ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পে-স্কেল প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতা কর্মচারীদের সন্তুষ্ট করবে নাকি অসন্তুষ্টি-ই বাড়াবে?


পে-স্কেল প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতা কর্মচারীদের সন্তুষ্ট করবে নাকি অসন্তুষ্টি-ই বাড়াবে?

৭ লাখ ৯০ হাজার কোটির বাজেট, অথচ খবরে প্রকাশ, প্রথম ছয় মাসেই রাঘব বোয়ালদের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি —গত তিন মাসে এর ব্যবধান বেড়েছে ১৮ হাজার ৫ শত ৫৫ কোটি টাকা! আর নতুন এই পে স্কেলে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে সেই তুলনায় মাত্র ১৩.৪% যার পরিমাণ ১ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা, তবু পে-স্কেলে এত হিসাব কেন? এই পে স্কেল কি সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তুষ্ট করবে নাকি তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টির বীজ বপন করবে-?

রাষ্ট্রের চালকের আসনে যারা, তাদের বেতন কি রাষ্ট্রের কাছে ব্যয়—আর রাঘব বোয়ালদের খেলাপি ঋণ কি কেবল পরিসংখ্যান? বাংলাদেশের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর গত ছয় মাসেই দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা—এমন একটি অঙ্ক এখন গণমাধ্যমের মাধ্যমে গণ আলোচনায় ঘুরছে। দুটি সংখ্যা পাশাপাশি রাখুন।
একটি পুরো দেশের এক বছরের জাতীয় বাজেটের আকার। অন্যটি তার প্রায় ৭৭ শতাংশের সমান খেলাপি ঋণের পাহাড়। এবার আরেকটি সংখ্যা সামনে আনুন। নবম জাতীয় পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ জাতীয় বাজেটের প্রায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

এখন প্রশ্নটি করা যাক—বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা কি সত্যিই সরকারি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন? নাকি সমস্যাটি কোথায় রাষ্ট্র তার অর্থ খরচ করে, কাকে ছাড় দেয় এবং কার কাছ থেকে পাওনা আদায়ে কঠোর হয়—সেই অগ্রাধিকারে? প্রশ্নটি অস্বস্তিকর। কিন্তু সময়ের দাবি বলেই প্রশ্নটি করতেই হবে।
৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা—এটি কি শুধুই একটি সংখ্যা? খেলাপি ঋণের অঙ্ক যখন ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছে, তখন সেটিকে নিছক একটি ব্যাংকিং পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কারণ ব্যাংকের টাকা আকাশ থেকে আসে না। সেখানে মানুষের আমানত আছে, ব্যবসার অর্থ আছে, বিনিয়োগের অর্থ আছে, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির সঞ্চালন আছে। ঋণ দেওয়া হয় অর্থনীতিকে সচল করার জন্য—শিল্প হবে, কর্মসংস্থান হবে, ব্যবসা বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে, কর আসবে। কিন্তু সেই অর্থ যদি ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়া হয়, তখন ক্ষতিটা শেষ পর্যন্ত কে বহন করে? ব্যাংক? আমানতকারী? সরকার? নাকি সাধারণ মানুষ?
শেষ পর্যন্ত এর অভিঘাত পড়ে গোটা অর্থনীতির ওপর।আর এখানেই প্রশ্নটি আরও তীক্ষ্ণ হয়—
যে দেশে লাখ লাখ কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী হয়ে পড়ে থাকতে পারে, সেই দেশে একজন সরকারি শিক্ষক বা কর্মচারীর বেতন বাড়াতে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত লাগবে—এই অঙ্কটি কি সত্যিই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক দুশ্চিন্তা হওয়া উচিত?

পে-স্কেল: বেতন নয়, রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের পরীক্ষা
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরি জীবীদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর শুধুমাত্র গেজেট প্রকাশের জন্য বাকি থাকা পে-স্কেলের কাজটি নতুন সরকার আসার পর আবারো নতুন করে শুরু করে শেষ করতে বিগত ছয় মাস ধরে আলোচনা, সভা, বৈঠক, কমিশন, দেনদরবার—সব মিলিয়ে মনে হয়েছে, একটি কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত যেন নাগালের বাইরে থাকা কোনো ‘সোনার হরিণ’। অবশেষে যখন এর সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা সামনে আসছে, তখন আনন্দের পাশাপাশি প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে।

মূল বেতন বাড়বে। বেতন কাঠামো বড় হবে। কোথাও ১০০ শতাংশ, কোথাও ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা আলোচনায় আসছে। কিন্তু বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সুস্পষ্ট কোন বার্তা দেয়া হয়নি এমনকি কবে থেকে এটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাউন্টে ঢুকবে সে সম্পর্কে কিছু পরিষ্কার বলা হয়নি। যদি ধাপে ধাপে হয়, কিছু সুবিধা কয়েক বছর পিছিয়ে যায়, আর পুরো কাঠামোর সুফল পেতে ২০২৮–২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়—তাহলে প্রশ্ন থাকবেই:
ঘোষণার অঙ্ক বড়, নাকি মানুষের হাতে পৌঁছানো অর্থের মূল্য বড়? পে স্কেল বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট বিষয়টি পরিষ্কার না হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অস্পষ্টতার ভিত্তিতে প্রকাশিত বিষয় থেকে যতদূর বোঝা যায় তাতে মনে হচ্ছে, সরকার ২০২৬ ও ২০২৭ দুই বছরে মূল স্কেল বৃদ্ধির অর্থ তিন ধাপে প্রদান করবে অথবা অন্য কিছু। এবং এই সময়ে ইতিমধ্যেই তাদের প্রাপ্ত মূল স্কেলের অতিরিক্ত সুবিধা গুলো পরবর্তী ২০২৯ সাল নাগাদ প্রদান করে তা সম্পূর্ণ করবে। এখন প্রশ্ন হল, যা দীর্ঘ ১১ বছর প্রতীক্ষার পর যা প্রদান করা হচ্ছে তা কি এই ধাপে ধাপে প্রদানের বিষয়টির কারণে তা তাদের সন্তুষ্টির কারণ হবে নাকি তীব্র অসন্তুষ্টির মাত্রা আরও বাড়াবে?

একজন সরকারি কর্মচারী শতাংশ দিয়ে বাজার করেন না।তিনি চাল কেনেন টাকায়।বাড়িভাড়া দেন টাকায়।সন্তানের স্কুল-কলেজের খরচ দেন টাকায়।
চিকিৎসার বিল দেন টাকায়। যাতায়াতের খরচ দেন টাকায়। তাই পে-স্কেলের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে কাগজে কত শতাংশ বেতন বাড়ল দিয়ে নয়; বরং মূল্যস্ফীতির পর একজন কর্মচারীর প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়ল—তা দিয়ে।

সরকারের কাছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা বড়—কিন্তু কার কাছে? ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা নিঃসন্দেহে বিপুল অর্থ। কিন্তু রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কোনো অঙ্ককে বিচ্ছিন্নভাবে বিচার করা যায় না।
৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ যদি সরকারি কর্মকর্তা -কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রশ্ন হতে পারে—এই ব্যয় কি রাষ্ট্রের জন্য বোঝা, নাকি বিনিয়োগ?

কারণ এই কর্মচারীরাই রাষ্ট্রের দৈনন্দিন চাকা ঘোরান।শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যান।চিকিৎসক হাসপাতালে যান। প্রকৌশলী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তা মাঠে কাজ করেন। কৃষি কর্মকর্তা কৃষকের পাশে দাঁড়ান।
পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। রাজস্ব কর্মকর্তা রাষ্ট্রের আয় সংগ্রহ করেন। রাষ্ট্রের এই বিশাল মানবসম্পদকে আমরা যদি শুধু ‘বেতনভোগী’ হিসেবে দেখি, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনেই ভুল থেকে যায়। তারা রাষ্ট্রের খরচ নন; তারা রাষ্ট্রের কার্যক্ষমতার অংশ।তাহলে দরকষাকষি কেন?

এখানেই সাধারণ মানুষের প্রশ্নটি সবচেয়ে যৌক্তিক।
একদিকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি। অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, অনিয়ম, অপচয় কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ। আর অন্যদিকে রাষ্ট্রের নিয়মিত কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের প্রশ্নে এত দীর্ঘ হিসাব -নিকাশ!

তখন প্রশ্ন জাগে—রাষ্ট্র কি ভুল জায়গায় মিতব্যয়ী?
যদি অর্থনৈতিক সংকট থাকে, সেটি সবাইকে স্বীকার করতে হবে। কিন্তু সেই সংকট মোকাবিলায় প্রথম আঘাত কি পড়বে শুধু নিয়মিত বেতনভোগী মধ্যবিত্তের ওপর?কেন একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠবে না—
কত টাকা কর ফাঁকি যাচ্ছে?কত টাকা পাচার হচ্ছে?
কত টাকা খেলাপি ঋণের কারণে আটকে আছে?
কত প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে?কত সরকারি সম্পদ অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে?কত অর্থনৈতিক সুবিধা যোগ্যতার বদলে প্রভাবের ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে?

রাষ্ট্র যদি এসব প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে শুধু বেতন বাড়ানোর সময় ‘টাকা নেই’ বলে, তাহলে সেই যুক্তি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে—এমন সরল সমীকরণও একেবারে সঠিক নয় তবে দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যবধানে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদেরকে প্রয়োজনীয় বেতন ভাতা না দেওয়াটাও সে অপরাধের কারণ হতে পারে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। শুধু পে-স্কেল বাড়ালেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতিমুক্ত হয়ে যাবেন—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজন কঠোর আইন, কার্যকর প্রয়োগ, জবাবদিহি, সম্পদের হিসাব, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত বিচার।কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রের একটি নৈতিক দায়িত্বও আছে।

যে রাষ্ট্র তার কর্মচারীর কাছ থেকে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠা দাবি করে, সেই রাষ্ট্রকে তার কর্মচারীর ন্যায্য জীবনযাত্রার নিশ্চয়তাও দিতে হবে। একজন শিক্ষককে সম্মানজনক বেতন দিয়ে তারপর তার কাছে সর্বোচ্চ পেশাগত দায়িত্ব দাবি করা যৌক্তিক।
একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ বেতন দিয়ে তারপর তার কাছ থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে অবস্থান আশা করা যৌক্তিক।
অন্যদিকে বেতন এমন পর্যায়ে আটকে রেখে শুধু নৈতিকতার বক্তৃতা দিলে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানও দুর্বল হয়।

১৪২ শতাংশ শুনতে চমৎকার—কিন্তু বাস্তবে কত?
পে-স্কেলের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার নিয়ে ১০০ শতাংশ বা কোথাও ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত আলোচনার কথা সামনে আসছে। শুনতে চমকপ্রদ। কিন্তু এখানে আরেকটি বাস্তবতা ভুললে চলবে না—বেতন বাড়ার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। যদি একজন কর্মচারীর বেতন দ্বিগুণ হয়, কিন্তু একই সময়ে তার বাসাভাড়া, খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবহন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে তার প্রকৃত জীবনমান কতটা বাড়ল?

সুতরাং পে-স্কেল ঘোষণার সময় শুধু ‘বেতন কত শতাংশ বাড়ল’ বলা যথেষ্ট নয়। সরকারকে বলতে হবে—মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর একজন কর্মচারীর প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কত বাড়বে? এই প্রশ্নের উত্তরেই পে-স্কেলের প্রকৃত সাফল্য লুকিয়ে আছে। সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্নটিও ছোট নয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যদি এমন একটি পে-স্কেল আসে, যার বড় অংশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে, কিছু সুবিধা পরে আসবে, আর মূল্যস্ফীতি এরই মধ্যে বর্ধিত বেতনের বড় অংশ খেয়ে ফেলবে—তাহলে এটি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবেও সুখকর নাও হতে পারে। কারণ প্রত্যাশা যত বেশি, হতাশার সম্ভাবনাও তত বেশি।

সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা যদি মনে করেন, তাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে বাস্তব সমাধানের বদলে কিস্তি, ধাপ, শর্ত ও বিলম্বের মধ্যে আটকে দেওয়া হয়েছে, তাহলে একটি ইতিবাচক ঘোষণা উল্টো অসন্তোষের কারণ হতে পারে। পে-স্কেল তখন আর শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে সরকারের প্রতি আস্থার প্রশ্ন।

রাষ্ট্রের চালকের আসনে যারা, তাদেরই যদি জ্বালানি না থাকে? রাষ্ট্রকে একটি গাড়ি হিসেবে কল্পনা করা যাক। সরকার হলো চালকের আসনে। কিন্তু গাড়ি চালানোর জন্য শুধু চালক থাকলেই হয় না। প্রয়োজন ইঞ্জিন, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ এবং দক্ষ কর্মী।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেই ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। তাদের দক্ষতা, সততা ও কর্মস্পৃহা ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো নীতি বাস্তবায়িত হবে না।
তাহলে তাদের ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র যদি বারবার পিছিয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই।
রাষ্ট্র কি গাড়ির বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে বেশি চিন্তিত, নাকি ইঞ্জিন সচল রাখার ব্যাপারে? এখন দরকার সাহসী সিদ্ধান্ত।সরকারের উচিত পে-স্কেল নিয়ে অযথা দীর্ঘসূত্রতা না করা।

একটি বাস্তবসম্মত, মূল্যস্ফীতিসংবেদনশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা দরকার। কিন্তু একই সঙ্গে সরকারকে অর্থের উৎসও দেখাতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর হতে হবে। কর ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। করজাল বাড়াতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ও অপচয় কমাতে হবে।
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি টাকার ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

তাহলেই জনগণও বুঝবে—সরকার বেতন বাড়াচ্ছে শুধু কর্মচারীদের খুশি করতে নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে। শেষ প্রশ্নটি তাই খুব সহজ। ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট করতে পারে যে রাষ্ট্র, ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয় যে অর্থনীতি, সে রাষ্ট্র কি সত্যিই তার শিক্ষক -কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে অক্ষম? হয়তো অর্থনৈতিক বাস্তবতা জটিল। হয়তো পুরো অর্থ এক বছরে জোগাড় করা কঠিন। হয়তো ধাপে বাস্তবায়নের প্রয়োজন আছে।

কিন্তু জনগণ এবং সরকারি চাকরিজীবীদের সামনে অন্তত একটি সৎ হিসাব থাকা দরকার। কোথায় টাকা নেই—তা নয়; কোথায় টাকা যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে এবং কার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে না—সেই হিসাবটিও প্রকাশ্যে আসতে হবে। কারণ একজন সরকারি শিক্ষক বা কর্মচারীর বেতন রাষ্ট্রের জন্য ‘অতিরিক্ত বোঝা’ হলে, রাঘব বোয়ালদের খেলাপি ঋণ রাষ্ট্রের জন্য কী? একজন কর্মচারীর বেতন বাড়াতে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যদি রাষ্ট্রের এত মাথাব্যথা হয়, তাহলে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের দায় নিয়ে রাষ্ট্রের মাথাব্যথা কতটা—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
পে-স্কেল তাই শুধু বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়।
এটি রাষ্ট্র কার পাশে দাঁড়ায়—তারও একটি পরীক্ষা।
রাষ্ট্র কি সেই মানুষের পাশে দাঁড়াবে, যারা প্রতিদিন রাষ্ট্রকে সচল রাখে?

নাকি আবারও প্রমাণ হবে—ক্ষমতাবানদের জন্য রাষ্ট্রের দরজা প্রশস্ত, আর নিয়মিত বেতনভোগীদের জন্য হিসাবের খাতা দীর্ঘ? নবম পে-স্কেল সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার একটি বিরাট সুযোগ। এবার সিদ্ধান্ত শুধু বেতন বাড়ানোর নয়—রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার ঠিক করার এমন কথা বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ মাদক বিরোধী অভিযানে ৫০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


নওগাঁ মাদক বিরোধী অভিযানে ৫০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ জন গ্রেফতার

০২-০৯-২৬ তারিখে পুলিশ সুপার এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁ এর একটি টীম নওগাঁ পৌর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করে। সদর থানাধীন পৌর এলাকার ০২ নং ওয়ার্ডের চক রামচন্দ্র মধ্য পাড়া এলাকার মাজেদুল নামক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে যে, তিনি তার বাড়িতে মাদক দ্রব্য রেখে বিক্রয় করছেন। এই সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম রাত ০৮ ঘটিকায় এলার উপস্থিত লোকজন নিয়ে আসামি মাজদুল (৪০), পিতা সাইবুল, গ্রাম চক রামচন্দ্র মধ্য পাড়া, থানা জেলা নওগাঁ এর বাড়িতে তল্লাশী চালায়।

তল্লাশীর সময় আসামি মাজদুলের ঘরের টেবিলের ড্রয়ারের মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো ৫ পাতায় মোট ৫০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যেখানে প্রতিটি পাতায় ১০ পিচ ট্যাবলেট ছিল। এ সময় আসামি মাজদুলের সহযোগী আসামি সোহাগ হাসান (২৮), পিতা বেলাল হোসেন, সাং চক গোবিন্দ মধ্য পাড়া, থানা জেলা নওগাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। আসামি সোহাগ হাসান স্থানীয় এলাকায় ১ নং আসামি মাজদুলের ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া, আসামি সোহাগ হাসানের কাছ থেকে মাদক বিক্রির ২৯০০ টাকা জব্দ করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়েক মাসের মধ্যেই সৌরবিদ্যুতে চলবে পুরো সংসদ : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


কয়েক মাসের মধ্যেই সৌরবিদ্যুতে চলবে পুরো সংসদ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সৌরশক্তির (সোলার) ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে।

তিনি বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরের সময় এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতে কাজ করছে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য, যেমন সোলার প্যানেল, ইনভার্টার এবং ব্যাটারির ওপর প্রযোজ্য কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর থেকে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গত ৮ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

তিনি আরও জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, সরকার তাদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে। বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ সরকার প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করবে।

তারেক রহমান বলেন, রুফটপ সোলার থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় হবে ৬ থেকে ৭ টাকা। ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করে সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করবেন, তাদের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ বিক্রির সুবিধা তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরবর্তী তিন বছর সরকার নির্ধারিত ওই দামে কিনবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ খাতে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং কিছুদিনের মধ্যে সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়টি উপস্থাপন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট: রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট: রাশেদ খাঁন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন একমত নন। তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ দুর্নীতি করেননি, তবে এনসিপিতে তাঁর দুর্নীতির বিষয়টি একটি ওপেন সিক্রেট।

বুধবার রাতে, রাশেদ খাঁন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসে এই মন্তব্য করেন। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিজ্ঞেস করেন, জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই? নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটা ছাড়েনি! জামায়াতের আমিরের মন্তব্য এমন ছিল, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি।’

রাশেদ খাঁন আরো বলেন, নাহিদ ইসলাম বিষয়টি নিয়ে কিছু মানুষের কাছে আক্ষেপ করেছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির আসিফ মাহমুদের আসনটি ছাড়তে রাজি হননি। তাঁর মতে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় নিতে জামায়াতের অনাগ্রহই এখানে কাজ করেছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘এমনকি আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে কল করলে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও ২-৩টা আসন বেশি ছাড়ব, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করবেন না! আমি জামায়াতের সমালোচনা করলেও, জামায়াতের আমিরের এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আজকের (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনটা লক্ষ্য করেন, সিনিয়র কোনো নেতা আসিফের পাশে নাই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট! এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুদকের কোনো কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যায় না! সে অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিল, যেটা আমি নিজে জানি। এ বিষয়ে আমি একজন উপদেষ্টাকে জানালে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেতন থেকে তো কেউ এত টাকা দিতে পারে না।’

রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিল অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা। আমি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম। কিন্তু বিরোধিতার কারণে, বিরোধী দলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তাতে আমি সবসময় বলে যাব, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল।’

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্যের বিষয়ে রাশেদ খাঁনের এসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে চরম বিশৃঙ্খলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে চরম বিশৃঙ্খলা

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশের ভেতরে নেতৃত্বের সংকট এবং বিদেশে সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তে থাকা চাপ—দুইয়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যখন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে এসেছে এবং মন্ত্রীর জবাবদিহিতার মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সামরিক নেতৃত্বে সর্বশেষ বড় পদত্যাগের ঘটনা ঘটে সোমবার। ওই দিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদীয়মান তারকা হিসেবে বিবেচিত ড্রিসকলকে ইউক্রেন-সংক্রান্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ও আধুনিকায়ন নিয়ে হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাসের মতবিরোধের পর তিনি পদ ছাড়েন।

এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে হেগসেথ বরখাস্ত করেন। ড্রিসকলের পদত্যাগের ফলে ইরান যুদ্ধের মধ্যেই সেনাবাহিনী সিনেট-অনুমোদিত বেসামরিক বা সামরিক নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেগসেথ এরই মধ্যে প্রায় সব বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা পদচ্যুত করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ।

ওয়াশিংটন পোস্টের হিসাবে, হেগসেথের দায়িত্ব গ্রহণের পর পেন্টাগনের দুই ডজনের বেশি শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি প্রায় পুরো জয়েন্ট চিফসকেই নতুন করে সাজিয়েছেন। তার অধীন থাকা মেরিন কোর ও স্পেস ফোর্সের প্রধানরাই কেবল এখনো নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছর পদোন্নতির তালিকা থেকে হেগসেথ ব্যক্তিগতভাবে অন্তত ৪৫ জন কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়েছেন। ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকা পদোন্নতি ব্যবস্থায় এটিকে ব্যতিক্রমী হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এনবিসি নিউজ মঙ্গলবার জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও হেগসেথ আরও কয়েকটি পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে বিভিন্ন বাহিনীর এক ডজনের বেশি কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক ও নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এর ফলে ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কমান্ড কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকার দায়িত্বে থাকা কমান্ডাররা ইরান যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েন বাড়ানোর বিষয়ে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে অন্যান্য অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

হেগসেথকে নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল জানিয়েছেন, তাদের ডেস্ট্রয়ারগুলোর মাত্র এক-চতুর্থাংশ মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিশেষায়িত বিমানবাহী রণতরীও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মজুতের ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। এতে ন্যাটোর সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন অস্ত্রও পেন্টাগনকে বর্তমান সংঘাতে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রয়েছে এবং সামরিক শিল্পের সঙ্গে কাজ করে সেই সক্ষমতাকে কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেন—এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের থাকা অত্যন্ত জরুরি। তার ভাষায়, ‘খেয়ালখুশিমতো এই লোকগুলোকে বরখাস্ত’ করলে বিভ্রান্তি ও শূন্যতা তৈরি হয়। তার মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী বর্তমানে এমনই এক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দপ্তরটি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে—এমন ধারণাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ধারণা পেন্টাগনের প্রত্যেক নিবেদিতপ্রাণ পেশাদার ও যোদ্ধার জন্য অপমানজনক, যারা প্রতিদিন দেশ রক্ষায় কাজ করতে আসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%