প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার ঘটনা সম্পর্কে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি যা এই ভাঙচুরকে সমর্থন করে বা ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যে’ ভাঙা হয়েছে বলে উল্লেখ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে প্রচারিত বক্তব্যকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ‘দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাতে ভাঙা হয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’—এমন বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। তবে তিনি কখনো এমন বক্তব্য দেননি।
তিনি উল্লেখ করেন, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তিনি স্থানীয় দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল, ধ্বংসস্তূপ দ্রুত অপসারণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্ব্যবস্থাপনা শুরু করা এবং মা ও শিশুদের টিকাদানসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়।
এজন্য তিনি ফ্যান, পর্দা, চেয়ার, টেবিল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।
বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তার দেওয়া বক্তব্য, বক্তব্যের ভিডিও এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তার নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
এ ধরনের অপতথ্য একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যকে বিকৃত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি করতে পারে।
তিনি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যারা ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তিনি অনুরোধ করেন, কোনো ফটোকার্ড, পোস্ট বা বক্তব্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করুন।
তুলির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কয়েকজন তার ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা সমস্যা দেখা দিলে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীলভাবে পরামর্শ দিতে হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’ তাই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা অপতথ্য না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, অন্যায়ভাবে ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে, দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সাধারণ মানুষের টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
জনস্বার্থ, মানবিকতা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন