বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৬ পি.এম
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানকে নিয়ে নির্মাতা হিমেল আশরাফ নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন। ‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’-এর পর আবারও এই জুটি বড় পর্দায় ফিরছে। নতুন সিনেমাটির নাম ‘মহব্বত’, যা আগামী বছরের কোরবানির ঈদে মুক্তি পাবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিনেমাটির নাম এবং প্রথম পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। পোস্টারে কালো ওভারকোট পরা এক যুবকের সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যাচ্ছে। তবে শাকিব খানের বিপরীতে কে অভিনয় করবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
‘মহব্বত’ পরিচালনা করছেন হিমেল আশরাফ এবং প্রযোজনায় রয়েছেন আরশাদ আদনান। এর আগে এই ত্রয়ীর ‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’ দর্শকদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। এবারও তাদের নতুন সিনেমা নিয়ে আগ্রহ শুরু হয়েছে।
সিনেমাটির গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নির্মাতার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি, মূল্য এবং লড়াইয়ের গল্প থাকছে ‘মহব্বত’-এ।
গত কয়েক বছরে শাকিব খানকে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে বেশি দেখা গেলেও এবার প্রেমের গল্পে তাকে দেখা যাবে। ফলে ‘মহব্বত’ দিয়ে নতুন কোনো রূপে শাকিবকে পর্দায় দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন দর্শকদের আগ্রহের বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সতর্ক করেছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত পূর্ববর্তী সরকারের সমর্থক এবং একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ আবারও জনগণের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে একত্রিত হয়েছে এবং দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন, যেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কোনো কর্মসূচি নেই; বরং তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেই সক্রিয়।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে, আজ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুপ্ত রাজনীতি করে এবং যাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো কর্মসূচি নেই, তারা কেবল ক্ষমতা যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই প্রভাবিত করবে না, বরং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলোও ব্যাহত হবে।
তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আজ আমি মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছি, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা এবং দুঃস্থ মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। দেশে যদি অরাজকতা দেখা দেয়, তবে কি এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে?’
তারেক রহমান বলেন, জনগণ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন চাওয়ায় সরকার ধীরে ধীরে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো নারীদের নিয়মিত সহায়তা প্রদান করা, আর কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজের মতো কৃষি উপকরণের সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং যখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমৃদ্ধ হবে, তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি কৃষক ‘কৃষক কার্ড’ পেয়েছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, যারা এই ধরনের ডাক দিচ্ছেন, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের মতো কোনো জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি রয়েছে?
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে তারা কোন ধরনের রাজনীতি চর্চা করেন? জনগণের কল্যাণে তাদের কর্মসূচি কোথায়?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালু করা।
তিনি বলেন, আপনারা যদি এসব কর্মসূচি না দেখে থাকেন, তাহলে যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যকার সংযোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, ‘তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কোনো আপত্তি থাকবে কেন? তারা তো বরাবরই তো একসঙ্গে ছিল।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দুই পক্ষ ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ সাম্প্রতিক নির্বাচনেও একসঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, ‘এ জন্যই তো তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয়।’
গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়ন, কারাবাস ও ‘গায়েবি মামলা’র কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের বিরুদ্ধে জনগণই রাজপথে নেমে এসেছিল।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট জনগণ তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় প্রাঙ্গণে ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা কেক কেটে ৩৭তম বর্ষের শুভ সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতি-সংগ্রাম আমাদের মুক্তির অভিযাত্রা’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ৩৭ বছর ধরে চুনারুঘাটে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতি লালনে পরিষদের অবদান অনস্বীকার্য।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পর কেক কাটা শেষে শিশুদের নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ কেবল বিনোদনমূলক সংগঠন নয়; এটি সমাজ, মানুষ, দেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। অসুন্দর, অপসংস্কৃতি ও অশুভের বিরুদ্ধে তাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অবিরাম। ৩৭তম বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে পাহাড়, সমতল ও ইতিহাসসমৃদ্ধ চুনারুঘাটের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে ধারণ করে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে চুনারুঘাটে বসবাসকারী পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের বন্ধন দৃঢ় করাই অন্যতম প্রত্যয়।
দ্বিতীয় দিন শুক্রবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সল উপস্থিত থাকতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
দ্বিতীয় পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ও পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গালিব চৌধুরী, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দীন সামসু, হবিগঞ্জ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আ. হাই, গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় পাল, আমিনুল ইসলাম সুজনসহ পরিষদের উপদেষ্টা, কার্যকরী সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইসিসি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশের অবস্থান ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, এখানে যোগ হবে একটি দল, যারা বাছাই পর্ব পেরিয়ে আসবে, তাদের নামকরণ করা হয়েছে ‘কোয়ালিফায়ার বি।’
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। এছাড়া, তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে আরেকটি দল, যারা ‘কোয়ালিফায়ার এ’ হিসেবে পরিচিত।
স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে এবং র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে শীর্ষ আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের আরেক স্বাগতিক নামিবিয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় তাদের বাছাইপর্বে অংশ নিতে হবে।
১০ দলের বাছাইপর্বের বিজয়ী দল সরাসরি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্থান পাবে। নতুন কাঠামোর ‘সুপার সিরিজ’ থেকে আসবে অন্য একটি দল।
বিশ্বকাপের দল সংখ্যা ১০ থেকে বৃদ্ধি করে আগামী আসরে ১৪টি করা হলেও, সব দল বিশ্বকাপের মূল স্রোতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১২, ১৩ ও ১৪তম স্থানে থাকা তিন দলের মধ্যে ‘সুপার সিরিজ’ অনুষ্ঠিত হবে। বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা তিন দলের মধ্যে মূলত এই ‘সুপার সিরিজ’ অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্ব থেকে দুটি দল বাদ পড়বে, এবং শীর্ষ দল গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেবে। গ্রুপ পর্বে ১২টি দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতা করবে।
প্রতি দল এখানে পাঁচটি করে ম্যাচ খেলবে। এই দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরবর্তী সর্বোচ্চ স্থানে থাকা দল, মোট সাত দল নিয়ে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এখান থেকে শীর্ষ চারটি দল সেমি-ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ আইভি লিগ প্রতিষ্ঠান কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একজন তরুণী কীভাবে প্রাথমিক ভয়, লজ্জা ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আতঙ্ককে অতিক্রম করে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে। এটি একটি ট্র্যাজিক ও সাহসী গল্প।
ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের 'চি ফি' (Chi Phi) ফ্র্যাটারনিটির একটি পার্টিতে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী (যার পরিচয় গোপন রাখতে 'জেন ডো' নামে উল্লেখ করা হয়েছে) অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে জোরপূর্বক 'কেটামিন' (এক ধরনের মাদক) সেবন করানো হয় এবং একাধিক তরুণ কর্তৃক তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
ঘটনার পরের দিন সকালে, যখন তিনি নিজের ঘরে ফিরে আসেন, তখন মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সামাজিক হেনস্তা ও নিজের সুনাম নষ্ট হওয়ার ভয়ে তিনি প্রথমে ঘটনাটি প্রকাশ করতে চাননি। এমনকি তিনি নিজের রুমমেট ও বন্ধুদের কাছে এটিকে একটি "উন্মাদনাপূর্ণ রাত" বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রথমদিকে অভিযুক্ত তরুণদের একজন ক্ষমা চেয়ে বার্তা পাঠালে, পরিস্থিতির শিকার তরুণী ভয় ও দ্বিধার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন।
তবে অক্টোবরের শেষের দিকে ঘটনা একটি নতুন মোড় নেয়। গ্রীক লাইফ সংক্রান্ত একটি অনলাইন ফোরামে যখন অজ্ঞাতনামা কেউ লেখেন—"তারা তাকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ করেছে, ওদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন", তখন তরুণীটি প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করেন যে তিনি কোনো ভুলের অংশ নন, বরং একটি ঘৃণ্য অপরাধের শিকার। তিনি নিজের এক বন্ধুর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই প্রথম আমি অনুভব করলাম আমি কোনো অপরাধী নই, আমার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।"
হ্যালোইন পার্টিতে তাকে আসতে নিষেধ করা হলে, তিনি বুঝতে পারেন ফ্র্যাটারনিটির সদস্যরা নিজেদের বাঁচাতে তাকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মেসেজে লেখেন, "মেয়েদেরই সবসময় মাশুল দিতে হয়। তোমরা আমার বন্ধু নও, নিজেদের বাঁচাতেই এসব করছো।"
নভেম্বরের ৩ তারিখে অভিযুক্তদের একজনকে স্পষ্টভাবে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, সেই রাতে যা ঘটেছিল তার ৯০ শতাংশই সম্মতিহীন ছিল এবং তাকে সংজ্ঞাহীন করে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। এর পরপরই ৭ নভেম্বর তিনি হাসপাতালে গিয়ে 'রেপ কিট' পরীক্ষা করান এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক বিভাগ ও পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতি 'টাইটেল নাইন' (Title IX)-এর আওতায় সংগৃহীত শত শত পৃষ্ঠার ইমেইল, মেসেজ ও সাক্ষাত্কার থেকে প্রতিভাত হয়, কীভাবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ট্রমা ও লজ্জা অতিক্রম করে আইনি লড়াইয়ের পথে পা রেখেছেন।
যদিও স্থানীয় কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ফৌজদারি মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে ওই তরুণী দমে যাননি। তিনি ইতিমধ্যে অভিযুক্ত সাতজন তরুণের বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনা বর্তমানে সমগ্র আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নারী নিরাপত্তা, মাদক প্রয়োগ এবং সম্মতির (consent) সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় তুলেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ