ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শতাংশ কমিয়ে নতুন পে-স্কেল যেন প্রত্যাশাভঙ্গের কারন না হয়


শতাংশ কমিয়ে নতুন পে-স্কেল যেন প্রত্যাশাভঙ্গের  কারন না হয়

রাষ্ট্রের চালিকাশক্তিকে শক্তিশালী রাখা ব্যয় নয়, বিনিয়োগ। একজন আর্থিকভাবে স্বস্তিতে থাকা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী আরও মনোযোগী, আরও দক্ষ এবং আরও দায়িত্বশীলভাবে রাষ্ট্রের সেবা দিতে সক্ষম হন। বিপরীতে, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ প্রশাসনিক দক্ষতা ও মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা অবকাঠামো, উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা আমরা প্রায়ই বলি। কিন্তু একটি মৌলিক সত্য বারবার আড়ালে থেকে যায়—রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনবল। আর সেই জনবলের কেন্দ্রে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যাঁদের হাত ধরেই সরকারের নীতি বাস্তবায়িত হয় এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে রাষ্ট্রের কার্যক্রম সচল থাকে।

পে-স্কেল কোনো দয়া বা অনুদান নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা ধরে রাখার একটি অপরিহার্য অর্থনৈতিক কাঠামো। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাস্তব বাজারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। কারণ, প্রশাসনকে কার্যকর রাখতে হলে প্রশাসনের মানুষগুলোকেও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম রাখতে হবে।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর পে-স্কেল পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সর্বশেষ পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। আজ ১১ বছর অতিক্রম হলেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহু গুণ বেড়েছে। অথচ অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পে-স্কেলের ওপর নির্ভরশীল নিবন্ধনভুক্ত কর্মচারীরা সেই পুরোনো বেতন কাঠামো নিয়েই জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই শ্রেণির মানুষের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—তাঁরা সাধারণত প্রকাশ্যে নিজেদের আর্থিক সংকট নিয়ে কথা বলেন না। নিরবে নিজেদের দুঃখগুলো সহ্য করে ঋণগ্রস্ত হয়েও চললেও আত্মসম্মানের খাতিরে, সামাজিক মর্যাদার ভয়ে নিজেদের দুরবস্থার কথা কাউকে বলেন না। তাঁদের এই নীরবতা কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যের প্রমাণ নয়; বরং দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। কিন্তু নীরবতারও একটি সীমা আছে। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব আয় কমে গেলে তার প্রভাব শুধু সংসারে নয়, কর্মস্পৃহা ও মানসিক অবস্থাতেও পড়ে। তাই এটি শুধু একটি আর্থিক বাজার ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত অর্থনীতির ব্যালেন্স করার নীতি নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত জনশক্তির জন্য নতুন উদ্যমে কিংবা কর্মস্পৃহা সৃষ্টির একটি বৃহৎ অনুপ্রেরণাদায়কও উদ্দীপক বটে।

বর্তমানে জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু যদি শুধুমাত্র আর্থিক সীমাবদ্ধতার যুক্তি দেখিয়ে এমন একটি পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়, যা বাস্তব মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় কিংবা তা ১০০% এর কম, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা রাষ্ট্র সচল রাখা বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কাছে তা প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে হতাশার কারণ হয়ে উঠতে পারে যা কর্ম স্পৃহা বাড়ানোর চেয়ে তার কর্মসৃহা হারাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই সরকার চাইলে গ্রেডভিত্তিক ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধি করতে পারে। প্রথম থেকে নবম গ্রেড, কিংবা দশম থেকে বিংশ গ্রেড—যেভাবেই কাঠামো নির্ধারণ করা হোক না কেন, সে ক্ষেত্রে যদি কোন গ্রেডের জনগোষ্ঠীকে তাদের বেতনের অপ্রুতলতার কারণে ১০০% এর ঊর্ধ্বে অতিরিক্ত কোন শতাংশ সরকার দিতে চায় সেটি সরকারের মর্জি, কিন্তু কোন গ্রেডকে ১০০ শতাংশের নিচে পে-স্কেল দিলে তা কোনভাবেই রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত বৃহৎ এই অংশের আর্থিক ও মানসিক প্রশান্তির কারণ হবে বলে মনে হয় না।

নীতিগতভাবে এটি বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন যা অন্তত দীর্ঘ ১১ বছরের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে। কারণ, আবার কবে নতুন পে-স্কেল হবে, তার কোনো নিশ্চিত সময়সীমা নেই। আজ যদি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরেও একই সংকট আরও গভীর হবে।

সরকার যখন নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের মতো একটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে, তখন সেটি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে না থাকে। এমন একটি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে এই বিশ্বাস জাগায় যে রাষ্ট্র তাঁদের অবদানকে মূল্যায়ন করে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেয়।

একটি কার্যকর রাষ্ট্র গড়তে হলে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তিকে সন্তুষ্ট, মর্যাদাপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল রাখা অপরিহার্য। দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর নতুন পে-স্কেল যদি বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে না পারে, তবে সেটি শুধু আর্থিক নয়, মানসিকভাবেও অসংখ্য সরকারি চাকরিজীবীর জন্য হতাশার কারণ হবে। তাই সময়ের দাবি—নতুন পে-স্কেল এমন হোক, যা কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার একটি দূরদর্শী বিনিয়োগ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয়।  দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যাপক মূল্য স্থিতির এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের ভবিষ্যতব্য বাজার পরিস্থিতির কারণে নতুন সরকারের কাছে এমন শতভাগ পে স্কেল প্রত্যাশা করা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য অমূলক প্রত্যাশা বলে গণ্য করা উচিত হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, প্রতিবাদে থানাকে ঘেরাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, প্রতিবাদে থানাকে ঘেরাও

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাবেশে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দলটির দাবি অনুযায়ী, এ বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং উপস্থিত জনতা সাভার মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভার পৌর এলাকার তারাপুর মাঠে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ‘জুলাইয়ের চেতনায় গড়বো নতুন বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশের পরিচালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রাত ৯টা ১ মিনিটে সভাস্থলের চারপাশে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সারজিস আলম বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে ‘সরকারের হঠকারিতা ও চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর ছাত্রশক্তির এক নেতার বক্তব্যের পর ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক ও সভার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাজনিদ তার বক্তব্য শেষ করেন।

রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে সভাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সাংবাদিকদের বসার স্থানের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে লাল ও কালো কস্টেপে মোড়ানো ককটেলের ছিন্নভিন্ন অংশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে ইমরান নামের একজনের পায়ে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। জানা গেছে, ইমরান এনাম মেডিকেল কলেজের একজন কর্মী। তবে এনসিপির দাবি, এতে তাদের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বিস্ফোরণের শব্দে সমাবেশে আসা অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন, কিন্তু মঞ্চে থাকা নেতারা দৃঢ়চেতা ছিলেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাইক্রোফোন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান, এবং সরকারের সমালোচনা করে দীর্ঘ বক্তব্য দেন।

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চে থাকা নেতা ও কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী (রাত সাড়ে ১০টা) তারা থানার সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালাক্কা প্রণালী উন্মুক্ত রাখার পক্ষে সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


মালাক্কা প্রণালী উন্মুক্ত রাখার পক্ষে সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা সমুদ্রপথকে সবার জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ ও প্রবেশযোগ্য রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সোমবার(৬ জুলাই) জাকার্তায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘লিডার্স রিট্রিট’-এ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এবং ইন্দোনেশিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠকের পর তারা একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।

বৈঠকে, নেতারা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথটির সুরক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী মালাক্কা সমুদ্রপথের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে পরিণত করেছে। গত বছর এই প্রণালী দিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করেছে, যা মোট বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ২২ শতাংশ। এই মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২৩.২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।

বৈঠকে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও উল্লেখ করেন, মালাক্কা প্রণালী সম্পর্কে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর তাদের অভিন্ন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর দুইটি দেশ যাদের সীমানা মালাক্কা প্রণালীতে একে অপরের সংলগ্ন। মালাক্কা প্রণালীকে সব পক্ষের জন্য একটি অবাধ চলাচলের পথ হিসেবে বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুসারে এই প্রণালীটি যেন ‘সবার জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং যাদের প্রয়োজন তাদের সবার জন্য প্রবেশযোগ্য থাকে’ তা নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে থাকবে।

এ সময় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রধান বাণিজ্য রুটগুলোকে সচল ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল, যা বিশ্ববাণিজ্য ও তেল সরবরাহে সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল।

ওং বলেন, মালাক্কা প্রণালীর তীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া কৌশলগতভাবে একই অবস্থানে রয়েছে। নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সমুদ্রপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার একজন কর্মকর্তা মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর মাশুল আরোপের সম্ভাবনা উল্লেখ করলে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকার দ্রুতই সেই অবস্থান থেকে সরে আসে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

সিঙ্গাপুরে গত বছরের বৈঠকে স্বাক্ষরিত ২৪টি চুক্তির তুলনায় এবার বিভিন্ন খাতে মোট ২৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশ ২০২৭ সালে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, আলজাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটিয়া পৌরসভার ই-জিপি টেন্ডারে একই ৩ প্রতিষ্ঠান, ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


পটিয়া পৌরসভার ই-জিপি টেন্ডারে একই ৩ প্রতিষ্ঠান, ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিবাদ

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার তিনটি উন্নয়ন কাজের ই-জিপি টেন্ডারে ফের একই তিনটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ায় স্থানীয় নিবন্ধিত ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। টেন্ডারের ফল প্রকাশের পর সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারী ঠিকাদাররা।

এরপর তারা কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, জাতীয় ই-জিপি পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। তবে, পটিয়া পৌরসভার একাধিক টেন্ডারে বছরের পর বছর একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে আসছে। এটি অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা তৈরি করেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ই-টেন্ডার নোটিশ নং ০৪/২০২৫-২৬ (এলটিএম)-এর আওতায় তিনটি উন্নয়ন কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার আইডি ১৩০০০৩২, ১৩০০০৪৯ ও ১৩০০০৫৬-এর দরপত্র উন্মুক্ত করার পর লটারির মাধ্যমে কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়।

এর মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৩ টাকা ব্যয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহচাঁন্দ আউলিয়া (রহ.) মাজার সড়কে ইউনি ব্লক বসানোর কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে জাহিন এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৯১ টাকা ব্যয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বাড়ি মোড় থেকে আমিরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সড়কে ইউনি ব্লক বসানোর কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে সিমিন কনস্ট্রাকশন। এছাড়া, প্রায় ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৫ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে তানজিনা এন্টারপ্রাইজ।

টেন্ডারের ফল প্রকাশের পর বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে সমান সুযোগ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের বাইরে থাকা ঠিকাদারদের কাজ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিপুলসংখ্যক দরদাতা অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও বারবার একই প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ যাওয়া তাদের কাছে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

রাকিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাকিব হাসান বলেন, ই-জিপি পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র কৌশলে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।

জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান বাবলুও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, নিয়ম মেনে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার পরও বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এই কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে টেন্ডারগুলো পুনরায় আহ্বান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় পটিয়া পৌরসভার সদ্য বিদায়ী সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকারের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু ঠিকাদার। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি অফিস টাইমের বাইরে পৌরসভার স্টাফদের চায়ের দাওয়াতে সেখানে গিয়েছিলাম। ওই সময় টেন্ডারের লটারির প্রক্রিয়া চলছিল এবং আমি কেবল তখন উপস্থিত হই। এতে কেউ যদি মনে করে আমি উপস্থিত থেকে কাউকে কাজ পাইয়ে দিয়েছি, এটা সঠিক নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবল উপস্থিত থাকার কারণে আমাকে নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘জানা প্রয়োজন, জাতীয় ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোনো সুযোগ নেই। বিধি অনুসারে যোগ্য দরদাতাই কার্যাদেশ পেয়ে থাকে। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি লিখিতভাবে তা জানাতে পারেন।’

পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়টি আমাকে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন। ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আসলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন।

এই সফরের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি, টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সফর শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

ড. তানাকা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

অতীতে পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়েও গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে।

ড. তানাকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সফরের শুরুতে, তিনি ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত দশম বার্ষিক স্মরণসভায় অংশ নেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ড. তানাকা সফরকালে জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্প বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগ জাপানের ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪ জুলাই, তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জাইকার সহায়তায় পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার কেন্দ্র, ইউএনএইচসিআরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইওএম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

তিনি শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি এবং চলমান সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করেন।

একই দিনে, তিনি জাইকার অনুদান সহায়তায় নির্মাণাধীন কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়নাধীন মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সফরের শেষ দিনে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

পাঁচ দিনের এ সফরে, ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাইকার সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%