প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনী, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সতর্ক করেছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত পূর্ববর্তী সরকারের সমর্থক এবং একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ আবারও জনগণের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে একত্রিত হয়েছে এবং দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন, যেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কোনো কর্মসূচি নেই; বরং তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেই সক্রিয়।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে, আজ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুপ্ত রাজনীতি করে এবং যাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো কর্মসূচি নেই, তারা কেবল ক্ষমতা যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই প্রভাবিত করবে না, বরং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলোও ব্যাহত হবে।
তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আজ আমি মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছি, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা এবং দুঃস্থ মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। দেশে যদি অরাজকতা দেখা দেয়, তবে কি এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে?’
তারেক রহমান বলেন, জনগণ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন চাওয়ায় সরকার ধীরে ধীরে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো নারীদের নিয়মিত সহায়তা প্রদান করা, আর কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজের মতো কৃষি উপকরণের সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং যখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমৃদ্ধ হবে, তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি কৃষক ‘কৃষক কার্ড’ পেয়েছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, যারা এই ধরনের ডাক দিচ্ছেন, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের মতো কোনো জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি রয়েছে?
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে তারা কোন ধরনের রাজনীতি চর্চা করেন? জনগণের কল্যাণে তাদের কর্মসূচি কোথায়?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালু করা।
তিনি বলেন, আপনারা যদি এসব কর্মসূচি না দেখে থাকেন, তাহলে যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যকার সংযোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, ‘তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কোনো আপত্তি থাকবে কেন? তারা তো বরাবরই তো একসঙ্গে ছিল।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দুই পক্ষ ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ সাম্প্রতিক নির্বাচনেও একসঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, ‘এ জন্যই তো তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয়।’
গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়ন, কারাবাস ও ‘গায়েবি মামলা’র কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের বিরুদ্ধে জনগণই রাজপথে নেমে এসেছিল।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট জনগণ তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন