ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে চরম বিশৃঙ্খলা


ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে চরম বিশৃঙ্খলা

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশের ভেতরে নেতৃত্বের সংকট এবং বিদেশে সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তে থাকা চাপ—দুইয়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যখন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে এসেছে এবং মন্ত্রীর জবাবদিহিতার মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সামরিক নেতৃত্বে সর্বশেষ বড় পদত্যাগের ঘটনা ঘটে সোমবার। ওই দিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদীয়মান তারকা হিসেবে বিবেচিত ড্রিসকলকে ইউক্রেন-সংক্রান্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ও আধুনিকায়ন নিয়ে হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাসের মতবিরোধের পর তিনি পদ ছাড়েন।

আরও পড়ুন: ১৬ বছর যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, তারা এখন ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে : স্পিকার

এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে হেগসেথ বরখাস্ত করেন। ড্রিসকলের পদত্যাগের ফলে ইরান যুদ্ধের মধ্যেই সেনাবাহিনী সিনেট-অনুমোদিত বেসামরিক বা সামরিক নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেগসেথ এরই মধ্যে প্রায় সব বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা পদচ্যুত করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ।

ওয়াশিংটন পোস্টের হিসাবে, হেগসেথের দায়িত্ব গ্রহণের পর পেন্টাগনের দুই ডজনের বেশি শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি প্রায় পুরো জয়েন্ট চিফসকেই নতুন করে সাজিয়েছেন। তার অধীন থাকা মেরিন কোর ও স্পেস ফোর্সের প্রধানরাই কেবল এখনো নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছর পদোন্নতির তালিকা থেকে হেগসেথ ব্যক্তিগতভাবে অন্তত ৪৫ জন কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়েছেন। ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকা পদোন্নতি ব্যবস্থায় এটিকে ব্যতিক্রমী হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এনবিসি নিউজ মঙ্গলবার জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও হেগসেথ আরও কয়েকটি পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে বিভিন্ন বাহিনীর এক ডজনের বেশি কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক ও নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এর ফলে ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কমান্ড কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: একাত্তরে জনগণকে ধোঁকা, এখন ২৪ নিয়ে প্রতারণা করছে

ওয়াশিংটন পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকার দায়িত্বে থাকা কমান্ডাররা ইরান যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েন বাড়ানোর বিষয়ে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে অন্যান্য অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

হেগসেথকে নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল জানিয়েছেন, তাদের ডেস্ট্রয়ারগুলোর মাত্র এক-চতুর্থাংশ মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিশেষায়িত বিমানবাহী রণতরীও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মজুতের ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। এতে ন্যাটোর সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন অস্ত্রও পেন্টাগনকে বর্তমান সংঘাতে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রয়েছে এবং সামরিক শিল্পের সঙ্গে কাজ করে সেই সক্ষমতাকে কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেন—এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের থাকা অত্যন্ত জরুরি। তার ভাষায়, ‘খেয়ালখুশিমতো এই লোকগুলোকে বরখাস্ত’ করলে বিভ্রান্তি ও শূন্যতা তৈরি হয়। তার মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী বর্তমানে এমনই এক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: লিবিয়া ও তুরস্কের মধ্যে নতুন সামুদ্রিক চুক্তি অনুমোদন

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দপ্তরটি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে—এমন ধারণাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ধারণা পেন্টাগনের প্রত্যেক নিবেদিতপ্রাণ পেশাদার ও যোদ্ধার জন্য অপমানজনক, যারা প্রতিদিন দেশ রক্ষায় কাজ করতে আসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের নজর, ডেনমার্কের নতুন সামরিক প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের নজর, ডেনমার্কের নতুন সামরিক প্রস্তুতি

ডেনমার্ক এবার আর্কটিকের বরফঢাকা ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করছে। কোপেনহেগেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় নিয়োগ পাওয়া সৈন্যদের গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের দাবি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর এই দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব নতুন তাৎপর্য পেয়েছে।

ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড শুরু থেকেই সেই প্রস্তাবকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এরই মধ্যে, ডেনমার্কের সম্প্রসারিত বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা কর্মসূচির প্রথম ব্যাচের সৈন্যরা গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। কোপেনহেগেনের উদ্দেশ্য হলো, আর্কটিকের মতো কঠিন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজ করার উপযোগী দক্ষ সৈন্য তৈরি করা এবং সেখানে ডেনমার্কের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা। ১৯ বছর বয়সী সৈনিক ডেভিড বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে আমাদের উপস্থিতি জানান দেওয়া হয় যে আমরা এখানে আছি। আমরা কেবল নিজেদের স্বার্থ নয়, গ্রিনল্যান্ডের মানুষের কথাও ভাবছি।’

বরফের দেশে কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণ

গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছানো সৈন্যরা বর্তমানে চরম ঠাণ্ডা আবহাওয়ার মধ্যে যুদ্ধ এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ‘আর্কটিক অ্যান্ডুরেন্স’ নামের সামরিক মহড়ায় ন্যাড়া পাথর ও গাছপালাহীন বিস্তীর্ণ খোলা এলাকায় চলছে তাদের কঠোর অনুশীলন। সৈন্যদের কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন লরা জেপসেন জানিয়েছেন, বিশাল কৌশলগত যোগাযোগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিকূল ভূখণ্ড ও চরম জলবায়ুতে সৈন্যদের অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

এই প্রশিক্ষণ ন্যাটোর ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ মিশনেরও অংশ। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মন্তব্যের পর আর্কটিক অঞ্চলে জোটের উপস্থিতি বাড়ানো এবং নিজেদের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে এ বছর এই মিশন শুরু হয়েছে।

রাশিয়া-চীনের দিকেও নজর

আর্কটিক অঞ্চল কেবল রাজনৈতিকভাবেই নয়, খনিজ সম্পদের কারণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই এলাকায় ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়াকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে রাশিয়া। বর্তমানে আর্কটিকে সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে মস্কোর। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রমও বাড়িয়েছে চীন। ফলে অঞ্চলটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো, রাশিয়া ও চীনের স্বার্থের সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এতদিন আর্কটিকে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করার বিষয়টি স্বীকার করেছে ডেনমার্কও। অঞ্চলটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহের পর আর্কটিকে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার পথে হাঁটছে কোপেনহেগেন। ২২ বছর বয়সী সৈনিক আন্তনের ভাষায়, ‘এটি এই বার্তাই দেয় যে, ডেনমার্ক ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে শক্তিশালী করছে।’

তথ্য সূত্র-

রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্ত্রাসবাদ ও সিন্ধু পানি চুক্তিকে কেন আলাদা করে দেখছে না ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


সন্ত্রাসবাদ ও সিন্ধু পানি চুক্তিকে কেন আলাদা করে দেখছে না ভারত

একটি পর্যায়ে গিয়ে শান্তি রক্ষার জন্য করা কোনো চুক্তিও এমন মনে হতে পারে, যেন তা খারাপ আচরণকে পুরস্কৃত করছে। ভারতের কাছে সেই মুহূর্তটি আসে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল। জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ২৬ জন। নয়াদিল্লি এই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এরপর ভারত ঘোষণা দেয়, ছয় দশকের বেশি পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা হবে- যত দিন না পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করে।

বার্তাটি ছিল স্পষ্ট। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সুবিধাকে আর নিরাপত্তা পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখবে না ভারত। এবার সেই বিতর্ক গড়িয়েছে দ্য হেগে। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পাকিস্তানের আবেদনে সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে গঠিত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত রায় দেন, চুক্তিটি এখনো কার্যকর এবং ভারতের একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত চুক্তিকে স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। একই সঙ্গে ভারতের রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে অন্তর্বর্তী কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়।

পাকিস্তান এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, তারা কখনোই এই সালিসি আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত- চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত- নিয়ে রায় দেওয়ার এখতিয়ারও এই ট্রাইব্যুনালের নেই। আইনি লড়াই হয়তো চলবে। কিন্তু এর বাইরে একটি বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্ন থেকেই যায়। একটি দেশ কেন এমন একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সব সুবিধা বজায় রাখতে বাধ্য থাকবে, যদি তার বিশ্বাস হয় যে অপর পক্ষ একই সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এবং তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উৎসাহিত করছে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু 'pacta sunt servanda'- অর্থাৎ চুক্তি অবশ্যই মানতে হবে, নীতির কথা বললেই শেষ হয়ে যায় না। অবশ্যই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির প্রতি সম্মান না থাকলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশৃঙ্খলায় পড়ত। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন কখনোই চুক্তিকে এমন কোনো পবিত্র বস্তু হিসেবে দেখেনি, যা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন বা স্থগিত করা যাবে না। চুক্তিবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনে বিশেষ পরিস্থিতিতে চুক্তি স্থগিত বা বাতিলের কিছু ভিত্তি স্বীকৃত আছে- যেমন গুরুতর চুক্তিভঙ্গ বা পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন।

সেই মানদণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবেই কঠোর। কিন্তু কঠোর মানে অসম্ভব নয়। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ইতিহাসেও দেখা যায়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দেশগুলো কখনো কখনো দীর্ঘদিনের চুক্তিগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেছে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে করা অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, ১৯৭২ সালে চুক্তিটি সইয়ের পর আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিবেশ আমূল বদলে গেছে এবং নতুন বাস্তবতা তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস বা আইএনএফ চুক্তি থেকেও সরে আসে। তাদের অভিযোগ ছিল, রাশিয়া চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে এবং সেই পরিস্থিতিতে চুক্তির মধ্যে থেকে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এই সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে বা বিপক্ষে মত থাকতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার- রাষ্ট্রগুলো সাধারণত চুক্তিকে আত্মঘাতী বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেলে সরকারগুলো অতীতে নেওয়া প্রতিশ্রুতিও নতুন করে মূল্যায়ন করে। ভারত বলতে পারে, একই নীতি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

পানি শুধু পানি নয়

সমালোচকদের যুক্তি ভিন্ন। সিন্ধু পানি চুক্তি একটি পানিবণ্টন চুক্তি, সামরিক বা নিরাপত্তা চুক্তি নয়। তাই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এর কার্যকারিতার সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। কিন্তু এই যুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে। এ অঞ্চলে পানি শুধু পানি নয়। সিন্ধু নদ অববাহিকা পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির প্রাণভোমরা। ১৯৬০ সালের চুক্তিতে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব- এই পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি মূলত পাকিস্তানের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়। অন্যদিকে ভারতকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর ভারতের অধিকতর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়। ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দিয়েছে।

দেশভাগের পর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি যুদ্ধ, সামরিক উত্তেজনা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্যেও টিকে আছে। স্বাধীনতার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন। কিন্তু টিকে থাকা মানেই অপরিবর্তনীয় থাকা নয়। ১৯৬০ সালের ভারত ও পাকিস্তান আর ২০২৬ সালের ভারত ও পাকিস্তান এক বাস্তবতায় নেই। জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন নতুন সংকট তৈরি করেছে। পানির ঘাটতি, জ্বালানির চাহিদা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে গেছে।

ভারতের যুক্তি হলো, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটেছে দুই দেশের সম্পর্কের চরিত্রে। নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে পাহেলগাম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাই, উরি, পুলওয়ামা ও পাহেলগামসহ বিভিন্ন হামলায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে আসছে। পাকিস্তান অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। ভারত পাহেলগাম হামলার ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তাইয়েবা ও টিআরএফ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের কথাও বলেছে। পাকিস্তান এখনো কোনো ধরনের দায় স্বীকার করেনি। এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ শুধু কূটনৈতিক বিতর্ক নয়। সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার পেছনে ভারতের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত যুক্তিরও অংশ।

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি কোথায়

ভারতের অবস্থানকে সবচেয়ে শক্তিশালীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এভাবে- সন্ত্রাসবাদ ঘটলেই কোনো চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। এমন দাবি টেকসই নয়। বরং ভারতের যুক্তি একটি সামগ্রিক বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বারবার সন্ত্রাসী হামলা, পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে ভারতের অভিযোগ, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি এবং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তন- সব মিলিয়ে সেই পরিস্থিতি আর নেই, যে পরিস্থিতিতে সিন্ধু পানি চুক্তির জন্ম হয়েছিল। ভারতের যুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা সম্ভবত এটিই।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে- চুক্তি স্থগিত করা এবং চিরতরে বাতিল করে দেওয়া এক বিষয় নয়। ভারত এখনো বলেনি যে সিন্ধু পানি চুক্তির অস্তিত্ব চিরতরে শেষ। তারা বলছে, চুক্তিটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং এর ভবিষ্যৎ পাকিস্তানের আচরণের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ দরজাটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলালে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আবার শুরু হতে পারে। ভারতের বক্তব্য তাই এমন নয় যে চুক্তির কোনো মূল্য নেই। বরং তাদের যুক্তি হলো, সহযোগিতার যেমন সুবিধা আছে, তেমনি বিশ্বাস ধ্বংসেরও পরিণতি আছে।

দ্য হেগের সালিসি আদালত অবশ্য ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাদের মতে, ভারত যে কারণগুলো দেখিয়েছে, তা চুক্তি স্থগিত বা বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু আদালতের কোনো রায় কি এমন জায়গায় বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে, যেখানে বিশ্বাসই আর অবশিষ্ট নেই? আন্তর্জাতিক আইনকে এত যান্ত্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত কি না, সেটিও প্রশ্ন। কারণ, কোনো রাষ্ট্র যদি মনে করে তার নিরাপত্তা পরিবেশ মৌলিকভাবে বদলে গেছে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়ার কোনো অর্থবহ সুযোগ কি থাকা উচিত নয়?

শান্তি কি একপক্ষের দায়িত্ব?

যারা ভারত ও পাকিস্তানকে সংলাপ ও সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান, তাদের বক্তব্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। পানি সহযোগিতা জরুরি। চুক্তির স্থিতিশীলতা জরুরি। আঞ্চলিক শান্তিও জরুরি। কিন্তু স্থিতিশীলতার অর্থ কি এই যে একটি পক্ষ তার কাছে মৌলিক নিরাপত্তা হুমকি মনে হওয়া সত্ত্বেও সহযোগিতার সব সুবিধা অব্যাহত রাখবে? শান্তি একতরফা দায়িত্ব হতে পারে না। ভারতের দৃষ্টিতে, পাকিস্তান যদি সিন্ধু পানি চুক্তিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায়, তাহলে শুধু দ্য হেগে আরেকটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলেই হবে না। যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতির কারণে চুক্তিটি ভারতের কাছে ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে, তার সমাধান করতে হবে।

ভারতের কাছে এর অর্থ সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অবসান এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে ভারতের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে আর কোনো হুমকি তৈরি হবে না- এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা। পাকিস্তানের জন্য এর অর্থ হতে পারে, ভারতের কৌশলগত ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে- সেটি স্বীকার করা। সিন্ধু পানি চুক্তি জন্ম নিয়েছিল ভিন্ন এক দক্ষিণ এশিয়ায়। সেসময় ভারত রাজনৈতিক বৈরিতার বাইরে পানি সহযোগিতাকে আলাদা করে রাখতে রাজি হয়েছিল এই আশায় যে সহযোগিতা হয়তো একদিন সম্পর্ক উন্নয়নের পথ তৈরি করবে। সেই আশা বারবার পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

পাহেলগামের শিক্ষা তাই ভারতের দৃষ্টিতে এই নয় যে চুক্তির কোনো মূল্য নেই। বরং শিক্ষা হলো, কোনো চুক্তিকে তার স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর আচরণ থেকে অনন্তকাল বিচ্ছিন্ন করে রাখা যায় না। সিন্ধু পানি চুক্তি যুদ্ধের মধ্যেও টিকে আছে- এটি সত্য। কিন্তু টিকে থাকা আর চিরস্থায়ী হওয়া এক বিষয় নয়। ৬৬ বছরের পুরোনো একটি চুক্তিকে জাদুঘরের নিদর্শনের মতো অপরিবর্তনীয় ধরে নেওয়া যায় না, যখন তার চারপাশের কৌশলগত, পরিবেশগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল বদলে গেছে। পানি হয়তো চুক্তির নিয়ম মেনে সীমান্ত অতিক্রম করে। বিশ্বাস করে না। পাকিস্তান যদি চুক্তিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে সেই প্রত্যাবর্তন শুধু দ্য হেগের আদালতে জেতা যাবে না। বাস্তব পৃথিবীতে আস্থা পুনর্গঠন করতে হবে- যে আস্থা একসময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতাকে সম্ভব করেছিল।

সেই আস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত ভারতের কাছে পাহেলগামের পরও সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে- এমন আচরণ প্রত্যাশা করা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান নয়। বরং সেটি বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার দাবি। আর কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাছ থেকে বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার এমন প্রত্যাশা কতটা যুক্তিসংগত, সেটিই এখন সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সৌজন্যে- কালের কণ্ঠ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সঙ্গে হাত মেলালেই বিপদ? ভারতকে যে সতর্কবার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


ইরানের সঙ্গে হাত মেলালেই বিপদ? ভারতকে যে সতর্কবার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে বৈঠকের পর, নয়াদিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গুঞ্জনকে নাকচ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো দেশ ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে তেহরানকে সহায়তা করে, তবে সেই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

এ তথ্য বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ভারতের সাথে ইরানের বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, "প্রতিটি দেশই নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে।" তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সাথে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগ রয়েছে, কিন্তু ওয়াশিংটনও ইরানি সরকারের সাথে আলোচনা করেছে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেন রুবিও। তিনি বলেন, "কোনো দেশেরই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা উচিত নয়।" তিনি আরও বলেন, যদি কোনো রাষ্ট্র তেহরানকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দেয় বা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তা করে, তাহলে ওয়াশিংটনের জন্য ওই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন হয়ে পড়বে।

রুবিও বলেন, "কোনো দেশেরই উচিত নয় ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা।" তিনি সতর্ক করেন যে, যদি কোনো দেশ তা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করতে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ওয়াশিংটন মূলত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষণ করে রেখেছে।

এদিকে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ছয় মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীর রাত্রিকালীন হামলার কথা স্বীকার করে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে দাবি করেন যে, তাদের নতুন কৌশল ওয়াশিংটনের ভিত্তিকে চূর্ণ করে দেবে। সূত্র : এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২

কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে ফয়েজ আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম নামের দুই জেলের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় আরও দুই জেলে, যাদের নাম নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহ, নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত জেলেদের সকলের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলে রওনা হন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ট্রলারটি নাজিরারটেক উপকূলের নিকটবর্তী পৌঁছালে ঝড়ের কারণে উল্টে যায়।

পরে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফয়েজ আহমেদ ও সাইফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জেলেরা তৎপরতা চালাচ্ছেন।

তবে দুর্ঘটনার সময় ট্রলারটিতে মোট কতজন জেলে উপস্থিত ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%