মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৫ এম
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর, দুই দেশের মধ্যে ‘ইএসডিপি-এমওসি’ (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে চুক্তির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর বিধান রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও জানান, জাপানে কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উচ্চ বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চুক্তিতে জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা বৈষম্যের শিকার হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ, এই নতুন চুক্তি বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী এবং মোটরসাইকেল বহনের কারণে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনায় শংকর বেপারী নামের এক ব্যক্তির ৮ বছরের শিশু কন্যা নিহত হয়েছে এবং তার স্ত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম অর্পিতা বেপারী (৮) এবং নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা রিনা বেপারী (৩৫)। তারা নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর মেয়ে ও স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত শংকর বেপারী দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসেন। সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠী এলাকা থেকে পূজা দেখে ট্রলারযোগে সপরিবারে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ সময় ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী এবং ৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি নাজিরপুর প্রান্ত থেকে ভরতকাঠীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত বোঝার কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়।
অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও শংকর বেপারীর স্ত্রী ও শিশু কন্যা পানিতে তলিয়ে যান।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নাজিরপুর ইউএনও সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান, নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সি এবং পিরোজপুরের জেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রায়হানুর আশরাফ।
পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নিখোঁজ শিশু অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতেই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ বলেন, ট্রলার দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিখোঁজের পরে মেয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাত গভীর হওয়ায় আপাতত উদ্ধার অভিযান বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নাজিরপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এক শিশুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ মাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় কারো অবহেলা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে দুলাল (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. মোজাম্মেল হোসেন (২৩) সোমবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়ার সৈয়দ আলী ও রবিউলদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। এছাড়া ঘরের আলমারিতে রাখা ৬০ হাজার টাকা ও প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিলে এবং চিৎকার শুনে মোজাম্মেলের ফুফাতো ভাই দুলাল ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। দুলালকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অন্যদেরও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন মোজাম্মেল।
অন্যদিকে, সৈয়দ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় তারা ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। সৈয়দ আলী দাবি করেন, তারা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) তাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা এবং ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে।
গত মাসে উয়েফা নেশন্স লিগ চলাকালীন কোচের সঙ্গে বিরোধের কারণে জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করার জন্য এই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
মার্কিন ক্রীড়ামাধ্যম ইএসপিএনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার কারণে বিরোধে জড়ান। এই বিরোধের ফলস্বরূপ তিনি পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।
দল ত্যাগ করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন রোনালদো। তিনি দাবি করেন, জেসুস তাকে দেওয়া কথা পালন করেননি।
ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল জানায়, রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবে ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তবে ফেডারেশনের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, এই নিষেধাজ্ঞা কোন কোন ম্যাচ বা কার্যক্রমের ওপর প্রযোজ্য হবে কিংবা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার অধীনে ইতোমধ্যেই পার করা সময়টুকু এই ৩০ দিনের শাস্তির হিসাব থেকে বাদ যাবে কি না।
শাস্তির বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রোনালদো জানান, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন যে শাস্তিই দিক, তিনি তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এই তারকা।
আগামী নভেম্বরে উয়েফা নেশন্স লিগে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ম্যাচগুলোতে খেলার জন্য রোনালদোর যোগ্যতা থাকবে।
এদিকে, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা রোনালদোকে এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কোচ জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর বিরোধ মিটে যাবে এবং তিনি আবারও জাতীয় দলে ফিরবেন।
রোনালদোর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রোয়েনসা বলেন, ‘তিনি আমাদের অধিনায়ক। আমাদের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’ সূত্র: ইসপিএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকট ও অচল যন্ত্রপাতির কারণে চিকিৎসাসেবা খুঁড়িয়ে চলছে। ফলে রোগীদের দুর্ভোগ ও হয়রানি বাড়ছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীরা বিপদে পড়ছেন। জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে এ জেলার ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা চলছে জোড়াতালি দিয়ে।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল থেকেই বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বহির্বিভাগে গড়ে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন রোগী, কখনো কখনো আরো বেশি। অতিরিক্ত রোগীদের ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এই হাসপাতালে করানো যাচ্ছে না। কিছু যন্ত্র অচল, আর কিছু সপ্তাহে দুই বা তিন দিনই চলে। ফলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটতে হচ্ছে। ভোগান্তি ও খরচ বাড়ছে। আইসিইউ, সিসিইউ ওয়ার্ড থাকলেও যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের সিলেটে রেফার্ড করা হয়। সবসময় পর্যাপ্ত ওষুধও থাকে না।
জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টের সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয়ক যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালটিতে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক চিকিৎসক দিয়ে চলছে কার্যক্রম। শয্যাসংকটও রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি যন্ত্রপাতি অচল থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪১২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ১০৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৮৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৯ জন, শূন্য পদ রয়েছে ৪৫টি। অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন একজন এবং স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য আবেদন করেছেন দুজন। এছাড়া কয়েকজন প্রশিক্ষণে আছেন। আরো কয়েকজন কর্মচারীও অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসককে দিয়েই প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থোপেডিক, সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসক সংকট প্রকট। নাক-কান-গলা, চর্মসহ নানা রোগের চিকিৎসকও দীর্ঘদিন ধরে নেই। হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৮৪টি, শূন্য রয়েছে ৪৫টি; নার্স ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীর পদ ১৯০টি, শূন্য রয়েছে ২১টি; তৃতীয় শ্রেণির পদ ৫৫টি, শূন্য রয়েছে ১৬টি; চতুর্থ শ্রেণির পদ ২২টি, শূন্য আছে ১৩টি; চতুর্থ শ্রেণির আউটসোর্সিং পদ ৬১টি, শূন্য রয়েছে ১৪টি।
হাসপাতালে ১৪ জন টেকনোলজিস্টের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৯ জন। জনবল ও রিএজেন্ট সংকটে সপ্তাহে মাত্র তিন দিন এক্স-রে, দুদিন সিটি স্ক্যান এবং চার দিন আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা চালু থাকে। এমআরআই সেবা পুরোপুরি বন্ধ। সিসিইউ ও আইসিইউ অচল রয়েছে। ডায়ালাইসিস সেবাতেও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যের সংকট রয়েছে। ফলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে পরীক্ষা করানোর সুযোগ না পেয়ে অনেক রোগীকেই বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছে এবং রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষকে বেশি চাপ নিতে হচ্ছে।
২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রক্ত পরীক্ষার জাপানি মেশিন, এমআরআই মেশিনসহ ২৭টি যন্ত্রপাতি বিভিন্ন কারণে সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় রয়েছে। এমআরআই মেশিনের প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফিলিপস মেশিনটিকে সম্পূর্ণ অকেজো ঘোষণা করেছে।
ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করার কথা থাকলেও একবার করা হচ্ছে। প্রচুর অর্থসংকট ও রিএজেন্ট বা ফ্লুইড সংকট রয়েছে। এটি যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া প্যাথলজির বড় বড় মেশিন রিএজেন্ট ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে। রোগী ও স্বজনরা দাবি করছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি অচল যন্ত্রপাতি সচল করা এবং নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মৌলভীবাজারের সভাপতি ডা. সাদিক আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারের সর্বস্তরের মানুষ একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে আন্দোলনও হয়েছে। তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তাই অচিরেই প্রয়োজনীয় লোকবল দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হোক। পাশাপাশি জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হোক।
রোগী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, “সাধারণত গরিব লোকেরাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।” তাই অচিরেই হাসপাতালটির সব সমস্যা দূর করার জোর দাবি জানান তিনি।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস বলেন, “হাসপাতালে নানা সংকট রয়েছে। এসব সংকট সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনবল সংকট নিয়ে এত রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।” তিনি জানান, ওষুধের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ