প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিত্যক্ত অবস্থায় বহু বছর কাটানোর পর, রহস্যময় গল্পে ঘেরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর বিখ্যাত ‘আল কাসিমি প্যালেস’ এখন নতুন মালিকের সন্ধানে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৩৫ বেডরুমের এই বিশাল প্রাসাদটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম, যা আসবাবপত্র ও পুরোনো নিদর্শনসহ বিক্রি হবে।
প্রাসাদের ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী
১৯৮৫ সালে রাস আল খাইমাহর শাসক পরিবারের সদস্য প্রয়াত শেখ আবদুল আজিজ বিন হুমাইদ আল কাসিমি এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। ইরান, মরক্কো, ভারত ও চীনের দক্ষ কারিগররা এর চমৎকার নকশা ও নান্দনিক সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছেন। প্রাসাদের মোজাইক, টাইলস এবং দেয়ালচিত্রের প্রতিটি কোণে তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
‘হন্টেড প্যালেস’ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ কাহিনি। নির্মাণের পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই প্রাসাদটি খালি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এই সময়ে সেখানে অদ্ভুত শব্দ শোনা, রাতের বেলায় রহস্যময় আলো জ্বলা-নেভা সহ নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। লোককথা ও রহস্যময় গল্পের কারণে ভবনটি ‘হন্টেড প্যালেস’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব ঘটনার পেছনে কোনো বাস্তব সত্য বা প্রমাণ নেই।
২০১৯ সালে প্রাসাদটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়, যেখানে দর্শনার্থীরা মাত্র ৭৫ দিরহাম প্রবেশমূল্য পরিশোধ করে ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
প্রাসাদের স্থাপত্য ও সুযোগ-সুবিধা
জমির পরিমাণ: প্রাসাদটির মূল জমির আয়তন প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৪২ বর্গফুট এবং এর ভেতরের ভবনের আয়তন ৩৩ হাজার ৮২৭ বর্গফুট।
দ্বিতীয় তলা: এই তলায় একটি চমৎকার ও বড় সাদা পিরামিড আকৃতির কাঠামো রয়েছে, যার চারপাশে আটটি দৃষ্টিনন্দন বেডরুম অবস্থিত।
তৃতীয় তলা: ভবনের এই বিশেষ অংশে রাশিচক্রের প্রতীক আঁকা একটি অনন্য ছাদ এবং একটি সুবিশাল ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে।
মূল্যবিন্যাস: আসবাবপত্র ছাড়া প্রাসাদটির দাম ২ কোটি ২৫ লাখ দিরহাম এবং সব আসবাব, পুরোনো নিদর্শন ও সংগ্রহসহ এর দাম ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম।
ক্রেতাদের আগ্রহ ও সংস্কারের স্বাধীনতা: ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতা এই প্রাসাদটি ক্রয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ এটিকে নিজের বসবাসের জন্য ব্যক্তিগত প্রাসাদ বানাতে চান, আবার কেউ হোটেল, পর্যটনকেন্দ্র কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।
এই ঐতিহাসিক প্রাসাদটির ওপর কোনো ধরনের ‘হেরিটেজ রেস্ট্রিকশন’ বা ঐতিহ্যগত নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে এর নতুন মালিক চাইলে ভবনটি সংস্কার, অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন কিংবা পুনর্নির্মাণ করতে পারবেন।
সূত্র: খালিজ টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন