মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২২ পি.এম
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার ঘটনা সম্পর্কে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি যা এই ভাঙচুরকে সমর্থন করে বা ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যে’ ভাঙা হয়েছে বলে উল্লেখ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে প্রচারিত বক্তব্যকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ‘দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাতে ভাঙা হয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’—এমন বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। তবে তিনি কখনো এমন বক্তব্য দেননি।
তিনি উল্লেখ করেন, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তিনি স্থানীয় দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল, ধ্বংসস্তূপ দ্রুত অপসারণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্ব্যবস্থাপনা শুরু করা এবং মা ও শিশুদের টিকাদানসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়।
এজন্য তিনি ফ্যান, পর্দা, চেয়ার, টেবিল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।
বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তার দেওয়া বক্তব্য, বক্তব্যের ভিডিও এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তার নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
এ ধরনের অপতথ্য একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যকে বিকৃত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি করতে পারে।
তিনি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যারা ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তিনি অনুরোধ করেন, কোনো ফটোকার্ড, পোস্ট বা বক্তব্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করুন।
তুলির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কয়েকজন তার ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা সমস্যা দেখা দিলে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীলভাবে পরামর্শ দিতে হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’ তাই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা অপতথ্য না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, অন্যায়ভাবে ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে, দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সাধারণ মানুষের টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
জনস্বার্থ, মানবিকতা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনকারী ‘বিট পুলিশিং’ কার্যক্রম বর্তমানে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পুলিশের রাতের উপস্থিতি ও তদারকি কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন সেক্টরে, পাড়া-মহল্লায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং মাদক কেনাবেচার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানোর জন্য এবং অপরাধ দমনে উত্তরা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিটে একজন এসআই বা এএসআই-কে বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা, প্রতি ওয়ার্ডে বিট কার্যালয় স্থাপন করা, দেয়ালে বিট অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর টানানো এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে মাসিক উঠান বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব কার্যক্রম কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অধিকাংশ বিট কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকে অথবা সেখানে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায় না। সান্ধ্যকালীন টহল এবং পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যাওয়ায় অপরাধী চক্রগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে দিনদুপুরে মোবাইল ও স্বর্ণ ছিনতাই, বাসা-বাড়িতে চুরি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর নির্জন গলিগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বাড়ছে। বিশেষ করে রাত ৮টার পর উত্তরখানের বালুর মাঠ, প্রাইমারি স্কুল রোড, কাঁচ কুড়া বাজার এলাকা, দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচা বাজার, তুরাগের নলভোগ, দলিপাড়া, কামারপাড়া ও দিয়াবাড়ি এলাকা অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।
উত্তরার ৩, ৪, ৬, ৭, ১০ ও ১২ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, “আগে গলির মুখে বিট পুলিশের ফোন নম্বর লেখা থাকত এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বিট পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেন। কিন্তু এখন বিট পুলিশের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরাগের নলভোগ ও দলিপাড়ার বাসিন্দারা জানান, দিয়াবাড়িসহ এসব এলাকায় রাতের বেলা পর্যাপ্ত টহল না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উত্তরা এলাকার বিভিন্ন কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি কমে গেছে। দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত না করলে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
অভিযোগের বিষয়ে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের গতি বাড়াতে থানাভিত্তিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত বিট পুলিশিং সভা, রাত্রিকালীন টহল এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উত্তরার প্রতিটি থানা এলাকার অলিগলি ও সেক্টরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু থানাভিত্তিক কার্যক্রম নয়, বরং বিট পুলিশিংকে কঠোরভাবে তদারকি ও কার্যকর করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জে গাড়ি চাপা দিয়ে জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশ বাবাসহ ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাড়াশ থানার হেমনগর গাটাবাড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, তাড়াশ উপজেলার হেমনগর কাটাবাড়ি গ্রামের আব্দুল ওহাব এবং তার ছেলে জাকির হোসেন।
সলঙ্গা থানার ওসি আলী আসলাম জানান, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ তাড়াশ থেকে রোকনুজ্জামান ও নাসির উদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে সিরাজগঞ্জ আদালতে যাচ্ছিলেন। হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানার হরিণচড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রোকনুজ্জামান ও নাসির উদ্দিনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর নিহতদের পরিবার আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।
এই মামলায় সোমবার রাতে আব্দুল ওহাব ও তার ছেলে জাকির হোসেনকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বামী রাতেই মারা গেছেন। স্ত্রীর কান্নাকাটি চলছিল মরদেহের পাশে। কিন্তু ভোরের দিকে বাড়ির নিকটবর্তী রেললাইনে স্ত্রীর খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের মতে, স্বামীর মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে রেললাইনে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্বামীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নিহত হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) এবং স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫) পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন এবং নিত্য বালাও নিয়মিতভাবে স্বামীর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।
এই দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের শেষকৃত্য পাশাপাশি চিতায় সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর স্ত্রীর কান্না চলছিল। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় থাকলেও মঙ্গলবার ভোরে তিনি পরিবারের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা। পরে সকালে আত্মীয়রা রেললাইনের দিকে হাঁটতে গিয়ে নিত্য বালার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে শুয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত নিত্য বালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা সারা রাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। মা বাবাকে বড্ড ভালোবাসতেন, এই শোক সইতে না পেরে ভোরে নিখোঁজ হন। পরে রেললাইনে আমরা মায়ের মরদেহ পাই।’
প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কাকিমার (নিত্য বালা) কাকার প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে এসেছেন। কাকার বিয়োগ মেনে নিতে না পেরেই তিনি এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত্যুর পর পরিবার নিজ উদ্যোগে মরদেহ উদ্ধার করে সৎকারের ব্যবস্থা করে। ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশের অধিক্ষেত্রভুক্ত হওয়ায় তারা এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি নির্মাণ, তার বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা প্রদান করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, "আবু সাঈদের আত্মত্যাগ তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।" তার আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘আবু সাঈদ আমাদের অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগ তরুণদের মাঝে, সমাজের মাঝে এবং ছাত্র-জনতার মাঝে একটি আন্দোলনকে প্রজ্বালিত করেছিল। সেই আন্দোলনে সারা দেশের লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল।’
আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আবু সাঈদ গণ-অভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই।’ তার বাড়ির উন্নয়ন ও কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারীপ্রধানদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানির বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর চিন্তা করছে সরকার। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লং মার্চ করে কখনো সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন।’ একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ