সূর্যের আলো নরম হয়ে এলে কাশফুলের শুভ্রতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে চরাঞ্চল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতিবছর শরৎকালে করতোয়ার চরে কাশফুল ফুটলেও, এবারের ফুল ফোটার পর থেকে মানুষের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিকেলে নদীর পাড়ে অনেক মানুষের সমাগম হচ্ছে। কাশবনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে এক ধরনের দর্শনীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কাশফুল দেখতে আসা দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, "কাশফুলের এমন দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখতে ভালো লাগে। পরিবার নিয়ে বিকেলে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছি। ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ সুন্দর।"
আরেক দর্শনার্থী মন্তব্য করেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশফুলের ছবি দেখে এখানে আসার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এসে দেখলাম, জায়গাটি বেশ সুন্দর। বিকেলে এখানে অনেক মানুষ আসছেন।"
স্থানীয়দের ভাষ্য, করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও, এখানে পর্যটনসুবিধা তেমন নেই। যাতায়াতব্যবস্থা, বসার জায়গা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা গেলে দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
শরতের কাশফুল বাংলার প্রকৃতির চিরচেনা সৌন্দর্যের অংশ। করতোয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর এবং সাদা কাশবন দেখতে এখন প্রতিদিনই মানুষ ছুটে আসছেন। ফলে শরতের মৌসুমে পীরগঞ্জের এই চরাঞ্চল স্থানীয়দের কাছে নতুন এক আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগীর ঢালীর বাজার থেকে নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির রাস্তা বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়। ফলে সারা বছরই এই প্রধান সড়কটি চলাচলের জন্য প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে। এমনকি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতাল পর্যন্ত নিতে হয় লাশ বহনের খাটিয়ায়। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক এবং সাধারণ পথচারীসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
নলুয়াবাগী গ্রামের বাসিন্দা রাব্বি জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটির এই একই অবস্থা দেখা যায়, কিন্তু পাকাকরণের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
একই এলাকার আরেক যুবক আবু সাঈদ বলেন, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। বর্ষা এলেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগী, স্কুলগামী শিশু এবং কৃষকদেরও চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়।
পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শের-ই জাহান রাজিবুল হক জানান, রাস্তাটির অবস্থা এতই করুণ যে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই একটি রাস্তা দিয়েই তাদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অযোগ্য থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে না।
নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান জানান, বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে আসতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, স্কুলব্যাগ ও পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন এভাবে বিদ্যালয়ে আসা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে মাহতাব ফরাজি নামের এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তাটিতে এতটাই কাদা ছিল যে, চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। এ সময় তাকে লাশ বহনকারী খাটিয়ায় করে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
গোলখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কাদের মিয়া বলেন, রাস্তাটি নিয়ে তারা উপজেলার বিভিন্ন সভায় আলোচনা করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কয়েক দিন আগে তাদের এলাকার প্রতিমন্ত্রীর এক সভায়ও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।
এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী ঢালীর বাজার থেকে নলুয়াবাগী রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। পাকাকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সুফল পাওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানকে নিয়ে নির্মাতা হিমেল আশরাফ নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন। ‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’-এর পর আবারও এই জুটি বড় পর্দায় ফিরছে। নতুন সিনেমাটির নাম ‘মহব্বত’, যা আগামী বছরের কোরবানির ঈদে মুক্তি পাবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিনেমাটির নাম এবং প্রথম পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। পোস্টারে কালো ওভারকোট পরা এক যুবকের সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যাচ্ছে। তবে শাকিব খানের বিপরীতে কে অভিনয় করবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
‘মহব্বত’ পরিচালনা করছেন হিমেল আশরাফ এবং প্রযোজনায় রয়েছেন আরশাদ আদনান। এর আগে এই ত্রয়ীর ‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’ দর্শকদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। এবারও তাদের নতুন সিনেমা নিয়ে আগ্রহ শুরু হয়েছে।
সিনেমাটির গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নির্মাতার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি, মূল্য এবং লড়াইয়ের গল্প থাকছে ‘মহব্বত’-এ।
গত কয়েক বছরে শাকিব খানকে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে বেশি দেখা গেলেও এবার প্রেমের গল্পে তাকে দেখা যাবে। ফলে ‘মহব্বত’ দিয়ে নতুন কোনো রূপে শাকিবকে পর্দায় দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন দর্শকদের আগ্রহের বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সতর্ক করেছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত পূর্ববর্তী সরকারের সমর্থক এবং একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ আবারও জনগণের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে একত্রিত হয়েছে এবং দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন, যেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কোনো কর্মসূচি নেই; বরং তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেই সক্রিয়।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে, আজ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুপ্ত রাজনীতি করে এবং যাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো কর্মসূচি নেই, তারা কেবল ক্ষমতা যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই প্রভাবিত করবে না, বরং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলোও ব্যাহত হবে।
তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আজ আমি মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছি, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা এবং দুঃস্থ মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। দেশে যদি অরাজকতা দেখা দেয়, তবে কি এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে?’
তারেক রহমান বলেন, জনগণ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন চাওয়ায় সরকার ধীরে ধীরে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো নারীদের নিয়মিত সহায়তা প্রদান করা, আর কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজের মতো কৃষি উপকরণের সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং যখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমৃদ্ধ হবে, তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি কৃষক ‘কৃষক কার্ড’ পেয়েছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, যারা এই ধরনের ডাক দিচ্ছেন, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের মতো কোনো জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি রয়েছে?
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে তারা কোন ধরনের রাজনীতি চর্চা করেন? জনগণের কল্যাণে তাদের কর্মসূচি কোথায়?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালু করা।
তিনি বলেন, আপনারা যদি এসব কর্মসূচি না দেখে থাকেন, তাহলে যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যকার সংযোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, ‘তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কোনো আপত্তি থাকবে কেন? তারা তো বরাবরই তো একসঙ্গে ছিল।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দুই পক্ষ ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ সাম্প্রতিক নির্বাচনেও একসঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, ‘এ জন্যই তো তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয়।’
গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়ন, কারাবাস ও ‘গায়েবি মামলা’র কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের বিরুদ্ধে জনগণই রাজপথে নেমে এসেছিল।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট জনগণ তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ