মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২১ পি.এম
হংকংয়ের কিংবদন্তি অ্যাকশন তারকা জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া। একটি সাদা-কালো ছবিতে ‘১৯৫৪-২০২৬’ লেখা ব্যবহার করে তার মৃত্যুর দাবি করা হচ্ছে। তবে জ্যাকি চ্যান এখনো জীবিত এবং সক্রিয় রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, ৭২ বছর বয়সী এই অভিনেতা মারা গেছেন। এমনকি একটি পোস্ট মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় ৩৮ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
জ্যাকি চ্যানের আসল নাম ফাং শিলং। তার মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। গত ৭ জুলাই সিঙ্গাপুরের পেই চুন পাবলিক স্কুলে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন তিনি। ‘লিম ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ৯০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন অভিনেতা। এ সময় তাকে নিজের গান ‘হার্ড টু সে গুডবাই’ গাইতেও দেখা যায়।
জ্যাকি চ্যানের নাম ও জন্ম-মৃত্যুর সাল উল্লেখ করে তৈরি স্মরণসভাসদৃশ ছবিই মূলত গুজব ছড়ানোর অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বখ্যাত তারকাদের নিয়ে এ ধরনের ভুয়া মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন নয়।
ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে জ্যাকি চ্যান ‘রাশ আওয়ার’, ‘পুলিশ স্টোরি’ ও ‘ড্রাঙ্কেন মাস্টার’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তিনি বিনোদন অঙ্গনে এখনো সক্রিয়। সূত্র : গালফ নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং জেএসএস (সন্তু লারমা) সমর্থিত সশস্ত্র দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯) নামে একটি শিশু।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি সংঘটিত হয়। এই সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকশ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গোলাগুলির মধ্যে চাইল্যাতলী এলাকার বাসিন্দা শিশু সঞ্জিতা ত্রিপুরার বাম হাতে গুলি লাগে। পরে তার হাত থেকে গুলি বের করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাজেক থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিত্যক্ত অবস্থায় বহু বছর কাটানোর পর, রহস্যময় গল্পে ঘেরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর বিখ্যাত ‘আল কাসিমি প্যালেস’ এখন নতুন মালিকের সন্ধানে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৩৫ বেডরুমের এই বিশাল প্রাসাদটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম, যা আসবাবপত্র ও পুরোনো নিদর্শনসহ বিক্রি হবে।
প্রাসাদের ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী
১৯৮৫ সালে রাস আল খাইমাহর শাসক পরিবারের সদস্য প্রয়াত শেখ আবদুল আজিজ বিন হুমাইদ আল কাসিমি এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। ইরান, মরক্কো, ভারত ও চীনের দক্ষ কারিগররা এর চমৎকার নকশা ও নান্দনিক সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছেন। প্রাসাদের মোজাইক, টাইলস এবং দেয়ালচিত্রের প্রতিটি কোণে তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
‘হন্টেড প্যালেস’ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ কাহিনি। নির্মাণের পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই প্রাসাদটি খালি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এই সময়ে সেখানে অদ্ভুত শব্দ শোনা, রাতের বেলায় রহস্যময় আলো জ্বলা-নেভা সহ নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। লোককথা ও রহস্যময় গল্পের কারণে ভবনটি ‘হন্টেড প্যালেস’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব ঘটনার পেছনে কোনো বাস্তব সত্য বা প্রমাণ নেই।
২০১৯ সালে প্রাসাদটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়, যেখানে দর্শনার্থীরা মাত্র ৭৫ দিরহাম প্রবেশমূল্য পরিশোধ করে ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
প্রাসাদের স্থাপত্য ও সুযোগ-সুবিধা
জমির পরিমাণ: প্রাসাদটির মূল জমির আয়তন প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৪২ বর্গফুট এবং এর ভেতরের ভবনের আয়তন ৩৩ হাজার ৮২৭ বর্গফুট।
দ্বিতীয় তলা: এই তলায় একটি চমৎকার ও বড় সাদা পিরামিড আকৃতির কাঠামো রয়েছে, যার চারপাশে আটটি দৃষ্টিনন্দন বেডরুম অবস্থিত।
তৃতীয় তলা: ভবনের এই বিশেষ অংশে রাশিচক্রের প্রতীক আঁকা একটি অনন্য ছাদ এবং একটি সুবিশাল ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে।
মূল্যবিন্যাস: আসবাবপত্র ছাড়া প্রাসাদটির দাম ২ কোটি ২৫ লাখ দিরহাম এবং সব আসবাব, পুরোনো নিদর্শন ও সংগ্রহসহ এর দাম ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম।
ক্রেতাদের আগ্রহ ও সংস্কারের স্বাধীনতা: ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতা এই প্রাসাদটি ক্রয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ এটিকে নিজের বসবাসের জন্য ব্যক্তিগত প্রাসাদ বানাতে চান, আবার কেউ হোটেল, পর্যটনকেন্দ্র কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।
এই ঐতিহাসিক প্রাসাদটির ওপর কোনো ধরনের ‘হেরিটেজ রেস্ট্রিকশন’ বা ঐতিহ্যগত নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে এর নতুন মালিক চাইলে ভবনটি সংস্কার, অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন কিংবা পুনর্নির্মাণ করতে পারবেন।
সূত্র: খালিজ টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার ঘটনা সম্পর্কে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি যা এই ভাঙচুরকে সমর্থন করে বা ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যে’ ভাঙা হয়েছে বলে উল্লেখ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে প্রচারিত বক্তব্যকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ‘দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাতে ভাঙা হয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’—এমন বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। তবে তিনি কখনো এমন বক্তব্য দেননি।
তিনি উল্লেখ করেন, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তিনি স্থানীয় দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল, ধ্বংসস্তূপ দ্রুত অপসারণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্ব্যবস্থাপনা শুরু করা এবং মা ও শিশুদের টিকাদানসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়।
এজন্য তিনি ফ্যান, পর্দা, চেয়ার, টেবিল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।
বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তার দেওয়া বক্তব্য, বক্তব্যের ভিডিও এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তার নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
এ ধরনের অপতথ্য একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যকে বিকৃত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি করতে পারে।
তিনি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যারা ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তিনি অনুরোধ করেন, কোনো ফটোকার্ড, পোস্ট বা বক্তব্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করুন।
তুলির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কয়েকজন তার ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা সমস্যা দেখা দিলে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীলভাবে পরামর্শ দিতে হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’ তাই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা অপতথ্য না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, অন্যায়ভাবে ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে, দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সাধারণ মানুষের টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
জনস্বার্থ, মানবিকতা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনকারী ‘বিট পুলিশিং’ কার্যক্রম বর্তমানে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পুলিশের রাতের উপস্থিতি ও তদারকি কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন সেক্টরে, পাড়া-মহল্লায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং মাদক কেনাবেচার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানোর জন্য এবং অপরাধ দমনে উত্তরা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিটে একজন এসআই বা এএসআই-কে বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা, প্রতি ওয়ার্ডে বিট কার্যালয় স্থাপন করা, দেয়ালে বিট অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর টানানো এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে মাসিক উঠান বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব কার্যক্রম কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অধিকাংশ বিট কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকে অথবা সেখানে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায় না। সান্ধ্যকালীন টহল এবং পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যাওয়ায় অপরাধী চক্রগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে দিনদুপুরে মোবাইল ও স্বর্ণ ছিনতাই, বাসা-বাড়িতে চুরি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর নির্জন গলিগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বাড়ছে। বিশেষ করে রাত ৮টার পর উত্তরখানের বালুর মাঠ, প্রাইমারি স্কুল রোড, কাঁচ কুড়া বাজার এলাকা, দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচা বাজার, তুরাগের নলভোগ, দলিপাড়া, কামারপাড়া ও দিয়াবাড়ি এলাকা অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।
উত্তরার ৩, ৪, ৬, ৭, ১০ ও ১২ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, “আগে গলির মুখে বিট পুলিশের ফোন নম্বর লেখা থাকত এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বিট পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেন। কিন্তু এখন বিট পুলিশের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরাগের নলভোগ ও দলিপাড়ার বাসিন্দারা জানান, দিয়াবাড়িসহ এসব এলাকায় রাতের বেলা পর্যাপ্ত টহল না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উত্তরা এলাকার বিভিন্ন কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি কমে গেছে। দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত না করলে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
অভিযোগের বিষয়ে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের গতি বাড়াতে থানাভিত্তিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত বিট পুলিশিং সভা, রাত্রিকালীন টহল এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উত্তরার প্রতিটি থানা এলাকার অলিগলি ও সেক্টরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু থানাভিত্তিক কার্যক্রম নয়, বরং বিট পুলিশিংকে কঠোরভাবে তদারকি ও কার্যকর করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ