ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উত্তপ্ত ক্যাম্পাস ও ছাত্র রাজনীতি: কার লাভ, কার ক্ষতি?


উত্তপ্ত ক্যাম্পাস ও ছাত্র রাজনীতি: কার লাভ, কার ক্ষতি?

দীর্ঘ ১৭ বছর একটানা ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশের হাজারো ছাত্র জনতা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে, অঙ্গহানি করে, চিরস্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের অন্যতম আইকন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও পলায়ন করতে বাধ্য করেছে। দেশে গণতন্ত্র আইনের শাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছে। তার সুফল এখনো পেয়েছে কিনা সেটি জনগণই ভালো জানে। তবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান রাজনৈতিক দল-বিএনপি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে ক্ষমতাসীন হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মত রাজনৈতিক দল অনেক আসন পেয়ে বিরোধী দলে জায়গা করে নেয়। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পরাজিত শক্তি বসে নেই, দলীয় প্রধান পালিয়ে গেলেও কোন অনুশোচনা ছাড়াই ক্রমাগত নেতাকর্মীদের উস্কানি দিয়ে গোটা দেশ বিশৃঙ্খল করে রাখতে চাইছে। নিজে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেল সংকট, গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতি লুটপাট অপশাসনের ফলে এবং তার বিভিন্ন দোসর বিভিন্ন পদে আসিন থাকায় সরকারকে বাজার ব্যবস্থায় চরম অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিম্ন আয়ের মানুষদের নাভিশ্বাস এর সাথে পাশাপাশি যদি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয় তাহলে দীর্ঘ গণতন্ত্রহীনতা শেষে নতুন ব্যবস্থায় ফেরার জন্য যে স্থিতিশীলতা দরকার তা নতুন সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আসলে সরকারি দল নাকি বিরোধী দল নাকি অনুশোচনা ছাড়াই দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কাদের লাভ হচ্ছে অথবা কাদের ক্ষতি হচ্ছে তা ভেবে দেখা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী।


বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কখনো কেবল শিক্ষার কেন্দ্র ছিল না; এটি ছিল গণতন্ত্র, প্রতিবাদ, অধিকার আদায় ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূতিকাগার। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাস যুক্তির বদলে শক্তির, বিতর্কের বদলে দখলের এবং মতের বদলে সংঘর্ষের মঞ্চে পরিণত হয়, তখন সবচেয়ে বড় পরাজিত হয় জাতি।

জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। সরকারি সমর্থক ছাত্রসংগঠন, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান, সংঘর্ষ ও উত্তেজনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—ছাত্ররাজনীতি কি আবারও সেই পুরোনো সহিংসতার চক্রে ফিরে যাচ্ছে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—এই সংঘাতের প্রকৃত লাভ কার?
যে দেশ অর্থনৈতিক চাপ, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় যদি প্রতিদিন সংঘর্ষের সংবাদ শিরোনাম হয়, তবে লাভ কোনো ছাত্রসংগঠনের নয়। ক্ষতি হয় শিক্ষার্থীর, ক্ষতি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, ক্ষতি হয় রাষ্ট্রের।
ক্ষমতাসীনদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক পরিবেশকে সহনশীল রাখাও তাদের কর্তব্য। অন্যদিকে বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোরও মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নামে সহিংসতা বা প্রতিশোধের রাজনীতি জনসমর্থন নয়, বরং জনআস্থা হারানোর পথ তৈরি করে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস একটি শিক্ষা দেয়—যখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত হয়, তখন সেই বিভাজনের সুযোগ নেয় তৃতীয় শক্তি। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এমন শক্তির জন্য ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যারা বিশৃঙ্খলাকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চেয়েছে। তাই আজ যারা ক্যাম্পাসকে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তারা হয়তো সাময়িকভাবে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে চাইছেন; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হচ্ছে পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামো।

বিশ্ববিদ্যালয় কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়। এটি ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানী, বিচারপতি, শিক্ষক ও চিন্তাবিদ তৈরির প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি বইয়ের বদলে লাঠি, গবেষণার বদলে গোষ্ঠীসংঘর্ষ এবং যুক্তির বদলে পেশিশক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে হারবে বাংলাদেশই।
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা নয়; বরং ছাত্ররাজনীতিকে সভ্য, যুক্তিনির্ভর ও গণতান্ত্রিক করার সময় এসেছে। ক্যাম্পাসে মতের লড়াই থাকবে, কিন্তু অস্ত্রের নয়; বিতর্ক থাকবে, কিন্তু রক্তপাতের নয়।

আজ যারা ছাত্রনেতা, কাল তারাই দেশের নেতৃত্বে আসবেন। যদি তাদের রাজনৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠই হয় সংঘর্ষ, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশও সংঘাতের উত্তরাধিকার বহন করবে। আর যদি তাদের প্রথম পাঠ হয় সহনশীলতা, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, তবে সেই বাংলাদেশ হবে আরও শক্তিশালী। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি একটাই—ক্যাম্পাসে প্রতিদিন উত্তাপ ছড়িয়ে কি কেউ সত্যিই জয়ী হয়?
না। জয়ী হয় কেবল অস্থিরতা। পরাজিত হয় শিক্ষা, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ।

আরও একটি বাস্তবতা আজ জনপরিসরে আলোচিত। দেশের বাইরে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন জাগছে—দেশের অভ্যন্তরে যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যকার সংঘাতে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে সেই বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ কি অতীতের শক্তিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে না?
রাজনীতির ইতিহাস বলে, প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় বিজয় অনেক সময় তার নিজের শক্তিতে নয়; বরং প্রতিদ্বন্দ্বীর আত্মঘাতী বিভক্তিতে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি সংঘর্ষ, প্রতিটি রক্তাক্ত ছবি, প্রতিটি প্রতিহিংসার ঘটনা যেন অদৃশ্য কারও রাজনৈতিক পুঁজিতে পরিণত না হয়—সেই সতর্কতা আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারের সামনে তাই দ্বৈত দায়িত্ব এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে নিজেদের সমর্থক ছাত্রসংগঠনসহ সব রাজনৈতিক পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া। কারণ ক্ষমতার প্রকৃত শক্তি প্রতিপক্ষকে দমনে নয়, নিজের পক্ষকেও আইনের সীমার মধ্যে রাখার সক্ষমতায়।

আজ যদি আবেগ প্রজ্ঞাকে হারিয়ে দেয়, যদি দলীয় আনুগত্য রাষ্ট্রের স্বার্থকে ছাপিয়ে যায়, যদি ক্যাম্পাস আবারও সংঘর্ষের কারখানায় পরিণত হয়, তবে তার মূল্য শুধু একটি সরকার বা একটি দলের নয়—সমগ্র বাংলাদেশকে দিতে হবে।

সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। উত্তপ্ত রাজনীতিকে শীতল প্রজ্ঞায় নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ এখনো আছে। সেই সুযোগ হারিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, ইতিহাস কাদের সুযোগ করে দেবে, আর কাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে—তার উত্তর সময়ই লিখবে। তবে একটি সত্য আজই স্পষ্ট: বিভক্তির রাজনীতি কখনো জাতিকে শক্তিশালী করে না; বরং সেই ফাটল দিয়েই অনিশ্চয়তা প্রবেশ করে রাষ্ট্রের ভেতরে।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বই পড়া কর্মসূচি-২০২৬’ এর উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৫ এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বই পড়া কর্মসূচি-২০২৬’ এর উদ্বোধন

শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যাভ্যাস বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি আলোকিত সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে ‘বই পড়া কর্মসূচি-২০২৬’ শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ শিক্ষার্থীদের সাথে বই পড়ার উপকারিতা ও স্বপ্ন পূরণের নানান দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের ‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’ নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসনের পরিচালনায় এবং বই পড়ুয়াদের সংগঠন ‘অ আ ক খ’ এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচি কার্যকর করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ শিক্ষার্থীদের নতুন স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস ও বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়া শিক্ষার্থীদের মেধা বাড়াতে, সৃজনশীলতা উন্নীত করতে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু তালেব কর্মসূচির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

এছাড়াও, ‘অ আ ক খ’ সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী শেখ ফাতিমা পাপিয়া সাহিত্যের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনটি বিভাগে (ক, খ ও গ) এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে। বাংলা সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও জীবনীর বই পড়ার পর মোট ৫০ নম্বরের (লিখিত ২০, মৌখিক ১০ এবং বই উপস্থাপনা ও বিশ্লেষণ ২০) মূল্যায়নের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে সেরা ১৫ জন শিক্ষার্থীকে জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত করা হবে।

বিভাগভিত্তিক চ্যাম্পিয়নসহ প্রথম ও দ্বিতীয় রানার-আপদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়াও, জেলা পর্যায়ের সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকে সনদপত্র দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসনের অধীন ৭টি বিশেষ উপ-কমিটি পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ : ডিএনসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৯ এম


বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ : ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান-সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন। এভাবে তারা পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রামপুরার হাতিরঝিলে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ, যেখানে ধর্ম নিয়ে কোনো বিভেদ নেই। এখানে সবাই স্বাধীনভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায় যেভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি নির্বাচনে মনোনয়ন পান বা না পান, প্রধানমন্ত্রী যাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তার আহ্বান থাকবে সেই প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বিজয়ী করতে। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, তিনি সব সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা যখনই সিটি করপোরেশনে কোনো প্রয়োজনে তার কাছে এসেছেন, তিনি সাধ্যের মধ্যে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতবাড়ির নিরাপত্তায় তারা পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে কোনো বৈষম্যের স্থান নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। সেই উদ্যোগ সফল করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, মন্দির ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে রাখলে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা তা নিয়মিত অপসারণ করবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনা সেতু এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ এম


যমুনা সেতু এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

যমুনা সেতু এলাকায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এটি দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভা ৩ আগস্ট সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত প্রদান করেন।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভার প্রারম্ভে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে অনুমোদন করেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি যোগ করেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বানেশ্বর্দী ম্যাবস ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু তালেব, সম্পাদক মনিরুজ্জামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ এম


বানেশ্বর্দী ম্যাবস ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু তালেব, সম্পাদক মনিরুজ্জামান

শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের মার্কেট অ্যাক্টরস বিজিনেস স্কুলের (ম্যাবস) ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি পদে মো. আবু তালেব ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মনিরুজ্জামানকে মনোনিত করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে দুই বছর মেয়াদী এই কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান।

কমিটির অন্যান্যরা হলেন, কোষাধ্যক্ষ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, দপ্তর সম্পাদক মো. পারভেজ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন এবং চারজন সদস্য রফিকুল ইসলাম, সোমাইয়া আক্তার শিমু, লূৎফর রহমান ও লান্সি বেগম।

এর আগে কমিটি গঠন ও ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে রবিবার উপজেলার গনপদ্দি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আফরোজা বেগম পারুল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তাবাসসুম মকবুলা দিশা, প্রকল্পের (পার্টনার এপিসিইউ-ডিএএম) সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার মো. বায়েজীদ বোস্তামী। এছাড়া কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এনজিও প্রতিনিধি লূৎফর রহমান প্রমুখ।

আলোচনা সভায় ম্যাবস কি, স্কুল গঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মার্কেট এক্টরস বিজনেসস্কুল গঠনের জন্য বিভিন্ন অ্যাক্টর নির্বাচনের মানদন্ড। ম্যাবস-এর অংশীজনদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ম্যাবসের মৌলিক মূল্যবোধ এবং নীতিমালার নিয়ম কানুন। ম্যাবসের কার্যপরিধি ও ম্যাবস ব্যবস্থাপনা কমিটির কাঠামো ও কাজের ধরন। ম্যাবস গঠনের জন্য এলাকা নির্বাচন, সভার স্থান নির্বাচন, সাধারণ নিয়ম ও বিধি, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণের তদারকি এবং ম্যাবস গঠনের সম্ভাব্য ফলাফল বিষয়াবলীর উপর আলোচনা করেন বক্তারা।

উল্লেখ্য, এদিন উপজেলার গনপদ্দি, নকলা, উরফা ও বানেশ্বরদী ইউনিয়নের মার্কেট অ্যাক্টরস বিজিনেস স্কুল (ম্যাবস) ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান সকল কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%