প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান জানিয়েছেন, ঢাকায় তিনি বলেছেন যে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হালাল বাজারের আকার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে এই বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম জনগণের সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াও গুণগতমান ও নিরাপদ পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ভোক্তাদের বাড়তি আগ্রহ এ বাজারের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি স্বাগত বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বিডা, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শুহাদা ওসমান বক্তব্যে বাংলাদেশে হালাল শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করে জানান, বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি এ খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রেখেছেন।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, হালাল শুধু ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি খাদ্য ও পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী, পর্যটন ও আতিথেয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থায়ন, পোশাকসহ বিস্তৃত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। গুণগতমান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, নৈতিকতা ও আস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া ভোক্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হালাল পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার দাবি করেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জন্য এ বিশাল বাজারে বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু হালাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ নয়, বরং ব্যবসা ও শিল্পকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। এ কারণে ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ বার্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পের অভিজ্ঞতা খেয়াল রেখে শুহাদা বলেন, একটি সফল হালাল শিল্প গড়ে তুলতে শুধু সনদ যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী সরকারি নীতি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সনদ, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে মালয়েশিয়া একটি শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে।
শুহাদা ওসমান বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, বৃহৎ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, গতিশীল বেসরকারি খাত ও উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশের হালাল শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
শুহাদা ওসমান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সনদ ও মান নির্ধারণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবাকে শুধু মালয়েশিয়ার বাজারে নয়, বরং বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশকে শুধুমাত্র ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার হিসেবে দেখলে হবে না, বরং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির জন্য পণ্য উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা উচিত।
মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেসে (মিহাস) বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় মিহাস অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যে সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
শুহাদা ওসমান বলেন, মিহাস ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হালাল ব্যবসা, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য এটি পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা ও পরিবেশক খোঁজা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, অংশীদারত্ব তৈরি এবং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি বিশাল সুযোগ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন ধারণা, যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরি হবে। হালাল শিল্প দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন