ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাফিজ সাইদ কাশ্মিরে ১০ হাজার সন্ত্রাসী পাঠিয়েছিলেন, পাকিস্তানি আলেমের দাবি


হাফিজ সাইদ কাশ্মিরে ১০ হাজার সন্ত্রাসী পাঠিয়েছিলেন, পাকিস্তানি আলেমের দাবি

পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও আলেম আল্লামা নাসির মাদনী দাবি করেছেন যে, লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাইদ জম্মু-কাশ্মিরে ১০ হাজার লস্কর যোদ্ধা পাঠিয়েছিলেন। গত ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাহাওয়ালনগরে আয়োজিত এক সমাবেশে নাসির মাদনী এ মন্তব্য করেন।

তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং এর প্রধান হাফিজ সাইদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের স্বীকৃতি প্রকাশ হলো।

লস্কর-ই-তৈয়বার রাজনৈতিক শাখা মারকাজি মুসলিম লীগ আয়োজিত ওই সমাবেশে নাসির মাদনী লস্কর প্রধান হাফিজ সাইদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সমাবেশে নাসির মাদনী ঘোষণা করেছেন যে, লস্কর-ই-তৈয়বা সফলভাবে কাশ্মীর উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। সন্ত্রাসী নেতা হাফিজ সাইদের প্রশংসা করে মাদনী তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করেছেন, যিনি তার মাতৃভূমি এবং কাশ্মীরী এজেন্ডার জন্য নিজের জীবন ও সবকিছু উৎসর্গ করেছেন।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

নাসির মাদনীর এই বিস্ফোরক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদনীর এই বক্তব্যটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদদে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং ভারতের বিরুদ্ধে প্রক্সি ওয়ার পরিচালনার আরো একটি বড় প্রমাণ।

আল্লামা নাসির মাদনী হচ্ছেন পাকিস্তানের একজন সুপরিচিত এবং আলোচিত ইসলামি বক্তা। তার প্রথাগত ধর্মীয় আলোচনার বাইরে নিজস্ব বাচনভঙ্গি, কৌতুকরস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপস্থিতির কারণে তিনি বেশ সমাদৃত ও বিতর্কিত।

তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ১ মিলিয়নেরও বেশি।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, নাসির মাদনীর সঙ্গে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জৈশ-ই-মোহাম্মদ-এর সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: আম্বানির শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড

আল-কায়েদা এবং তালেবানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কারণে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ লস্কর-ই-তৈয়বাকে নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাইদকে তাদের বৈশ্বিক সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। লস্কর প্রধান হাফিজ সাইদ ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত।

২৬/১১-এর মুম্বাই হামলাসহ ভারতের প্রধান প্রধান সন্ত্রাসী হামলার তদন্তেও তার নাম আবির্ভূত হয়। গত জুলাই মাসে, পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা মামলার প্রেক্ষিতে জম্মুর একটি আদালত সাইদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করেছে।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে হামলার ঘটনায় মুম্বাই পুলিশ হাফিজ সাইদসহ ৬ পাকিস্তানি আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুপস্থিতিতে বিচার’ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে ১০ জন সন্ত্রাসী সমুদ্রপথে মুম্বাইতে প্রবেশ করে। পরবর্তী চার দিন ধরে তারা শহরজুড়ে সমন্বিত হামলা চালায়, যার ফলে ১৬৬ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়। এই হামলা মুম্বাইয়ের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং প্রধান কিছু স্থানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: রোমে বোরকা নিষিদ্ধ ও বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা নির্ধারণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

পুলিশ লাইন্সে হামলা, আহত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


পুলিশ লাইন্সে হামলা, আহত ৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইন্সে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান চলাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণরূপে পণ্ড হয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১১টার সময় পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভিতরে।

এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে মাদরাসার অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। অন্যদিকে, হামলার প্রথম দিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। সব মিলিয়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনার পর গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের ভিতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। এসময় উচ্চস্বরে গান বাজানো হলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা গান কমাতে বলে।

এ নিয়ে পুলিশ ও মাদরাসার ছাত্রদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভিতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালাতে থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।

পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্যরা আলোচনা করতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসেন। মাদরাসার ছাত্ররা পুলিশ লাইনে আর কখনও উচ্চস্বরে গান না বাজানোর জন্য দাবি জানান এবং ছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের বিচার চেয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

 

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, যদি কেউ অতি উৎসাহী হয়ে কিছু করে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দামেস্কে প্রতিবন্ধীদের কোরআন শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


দামেস্কে প্রতিবন্ধীদের কোরআন শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ

সিরিয়ার দামেস্কের ধর্মীয় ওয়াকফ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দৃষ্টি, শ্রবণ, বাক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পবিত্র কোরআন শেখানোর, মুখস্থ করার এবং তিলাওয়াতের সুযোগ বৃদ্ধি করতে নতুন একটি বিশেষায়িত প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয় দামেস্কের আল-তিজারা এলাকার আল-কুসুর মসজিদে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আব্দুল করিম আল-রিফাই এবং ধর্মীয় ওয়াকফমন্ত্রী মুহাম্মদ আবু আল-খায়ের শুকরি।

ধর্মীয় ওয়াকফ অধিদপ্তর জানায়, সমাজের কোনো মানুষ যেন প্রতিবন্ধকতার কারণে কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে না থাকেন—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তৈরি করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পবিত্র কোরআন শিখতে, মুখস্থ করতে ও সঠিকভাবে তিলাওয়াত করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া, ধর্মীয় ও কোরআনিক শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সমাজে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি দৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, আচরণ এবং শিক্ষাদানের জন্য দক্ষ বিশেষজ্ঞ শিক্ষক তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে। প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের দ্বারা তাদের জন্য উপযোগী শিক্ষা-পদ্ধতি চালু করা হবে, যাতে তারা ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

দামেস্কের ধর্মীয় ওয়াকফ অধিদপ্তরের এই উদ্যোগগুলো ধর্মীয় শিক্ষায় প্রতিবন্ধী এবং সাধারণ—সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা এবং কোরআনের শিক্ষার্থীদের জন্য সৃজনশীল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষাকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক এবং অংশগ্রহণমূলক করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানুষের হৃদয়কে আলোকিত করে। সেই আলো থেকে কোনো ব্যক্তি যেন প্রতিবন্ধকতার কারণে বঞ্চিত না হয়—এই আশাব্যঞ্জক উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

সূত্র : সৌদি প্রেস এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ঢাকায় মালয়েশিয়া হাইকমিশনার

২০২৯ সালের মধ্যে হালাল বাজার প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


২০২৯ সালের মধ্যে হালাল বাজার প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান জানিয়েছেন, ঢাকায় তিনি বলেছেন যে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হালাল বাজারের আকার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে এই বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম জনগণের সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াও গুণগতমান ও নিরাপদ পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ভোক্তাদের বাড়তি আগ্রহ এ বাজারের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি স্বাগত বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বিডা, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শুহাদা ওসমান বক্তব্যে বাংলাদেশে হালাল শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করে জানান, বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি এ খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রেখেছেন।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, হালাল শুধু ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি খাদ্য ও পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী, পর্যটন ও আতিথেয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থায়ন, পোশাকসহ বিস্তৃত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। গুণগতমান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, নৈতিকতা ও আস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া ভোক্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হালাল পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার দাবি করেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জন্য এ বিশাল বাজারে বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু হালাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ নয়, বরং ব্যবসা ও শিল্পকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। এ কারণে ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ বার্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পের অভিজ্ঞতা খেয়াল রেখে শুহাদা বলেন, একটি সফল হালাল শিল্প গড়ে তুলতে শুধু সনদ যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী সরকারি নীতি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সনদ, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে মালয়েশিয়া একটি শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে।

শুহাদা ওসমান বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, বৃহৎ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, গতিশীল বেসরকারি খাত ও উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশের হালাল শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।

শুহাদা ওসমান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সনদ ও মান নির্ধারণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবাকে শুধু মালয়েশিয়ার বাজারে নয়, বরং বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশকে শুধুমাত্র ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার হিসেবে দেখলে হবে না, বরং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির জন্য পণ্য উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা উচিত।

মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেসে (মিহাস) বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় মিহাস অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যে সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

শুহাদা ওসমান বলেন, মিহাস ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হালাল ব্যবসা, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য এটি পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা ও পরিবেশক খোঁজা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, অংশীদারত্ব তৈরি এবং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি বিশাল সুযোগ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন ধারণা, যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরি হবে। হালাল শিল্প দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাঠালিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাজীব তালুকদার

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


কাঠালিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আমুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে বনজ, ফলজ ও ঔষধি প্রজাতির সহস্রাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাপস কুমার, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকন এবং সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর।
এছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক আশিকুর রহমান আশিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন মিয়াজী, যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল মিঠু, যুগ্ম আহ্বায়ক সানজিদ সানি, সদস্য আবুল ফরাজি ও সদস্য সচিব মারুফ বিল্লাহ সহ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।
কর্মসূচি চলাকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং সবুজায়ন বাড়াতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।" তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হওয়া জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%