প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ আইভি লিগ প্রতিষ্ঠান কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একজন তরুণী কীভাবে প্রাথমিক ভয়, লজ্জা ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আতঙ্ককে অতিক্রম করে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে। এটি একটি ট্র্যাজিক ও সাহসী গল্প।
ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের 'চি ফি' (Chi Phi) ফ্র্যাটারনিটির একটি পার্টিতে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী (যার পরিচয় গোপন রাখতে 'জেন ডো' নামে উল্লেখ করা হয়েছে) অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে জোরপূর্বক 'কেটামিন' (এক ধরনের মাদক) সেবন করানো হয় এবং একাধিক তরুণ কর্তৃক তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
ঘটনার পরের দিন সকালে, যখন তিনি নিজের ঘরে ফিরে আসেন, তখন মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সামাজিক হেনস্তা ও নিজের সুনাম নষ্ট হওয়ার ভয়ে তিনি প্রথমে ঘটনাটি প্রকাশ করতে চাননি। এমনকি তিনি নিজের রুমমেট ও বন্ধুদের কাছে এটিকে একটি "উন্মাদনাপূর্ণ রাত" বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রথমদিকে অভিযুক্ত তরুণদের একজন ক্ষমা চেয়ে বার্তা পাঠালে, পরিস্থিতির শিকার তরুণী ভয় ও দ্বিধার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন।
তবে অক্টোবরের শেষের দিকে ঘটনা একটি নতুন মোড় নেয়। গ্রীক লাইফ সংক্রান্ত একটি অনলাইন ফোরামে যখন অজ্ঞাতনামা কেউ লেখেন—"তারা তাকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ করেছে, ওদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন", তখন তরুণীটি প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করেন যে তিনি কোনো ভুলের অংশ নন, বরং একটি ঘৃণ্য অপরাধের শিকার। তিনি নিজের এক বন্ধুর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই প্রথম আমি অনুভব করলাম আমি কোনো অপরাধী নই, আমার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।"
হ্যালোইন পার্টিতে তাকে আসতে নিষেধ করা হলে, তিনি বুঝতে পারেন ফ্র্যাটারনিটির সদস্যরা নিজেদের বাঁচাতে তাকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মেসেজে লেখেন, "মেয়েদেরই সবসময় মাশুল দিতে হয়। তোমরা আমার বন্ধু নও, নিজেদের বাঁচাতেই এসব করছো।"
নভেম্বরের ৩ তারিখে অভিযুক্তদের একজনকে স্পষ্টভাবে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, সেই রাতে যা ঘটেছিল তার ৯০ শতাংশই সম্মতিহীন ছিল এবং তাকে সংজ্ঞাহীন করে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। এর পরপরই ৭ নভেম্বর তিনি হাসপাতালে গিয়ে 'রেপ কিট' পরীক্ষা করান এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক বিভাগ ও পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতি 'টাইটেল নাইন' (Title IX)-এর আওতায় সংগৃহীত শত শত পৃষ্ঠার ইমেইল, মেসেজ ও সাক্ষাত্কার থেকে প্রতিভাত হয়, কীভাবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ট্রমা ও লজ্জা অতিক্রম করে আইনি লড়াইয়ের পথে পা রেখেছেন।
যদিও স্থানীয় কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ফৌজদারি মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে ওই তরুণী দমে যাননি। তিনি ইতিমধ্যে অভিযুক্ত সাতজন তরুণের বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনা বর্তমানে সমগ্র আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নারী নিরাপত্তা, মাদক প্রয়োগ এবং সম্মতির (consent) সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় তুলেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন