প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনকারী ‘বিট পুলিশিং’ কার্যক্রম বর্তমানে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পুলিশের রাতের উপস্থিতি ও তদারকি কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন সেক্টরে, পাড়া-মহল্লায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং মাদক কেনাবেচার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানোর জন্য এবং অপরাধ দমনে উত্তরা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিটে একজন এসআই বা এএসআই-কে বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা, প্রতি ওয়ার্ডে বিট কার্যালয় স্থাপন করা, দেয়ালে বিট অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর টানানো এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে মাসিক উঠান বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব কার্যক্রম কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অধিকাংশ বিট কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকে অথবা সেখানে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায় না। সান্ধ্যকালীন টহল এবং পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যাওয়ায় অপরাধী চক্রগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে দিনদুপুরে মোবাইল ও স্বর্ণ ছিনতাই, বাসা-বাড়িতে চুরি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর নির্জন গলিগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বাড়ছে। বিশেষ করে রাত ৮টার পর উত্তরখানের বালুর মাঠ, প্রাইমারি স্কুল রোড, কাঁচ কুড়া বাজার এলাকা, দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচা বাজার, তুরাগের নলভোগ, দলিপাড়া, কামারপাড়া ও দিয়াবাড়ি এলাকা অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।
উত্তরার ৩, ৪, ৬, ৭, ১০ ও ১২ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, “আগে গলির মুখে বিট পুলিশের ফোন নম্বর লেখা থাকত এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বিট পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেন। কিন্তু এখন বিট পুলিশের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরাগের নলভোগ ও দলিপাড়ার বাসিন্দারা জানান, দিয়াবাড়িসহ এসব এলাকায় রাতের বেলা পর্যাপ্ত টহল না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উত্তরা এলাকার বিভিন্ন কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি কমে গেছে। দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত না করলে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
অভিযোগের বিষয়ে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের গতি বাড়াতে থানাভিত্তিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত বিট পুলিশিং সভা, রাত্রিকালীন টহল এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উত্তরার প্রতিটি থানা এলাকার অলিগলি ও সেক্টরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু থানাভিত্তিক কার্যক্রম নয়, বরং বিট পুলিশিংকে কঠোরভাবে তদারকি ও কার্যকর করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন