১০:৩৪ পি.এম
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা সমুদ্রপথকে সবার জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ ও প্রবেশযোগ্য রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সোমবার(৬ জুলাই) জাকার্তায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘লিডার্স রিট্রিট’-এ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এবং ইন্দোনেশিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠকের পর তারা একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
বৈঠকে, নেতারা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথটির সুরক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী মালাক্কা সমুদ্রপথের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে পরিণত করেছে। গত বছর এই প্রণালী দিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করেছে, যা মোট বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ২২ শতাংশ। এই মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২৩.২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা
বৈঠকে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও উল্লেখ করেন, মালাক্কা প্রণালী সম্পর্কে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর তাদের অভিন্ন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর দুইটি দেশ যাদের সীমানা মালাক্কা প্রণালীতে একে অপরের সংলগ্ন। মালাক্কা প্রণালীকে সব পক্ষের জন্য একটি অবাধ চলাচলের পথ হিসেবে বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুসারে এই প্রণালীটি যেন ‘সবার জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং যাদের প্রয়োজন তাদের সবার জন্য প্রবেশযোগ্য থাকে’ তা নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে থাকবে।
এ সময় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রধান বাণিজ্য রুটগুলোকে সচল ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল, যা বিশ্ববাণিজ্য ও তেল সরবরাহে সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল।
ওং বলেন, মালাক্কা প্রণালীর তীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া কৌশলগতভাবে একই অবস্থানে রয়েছে। নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সমুদ্রপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: আমন্ত্রণ পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আসেননি, জুলাইকে ধারণ করেন না
চলতি বছরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার একজন কর্মকর্তা মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর মাশুল আরোপের সম্ভাবনা উল্লেখ করলে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকার দ্রুতই সেই অবস্থান থেকে সরে আসে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
সিঙ্গাপুরে গত বছরের বৈঠকে স্বাক্ষরিত ২৪টি চুক্তির তুলনায় এবার বিভিন্ন খাতে মোট ২৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশ ২০২৭ সালে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, আলজাজিরা।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন