০৬:০৬ পি.এম
দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও, উদারতার নামে কোনো মুসলমান যদি পূজায় অংশগ্রহণ করে অথবা তাকে সঠিক মনে করে, তবে তার ঈমান থাকবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক।
সম্প্রতি জুমার বয়ানে তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ এবং একমাত্র আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাওহীদে বিশ্বাসীদের অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন, কিন্তু শিরকের মতো মহাপাপ তিনি কখনো ক্ষমা করবেন না। মানবজাতিকে শিরক থেকে বিরত রেখে তাওহীদের ছায়াতলে আনতেই আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে সকল নবী ও রাসূলকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন।
অমুসলিমদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারের প্রসঙ্গে খতিব বলেন, দেশে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ পরিসরে ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে এবং এতে ইসলামের কোনো আপত্তি নেই। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও জরুরি দায়িত্ব হলো, তারা যেন নিরাপদে তাদের পূজা বা উৎসব পালন করতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান
তবে আকিদাগত অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি সতর্ক করেন, কোনো মুসলমান যদি উদারতা বা নমনীয়তার নামে পূজায় শরিক হয় অথবা পূজাকে সঠিক পথ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বা সমর্থন করে, তবে তার ঈমান থাকবে না। নিরাপত্তা প্রদান এবং আকিদাগতভাবে শিরককে সমর্থন করা এক বিষয় নয়।
বয়ানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মুফতী আব্দুল মালেক বলেন, তায়েফের ময়দানে চরম নির্যাতন ও রক্তাক্ত হওয়ার পরও মহানবী (সা.) জালিমদের ধ্বংস চাননি। তিনি তাদের নিরাপত্তা দিয়েছিলেন এই আশায় যে, তারা ঈমান না আনলেও হয়তো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকবে। মুসলমানদেরও নিজ ধর্মের মূল আকিদা অক্ষুণ্ন রেখে সমাজে শৃঙ্খলা ও ইনসাফ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন