ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিক্রির অপেক্ষায় ৩৫ বেডরুমের ভৌতিক প্রাসাদ ‘হন্টেড প্যালেস’


বিক্রির অপেক্ষায় ৩৫ বেডরুমের ভৌতিক প্রাসাদ ‘হন্টেড প্যালেস’

পরিত্যক্ত অবস্থায় বহু বছর কাটানোর পর, রহস্যময় গল্পে ঘেরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর বিখ্যাত ‘আল কাসিমি প্যালেস’ এখন নতুন মালিকের সন্ধানে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৩৫ বেডরুমের এই বিশাল প্রাসাদটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম, যা আসবাবপত্র ও পুরোনো নিদর্শনসহ বিক্রি হবে।

প্রাসাদের ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী

১৯৮৫ সালে রাস আল খাইমাহর শাসক পরিবারের সদস্য প্রয়াত শেখ আবদুল আজিজ বিন হুমাইদ আল কাসিমি এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। ইরান, মরক্কো, ভারত ও চীনের দক্ষ কারিগররা এর চমৎকার নকশা ও নান্দনিক সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছেন। প্রাসাদের মোজাইক, টাইলস এবং দেয়ালচিত্রের প্রতিটি কোণে তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী

‘হন্টেড প্যালেস’ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ কাহিনি। নির্মাণের পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই প্রাসাদটি খালি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এই সময়ে সেখানে অদ্ভুত শব্দ শোনা, রাতের বেলায় রহস্যময় আলো জ্বলা-নেভা সহ নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। লোককথা ও রহস্যময় গল্পের কারণে ভবনটি ‘হন্টেড প্যালেস’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব ঘটনার পেছনে কোনো বাস্তব সত্য বা প্রমাণ নেই।

২০১৯ সালে প্রাসাদটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়, যেখানে দর্শনার্থীরা মাত্র ৭৫ দিরহাম প্রবেশমূল্য পরিশোধ করে ঘুরে দেখার সুযোগ পান।

প্রাসাদের স্থাপত্য ও সুযোগ-সুবিধা

জমির পরিমাণ: প্রাসাদটির মূল জমির আয়তন প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৪২ বর্গফুট এবং এর ভেতরের ভবনের আয়তন ৩৩ হাজার ৮২৭ বর্গফুট।

আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু

দ্বিতীয় তলা: এই তলায় একটি চমৎকার ও বড় সাদা পিরামিড আকৃতির কাঠামো রয়েছে, যার চারপাশে আটটি দৃষ্টিনন্দন বেডরুম অবস্থিত।

তৃতীয় তলা: ভবনের এই বিশেষ অংশে রাশিচক্রের প্রতীক আঁকা একটি অনন্য ছাদ এবং একটি সুবিশাল ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে।

মূল্যবিন্যাস: আসবাবপত্র ছাড়া প্রাসাদটির দাম ২ কোটি ২৫ লাখ দিরহাম এবং সব আসবাব, পুরোনো নিদর্শন ও সংগ্রহসহ এর দাম ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম।

ক্রেতাদের আগ্রহ ও সংস্কারের স্বাধীনতা: ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতা এই প্রাসাদটি ক্রয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ এটিকে নিজের বসবাসের জন্য ব্যক্তিগত প্রাসাদ বানাতে চান, আবার কেউ হোটেল, পর্যটনকেন্দ্র কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো

এই ঐতিহাসিক প্রাসাদটির ওপর কোনো ধরনের ‘হেরিটেজ রেস্ট্রিকশন’ বা ঐতিহ্যগত নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে এর নতুন মালিক চাইলে ভবনটি সংস্কার, অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন কিংবা পুনর্নির্মাণ করতে পারবেন।

সূত্র: খালিজ টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙা নিয়ে ভুয়া উক্তি প্রচার : সানজিদা ইসলাম তুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙা নিয়ে ভুয়া উক্তি প্রচার :  সানজিদা ইসলাম তুলি

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার ঘটনা সম্পর্কে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি যা এই ভাঙচুরকে সমর্থন করে বা ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যে’ ভাঙা হয়েছে বলে উল্লেখ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে প্রচারিত বক্তব্যকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ‘দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাতে ভাঙা হয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’—এমন বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। তবে তিনি কখনো এমন বক্তব্য দেননি।

তিনি উল্লেখ করেন, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তিনি স্থানীয় দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল, ধ্বংসস্তূপ দ্রুত অপসারণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্ব্যবস্থাপনা শুরু করা এবং মা ও শিশুদের টিকাদানসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়।

এজন্য তিনি ফ্যান, পর্দা, চেয়ার, টেবিল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।

বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তার দেওয়া বক্তব্য, বক্তব্যের ভিডিও এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তার নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।

এ ধরনের অপতথ্য একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যকে বিকৃত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি করতে পারে।

তিনি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যারা ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তিনি অনুরোধ করেন, কোনো ফটোকার্ড, পোস্ট বা বক্তব্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করুন।

তুলির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কয়েকজন তার ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা সমস্যা দেখা দিলে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীলভাবে পরামর্শ দিতে হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’ তাই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা অপতথ্য না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, অন্যায়ভাবে ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে, দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সাধারণ মানুষের টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

জনস্বার্থ, মানবিকতা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম মুখ থুবড়ে, বাড়ছে অপরাধ ও আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


উত্তরায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম মুখ থুবড়ে, বাড়ছে অপরাধ ও আতঙ্ক

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনকারী ‘বিট পুলিশিং’ কার্যক্রম বর্তমানে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পুলিশের রাতের উপস্থিতি ও তদারকি কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন সেক্টরে, পাড়া-মহল্লায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং মাদক কেনাবেচার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানোর জন্য এবং অপরাধ দমনে উত্তরা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিটে একজন এসআই বা এএসআই-কে বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা, প্রতি ওয়ার্ডে বিট কার্যালয় স্থাপন করা, দেয়ালে বিট অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর টানানো এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে মাসিক উঠান বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব কার্যক্রম কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অধিকাংশ বিট কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকে অথবা সেখানে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায় না। সান্ধ্যকালীন টহল এবং পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যাওয়ায় অপরাধী চক্রগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে দিনদুপুরে মোবাইল ও স্বর্ণ ছিনতাই, বাসা-বাড়িতে চুরি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর নির্জন গলিগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বাড়ছে। বিশেষ করে রাত ৮টার পর উত্তরখানের বালুর মাঠ, প্রাইমারি স্কুল রোড, কাঁচ কুড়া বাজার এলাকা, দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচা বাজার, তুরাগের নলভোগ, দলিপাড়া, কামারপাড়া ও দিয়াবাড়ি এলাকা অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।

উত্তরার ৩, ৪, ৬, ৭, ১০ ও ১২ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, “আগে গলির মুখে বিট পুলিশের ফোন নম্বর লেখা থাকত এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বিট পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেন। কিন্তু এখন বিট পুলিশের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ে না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরাগের নলভোগ ও দলিপাড়ার বাসিন্দারা জানান, দিয়াবাড়িসহ এসব এলাকায় রাতের বেলা পর্যাপ্ত টহল না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

উত্তরা এলাকার বিভিন্ন কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি কমে গেছে। দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত না করলে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।

অভিযোগের বিষয়ে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের গতি বাড়াতে থানাভিত্তিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত বিট পুলিশিং সভা, রাত্রিকালীন টহল এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, উত্তরার প্রতিটি থানা এলাকার অলিগলি ও সেক্টরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু থানাভিত্তিক কার্যক্রম নয়, বরং বিট পুলিশিংকে কঠোরভাবে তদারকি ও কার্যকর করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে গাড়িচাপায় জোড়া খুনের ঘটনায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


সিরাজগঞ্জে গাড়িচাপায় জোড়া খুনের ঘটনায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে গাড়ি চাপা দিয়ে জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশ বাবাসহ ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাড়াশ থানার হেমনগর গাটাবাড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, তাড়াশ উপজেলার হেমনগর কাটাবাড়ি গ্রামের আব্দুল ওহাব এবং তার ছেলে জাকির হোসেন।

সলঙ্গা থানার ওসি আলী আসলাম জানান, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ তাড়াশ থেকে রোকনুজ্জামান ও নাসির উদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে সিরাজগঞ্জ আদালতে যাচ্ছিলেন। হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানার হরিণচড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রোকনুজ্জামান ও নাসির উদ্দিনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর নিহতদের পরিবার আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।

এই মামলায় সোমবার রাতে আব্দুল ওহাব ও তার ছেলে জাকির হোসেনকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে মারা যান স্বামী, ভোরে রেললাইনে স্ত্রীর খণ্ডিত মরদেহ মিলল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


রাতে মারা যান স্বামী, ভোরে রেললাইনে স্ত্রীর খণ্ডিত মরদেহ মিলল

স্বামী রাতেই মারা গেছেন। স্ত্রীর কান্নাকাটি চলছিল মরদেহের পাশে। কিন্তু ভোরের দিকে বাড়ির নিকটবর্তী রেললাইনে স্ত্রীর খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের মতে, স্বামীর মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে রেললাইনে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্বামীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

নিহত হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) এবং স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫) পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন এবং নিত্য বালাও নিয়মিতভাবে স্বামীর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।

এই দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের শেষকৃত্য পাশাপাশি চিতায় সম্পন্ন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর স্ত্রীর কান্না চলছিল। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় থাকলেও মঙ্গলবার ভোরে তিনি পরিবারের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা। পরে সকালে আত্মীয়রা রেললাইনের দিকে হাঁটতে গিয়ে নিত্য বালার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে শুয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত নিত্য বালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা সারা রাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। মা বাবাকে বড্ড ভালোবাসতেন, এই শোক সইতে না পেরে ভোরে নিখোঁজ হন। পরে রেললাইনে আমরা মায়ের মরদেহ পাই।’

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কাকিমার (নিত্য বালা) কাকার প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে এসেছেন। কাকার বিয়োগ মেনে নিতে না পেরেই তিনি এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত্যুর পর পরিবার নিজ উদ্যোগে মরদেহ উদ্ধার করে সৎকারের ব্যবস্থা করে। ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশের অধিক্ষেত্রভুক্ত হওয়ায় তারা এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%